ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল Logo নাসিকের হাজার কোটির বাজেট ঘোষণা করলেন সাখাওয়াত Logo আপনারা হাসিনার চেয়ে কম ফ্যাসিস্ট, কম সন্ত্রাসী: এমপি আল আমিন Logo র‍্যাবের ছায়া দেখলেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হতো: এমপি কালাম Logo বিডিএস উইং’-এর ব্যানারে ডা. হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

নিয়মিত ক্রিকেটারদের ছাড়াই নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশ সফরে এলেও ম্যাচের ফল ছিল চমকপ্রদ। স্বাগতিক বাংলাদেশ দল যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তা ছিল বিস্ময়কর! কিছুটা ধীরগতির উইকেটে কিউইদের ২৪৭ রানে আটকে রেখে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ।

শুরুতে লক্ষ্যটা খুব কঠিন মনে না হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়তে থাকে। সেই চাপ আর সামলাতে পারেনি টাইগাররা।

নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ এবং বাংলাদেশের ব্যাটারদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। আর তাতেই ২৬ রানের হার দিয়েই শুরু হলো একদিনের ম্যাচের সিরিজ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দেয় সফরকারীরা।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২১ রানের মাথায় পরপর দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন কিউই পেসার নাথান স্মিথ, যদিও সেটি রুখে দেন লিটন দাস। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম (২) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (০) রানে ফেরেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। তাদের ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটিতে চাপ কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা সাইফ হঠাৎই ছন্দ হারান। পাকিস্তান সিরিজে ব্যর্থ এই ওপেনারের জন্য ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ৭৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন।

সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তাওহীদ হৃদয়। নতুন সতীর্থকে পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন। ৬৮ বলে ৪৬ রান করে আউট হন তিনি।

এরপর আফিফ হোসেন নামলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই কিউই বোলারদের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তার ধীরগতির ইনিংসে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়ে। পরে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তবে তার আগে তাওহীদের সঙ্গে ৭৯ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে তাওহীদের অবদান ছিল ৩০ বলে ২৪ রান।

আফিফের ইনিংসের পরই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দ্রুত বিদায় নিলে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেষ দিকে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান তাওহীদ হৃদয়। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। সেই চাপে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৬০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২২১ রানে।

বাংলাদেশকে ২২১ রানে গুটিয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড শুধু বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়েও ছিল দারুণ। পুরো ম্যাচে তারা নিয়েছে অসাধারণ কিছু ক্যাচ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ব্লেয়ার টিকনার। নাথান স্মিথ নেন তিনটি উইকেট। এই দুই পেসারের কাছেই মূলত ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ওপেনার নিক কেলির উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমানের চোটে সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলাম শুরুতেই উইকেট নিয়ে চাপ তৈরি করেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর আর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি শরিফুল। এই ম্যাচেও শুরুতে একাদশে ছিলেন না, তবে ম্যাচের আগে অনুশীলনে মোস্তাফিজ চোট পাওয়ায় সুযোগ পান তিনি।

সুযোগ পেয়ে দারুণ বোলিং করেন এই পেসার। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। করেন ৪২টি ডট বল। পাওয়ার প্লেতে ৪ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ মাত্র ৮ রান দেন তিনি।

মাঝের ওভারেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন শরিফুল। তার বোলিংয়ে হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম ও ডিন ফক্সক্রফটরা স্বচ্ছন্দ হতে পারেননি।

মূলত শরিফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই নিউজিল্যান্ড ২৪৭ রানে থামে। যদিও উইল ইয়ংয়ের ক্যাচটি স্লিপে সাইফ হাসান ধরতে পারলে আরও কম রানে থামানো যেত কিউইদের। জীবন পেয়ে ইয়ং করেন ৩০ রান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন হেনরি নিকোলস। ডিন ফক্সক্রফট করেন ৫৯ রান। ৫৮ বলে ৫৯ রানের এই ইনিংসের পর বল হাতেও নেন একটি উইকেট। এই পারফরম্যান্সেই ম্যাচসেরা হন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুলের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা নেন একটি করে উইকেট।

আপলোডকারীর তথ্য

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ

ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ

আপডেট সময় ১২:০৩:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নিয়মিত ক্রিকেটারদের ছাড়াই নিউজিল্যান্ড দল বাংলাদেশ সফরে এলেও ম্যাচের ফল ছিল চমকপ্রদ। স্বাগতিক বাংলাদেশ দল যেভাবে ভেঙে পড়েছে, তা ছিল বিস্ময়কর! কিছুটা ধীরগতির উইকেটে কিউইদের ২৪৭ রানে আটকে রেখে শুরুটা ভালোই করেছিল বাংলাদেশ।

শুরুতে লক্ষ্যটা খুব কঠিন মনে না হলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে চাপ বাড়তে থাকে। সেই চাপ আর সামলাতে পারেনি টাইগাররা।

নিউজিল্যান্ডের বোলিং আক্রমণ এবং বাংলাদেশের ব্যাটারদের ছন্নছাড়া বোলিংয়ের সামনে পুরোপুরি ভেঙে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। আর তাতেই ২৬ রানের হার দিয়েই শুরু হলো একদিনের ম্যাচের সিরিজ।

মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টস জিতে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় নিউজিল্যান্ড। আগে ব্যাটিং করে বাংলাদেশকে ২৪৮ রানের লক্ষ্য দেয় সফরকারীরা।

জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। ২১ রানের মাথায় পরপর দুই উইকেট হারায় স্বাগতিকরা। হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও তৈরি করেন কিউই পেসার নাথান স্মিথ, যদিও সেটি রুখে দেন লিটন দাস। এর আগে তানজিদ হাসান তামিম (২) ও নাজমুল হোসেন শান্ত (০) রানে ফেরেন।

শুরুর ধাক্কা সামলে দলকে টেনে তোলেন সাইফ হাসান ও লিটন দাস। তাদের ১১৬ বলে ৯৩ রানের জুটিতে চাপ কাটিয়ে ওঠে বাংলাদেশ। তবে দায়িত্বশীল ব্যাটিং করা সাইফ হঠাৎই ছন্দ হারান। পাকিস্তান সিরিজে ব্যর্থ এই ওপেনারের জন্য ম্যাচটি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ৭৬ বলে ৫৭ রান করে আউট হন।

সাইফের বিদায়ের পর ক্রিজে আসেন তাওহীদ হৃদয়। নতুন সতীর্থকে পেয়েও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি লিটন। ৬৮ বলে ৪৬ রান করে আউট হন তিনি।

এরপর আফিফ হোসেন নামলে চাপে পড়ে বাংলাদেশ। শুরু থেকেই কিউই বোলারদের বিপক্ষে স্বচ্ছন্দ ছিলেন না এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তার ধীরগতির ইনিংসে স্কোরবোর্ডে চাপ বাড়ে। পরে বড় শট খেলতে গিয়ে আউট হন তিনি। তবে তার আগে তাওহীদের সঙ্গে ৭৯ বলে ৫২ রানের জুটি গড়েন। এই জুটিতে তাওহীদের অবদান ছিল ৩০ বলে ২৪ রান।

আফিফের ইনিংসের পরই মূলত ম্যাচ থেকে ছিটকে পড়ে বাংলাদেশ। এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ ও রিশাদ হোসেন দ্রুত বিদায় নিলে পরাজয় নিশ্চিত হয়ে যায়।

শেষ দিকে এক প্রান্ত আগলে লড়াই চালিয়ে যান তাওহীদ হৃদয়। শেষ দুই ওভারে প্রয়োজন ছিল ৩৩ রান। সেই চাপে শেষ ব্যাটার হিসেবে আউট হওয়ার আগে ৬০ বলে ২ চার ও ২ ছক্কায় ৫৫ রান করেন তিনি। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ২২১ রানে।

বাংলাদেশকে ২২১ রানে গুটিয়ে দিতে নিউজিল্যান্ড শুধু বোলিং নয়, ফিল্ডিংয়েও ছিল দারুণ। পুরো ম্যাচে তারা নিয়েছে অসাধারণ কিছু ক্যাচ। দলের হয়ে সর্বোচ্চ চারটি উইকেট নেন ব্লেয়ার টিকনার। নাথান স্মিথ নেন তিনটি উইকেট। এই দুই পেসারের কাছেই মূলত ধসে পড়ে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ।

এর আগে টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে পাওয়ার প্লেতেই ওপেনার নিক কেলির উইকেট হারায় নিউজিল্যান্ড। মোস্তাফিজুর রহমানের চোটে সুযোগ পাওয়া শরিফুল ইসলাম শুরুতেই উইকেট নিয়ে চাপ তৈরি করেন।

২০২৪ সালের নভেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজ সিরিজের পর আর ওয়ানডে খেলার সুযোগ পাননি শরিফুল। এই ম্যাচেও শুরুতে একাদশে ছিলেন না, তবে ম্যাচের আগে অনুশীলনে মোস্তাফিজ চোট পাওয়ায় সুযোগ পান তিনি।

সুযোগ পেয়ে দারুণ বোলিং করেন এই পেসার। ১০ ওভারে ২ মেডেনসহ ২৭ রান দিয়ে নেন ২ উইকেট। করেন ৪২টি ডট বল। পাওয়ার প্লেতে ৪ ওভার বোলিং করে একটি মেডেনসহ মাত্র ৮ রান দেন তিনি।

মাঝের ওভারেও একই ধারাবাহিকতা ধরে রাখেন শরিফুল। তার বোলিংয়ে হেনরি নিকোলস, টম ল্যাথাম ও ডিন ফক্সক্রফটরা স্বচ্ছন্দ হতে পারেননি।

মূলত শরিফুলের নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়েই নিউজিল্যান্ড ২৪৭ রানে থামে। যদিও উইল ইয়ংয়ের ক্যাচটি স্লিপে সাইফ হাসান ধরতে পারলে আরও কম রানে থামানো যেত কিউইদের। জীবন পেয়ে ইয়ং করেন ৩০ রান।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেন হেনরি নিকোলস। ডিন ফক্সক্রফট করেন ৫৯ রান। ৫৮ বলে ৫৯ রানের এই ইনিংসের পর বল হাতেও নেন একটি উইকেট। এই পারফরম্যান্সেই ম্যাচসেরা হন তিনি।

বাংলাদেশের হয়ে শরিফুলের পাশাপাশি তাসকিন আহমেদ ও রিশাদ হোসেন নেন দুটি করে উইকেট। মেহেদী হাসান মিরাজ ও নাহিদ রানা নেন একটি করে উইকেট।