ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

মিনিয়াপলিসে মার্কিন নাগরিক হত্যার পক্ষে সাফাই ট্রাম্প প্রশাসনের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। রবিবার মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টির নিহত হওয়ার ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসন সমর্থন জানিয়েছে। এ ঘটনার ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেট্টি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছিলেন এবং তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালান। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে এই বর্ণনার সঙ্গে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিডিও দেখিয়ে বলেছেন, প্রেট্টির হাতে বন্দুক নয়। শুধু একটি মোবাইল ফোন ছিল। কর্মকর্তারা তাকে ধস্তাধস্তির পর মাটিতে ফেলে কাছ থেকে গুলি করেন।

রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ৩৭ বছর বয়সী প্রেট্টির হাতে ছিল একটি মোবাইল ফোন। তিনি ফেডারেল এজেন্টদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাওয়া কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে এজেন্টরা তাকে পিপার স্প্রে করে ধরে ফেলেন এবং ধস্তাধস্তির মধ্যে মাটিতে নামিয়ে দেন। তখন একজন এজেন্ট তার কোমর থেকে একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করে সরে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেক কর্মকর্তা প্রেট্টির পিঠের দিকে বন্দুক তাক করে দ্রুত চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।

আইসের সাবেক বাল্টিমোর ফিল্ড অফিস প্রধান ড্যারিয়াস রিভস রয়টার্সকে বলেছেন, ঘটনাস্থলে ফেডারেল এজেন্টদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, দলটির প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা একে অপরের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করছিল না।

মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেট্টির কাছে জনসমক্ষে গোপনে অস্ত্র বহনের বৈধ রাজ্য অনুমতি ছিল। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নজিরবিহীন অভিযানের অংশ হিসেবে শহরে হাজার হাজার সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করেছেন। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারও তাদের রাজ্য থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছেন, এই অভিযান সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, মিনিয়াপোলিসে চলতি মাসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়া দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক হলেন প্রেট্টি। এর আগে মিনেসোটার রেনি গুড নামে এক নারী একইভাবে নিহত হন। এ ছাড়া চলতি মাসেই অভিবাসন বন্দিশালাগুলোতে অন্তত ছয়জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

মিনিয়াপলিসে মার্কিন নাগরিক হত্যার পক্ষে সাফাই ট্রাম্প প্রশাসনের

আপডেট সময় ১২:১৩:৫৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসনবিরোধী অভিযানে নিহতের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে। রবিবার মিনিয়াপোলিসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে মার্কিন নাগরিক অ্যালেক্স প্রেট্টির নিহত হওয়ার ঘটনাকে ট্রাম্প প্রশাসন সমর্থন জানিয়েছে। এ ঘটনার ফলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ফেডারেল কর্মকর্তাদের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।

ট্রাম্প প্রশাসনের কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেট্টি কর্মকর্তাদের ওপর হামলা করেছিলেন এবং তারা আত্মরক্ষার জন্য গুলি চালান। তবে প্রত্যক্ষদর্শীদের ভিডিওতে এই বর্ণনার সঙ্গে স্পষ্ট ভিন্নতা দেখা গেছে।

অন্যদিকে, প্রত্যক্ষদর্শীরা ভিডিও দেখিয়ে বলেছেন, প্রেট্টির হাতে বন্দুক নয়। শুধু একটি মোবাইল ফোন ছিল। কর্মকর্তারা তাকে ধস্তাধস্তির পর মাটিতে ফেলে কাছ থেকে গুলি করেন।

রয়টার্স যাচাইকৃত ভিডিওতে দেখা যায়, ৩৭ বছর বয়সী প্রেট্টির হাতে ছিল একটি মোবাইল ফোন। তিনি ফেডারেল এজেন্টদের ধাক্কায় মাটিতে পড়ে যাওয়া কয়েকজন বিক্ষোভকারীকে সহায়তা করতে এগিয়ে যান। একপর্যায়ে এজেন্টরা তাকে পিপার স্প্রে করে ধরে ফেলেন এবং ধস্তাধস্তির মধ্যে মাটিতে নামিয়ে দেন। তখন একজন এজেন্ট তার কোমর থেকে একটি হ্যান্ডগান উদ্ধার করে সরে যান। কিছুক্ষণের মধ্যেই আরেক কর্মকর্তা প্রেট্টির পিঠের দিকে বন্দুক তাক করে দ্রুত চার রাউন্ড গুলি ছোড়েন। এরপর আরও গুলির শব্দ শোনা যায়।

আইসের সাবেক বাল্টিমোর ফিল্ড অফিস প্রধান ড্যারিয়াস রিভস রয়টার্সকে বলেছেন, ঘটনাস্থলে ফেডারেল এজেন্টদের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তার মতে, দলটির প্রতিক্রিয়া থেকেই স্পষ্ট বোঝা যায়, তারা একে অপরের সঙ্গে যথাযথভাবে যোগাযোগ করছিল না।

মিনেসোটা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রেট্টির কাছে জনসমক্ষে গোপনে অস্ত্র বহনের বৈধ রাজ্য অনুমতি ছিল। ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট এটি একটি সাংবিধানিক অধিকার হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একটি নজিরবিহীন অভিযানের অংশ হিসেবে শহরে হাজার হাজার সশস্ত্র ও মুখোশধারী ফেডারেল এজেন্ট মোতায়েন করেছেন। মিনেসোটার ডেমোক্র্যাট গভর্নর টিম ওয়ালজ আবারও তাদের রাজ্য থেকে প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন এবং ইতিমধ্যে ফেডারেল আদালতে অভিযোগ দাখিল করেছেন, এই অভিযান সাংবিধানিক সীমা লঙ্ঘন করছে বলে তিনি দাবি করেছেন।

উল্লেখ্য, মিনিয়াপোলিসে চলতি মাসে ফেডারেল এজেন্টের গুলিতে নিহত হওয়া দ্বিতীয় মার্কিন নাগরিক হলেন প্রেট্টি। এর আগে মিনেসোটার রেনি গুড নামে এক নারী একইভাবে নিহত হন। এ ছাড়া চলতি মাসেই অভিবাসন বন্দিশালাগুলোতে অন্তত ছয়জন অভিবাসীর মৃত্যু হয়েছে, যাকে অস্বাভাবিক বলছেন সংশ্লিষ্টরা।