ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল Logo নাসিকের হাজার কোটির বাজেট ঘোষণা করলেন সাখাওয়াত Logo আপনারা হাসিনার চেয়ে কম ফ্যাসিস্ট, কম সন্ত্রাসী: এমপি আল আমিন Logo র‍্যাবের ছায়া দেখলেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হতো: এমপি কালাম Logo বিডিএস উইং’-এর ব্যানারে ডা. হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

উচ্ছেদ অভিযানে সক্রিয় (নাসিক) : পুরনো চেহেরায় ফিরতে মরিয়া হকাররা

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (জসিম উদ্দিন) : নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড থেকে ডিআইটি, কালিবাজার, মীরজুমলা রোডে পথচারিদের চলাচলের অধিকাংশ জায়গা দখল নিয়ে বসেছিলেন হকাররা। তাই এই চলাচলের সড়ক গুলোতে রীতিমতো ভোগান্তিতে পরতে হতো। আর এ নিয়ে শুরু হতো বিশৃঙ্খলা ও নানা জটিলতা। এমনকি মৃত্যুর মতো ঘটনা। এদিকে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চালালেও স্হায়ী ভাবে তা সম্ভব হয় নাই। একদিকে দখল মুক্ত অন্যদিকে দখল হওয়ার প্রবনতা। সংশ্লিষ্টদের দায়সারা অভিযান ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া ও প্রশাসনের উদাসীনতা এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা থাকলে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল মুক্ত করা সম্ভব।
এদিকে বারবার সরকার বদল হলেও মুক্ত হয়নি ফুটপাত। ফলে দিন দিন শহরে বসবাসের যোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখল মুক্ত করা সম্ভব নয়। ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হবে। তাছাড়া ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হলে হকার উচ্ছেদের আগে তাদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এছাড়া আইনি কঠোরতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বারবার ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও আবার দখলদের কবলে চলে যাচ্ছে যা চোর-পুলিশ খেলার পথে পরিস্থিতি তৈরি করছে।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী গত মাসের ১৩ই এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড, চাষাড়ার জিয়া হল, ডিআইটি, ২ নং রেল গেইট, কালিবাজার সহ বেশ কিছু পয়েন্টে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষদের সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। এই অভিযানে তিনি সফল ও হয়েছেন। তার সফলতায় পথচারিরা এখন নির্বিগ্নে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারছে। কিন্তু কতিপয় কিছু অসাধু লোকদের যোগসাজসে কিছু কিছু সময় ফুটপাতের জায়গা আগের রূপে ফিরতে চায়।
এদিকে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘোষণা কোনো ভাবেই ফুটপাত দখল করা যাবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে প্রয়োজনে দখল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও এমপি পুএ আশা, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজ একই সুরে তাল মিলিয়েছেন। তাদের ভাষ্য যে কোন উপায়ে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। কোনভাবেই নগরবাসির চলাচলের জায়গায় ফুটপাতে বসতে দেওয়া যাবে না।
এদিকে চাষাড়া – কালিবাজার সহ কিছু কিছু স্হানে হকাররা আগের মতই ফুটপাত দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা ফুটপাত দখল নিতে প্রতিনিয়ত আন্দোলন করেছেন। এমনকি হকাররা পূর্বের রুপে ফিরতে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের দাবী হয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন না হয় ফুটপাতে বসতে দেন।
জানাযায়, অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় হকাররা বারবার ফুটপাতে ফিরে আসছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কিছু অসাধু সেন্ডিকেট।অভিযোগ উঠেছে ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে পুলিশের অসাধু সদস্যরা। এছাড়াও চাঁদাবাজি ও স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে ফুটপাত পুরোপুরি দখল মুক্ত করা যাচ্ছে না। তাই ফুটপাত দখল মুক্ত করা নারায়ণগঞ্জ বাসির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। হকারদের দাবি বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বারবার তাদের ফুটপাতে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ফুটপাতের দোকানটি তাদের পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস তাদের মধ্যে অনেকেই শহরে এবং গ্রামে একাধিক পরিবারের খরচ বহন করতে হয়। ফলে হঠাৎ করে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একটি বড় জনগোষ্ঠীর উপর। আবার ফুটপাত থেকে তাদের সরিয়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন কোন জায়গায় ব্যবসা করা হয় না। চাষাড়া এলাকার হকার জামাল বলেন, আমরা সমিতি ও ব্যাংক লোন নিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছি। টাকা-পয়সা থাকলে ফুটপাতে বসতাম না। আমাদের হয় এখানে বসতে দেন নাহয় বিকল্প ব্যবস্থা করে দেন। এদিকে পথচারি আলমগীর বলেন, ফুটপাতে হাঁটার জায়গা ছিলো না। এখন ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি মচকাবো কিন্তু ভাঙ্গবো না। হকার উচ্ছেদ কোন ব্যক্তি স্বার্থে করা হয় নাই। একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে এই হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযান প্রতিনিয়ত চলমান থাকবে। কোন অপশক্তি হকার উচ্ছেদ অভিযান থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আমি জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব পালন করে আসছি।

আপলোডকারীর তথ্য

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ

উচ্ছেদ অভিযানে সক্রিয় (নাসিক) : পুরনো চেহেরায় ফিরতে মরিয়া হকাররা

আপডেট সময় ১২:৪০:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (জসিম উদ্দিন) : নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড থেকে ডিআইটি, কালিবাজার, মীরজুমলা রোডে পথচারিদের চলাচলের অধিকাংশ জায়গা দখল নিয়ে বসেছিলেন হকাররা। তাই এই চলাচলের সড়ক গুলোতে রীতিমতো ভোগান্তিতে পরতে হতো। আর এ নিয়ে শুরু হতো বিশৃঙ্খলা ও নানা জটিলতা। এমনকি মৃত্যুর মতো ঘটনা। এদিকে সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ার প্রক্রিয়া চালালেও স্হায়ী ভাবে তা সম্ভব হয় নাই। একদিকে দখল মুক্ত অন্যদিকে দখল হওয়ার প্রবনতা। সংশ্লিষ্টদের দায়সারা অভিযান ও রাজনৈতিক নেতাদের ছত্রছায়া ও প্রশাসনের উদাসীনতা এমনটা হচ্ছে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। তারা বলছেন রাজনৈতিক নেতাদের সদিচ্ছা ও সংশ্লিষ্টদের তৎপরতা থাকলে ফুটপাত স্থায়ীভাবে দখল মুক্ত করা সম্ভব।
এদিকে বারবার সরকার বদল হলেও মুক্ত হয়নি ফুটপাত। ফলে দিন দিন শহরে বসবাসের যোগ্যতা হারিয়ে যাচ্ছে। তাই লোক দেখানো অভিযান চালিয়ে ফুটপাত দখল মুক্ত করা সম্ভব নয়। ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনা করে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হবে। তাছাড়া ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে হলে হকার উচ্ছেদের আগে তাদের পূর্ণবাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়াও ফুটপাতে চাঁদাবাজি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করতে হবে। এছাড়া আইনি কঠোরতা ও সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি করতে হবে। এদিকে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন বারবার ফুটপাত উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করলেও আবার দখলদের কবলে চলে যাচ্ছে যা চোর-পুলিশ খেলার পথে পরিস্থিতি তৈরি করছে।
জানাগেছে, নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান তার ঘোষণাপত্র অনুযায়ী গত মাসের ১৩ই এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ নগরীর বিবি রোড, চাষাড়ার জিয়া হল, ডিআইটি, ২ নং রেল গেইট, কালিবাজার সহ বেশ কিছু পয়েন্টে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে নারায়ণগঞ্জের সর্বস্তরের মানুষদের সাথে নিয়ে অভিযান চালিয়েছেন। এই অভিযানে তিনি সফল ও হয়েছেন। তার সফলতায় পথচারিরা এখন নির্বিগ্নে ফুটপাত দিয়ে হাঁটতে পারছে। কিন্তু কতিপয় কিছু অসাধু লোকদের যোগসাজসে কিছু কিছু সময় ফুটপাতের জায়গা আগের রূপে ফিরতে চায়।
এদিকে ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খানের ঘোষণা কোনো ভাবেই ফুটপাত দখল করা যাবে না। ফুটপাত দখল মুক্ত রাখতে প্রয়োজনে দখল দারিদ্র্যের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এছাড়াও এমপি পুএ আশা, সাংবাদিক ও সুশিল সমাজ একই সুরে তাল মিলিয়েছেন। তাদের ভাষ্য যে কোন উপায়ে ফুটপাত দখলমুক্ত রাখতে হবে। কোনভাবেই নগরবাসির চলাচলের জায়গায় ফুটপাতে বসতে দেওয়া যাবে না।
এদিকে চাষাড়া – কালিবাজার সহ কিছু কিছু স্হানে হকাররা আগের মতই ফুটপাত দখল নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে। এমনকি তারা ফুটপাত দখল নিতে প্রতিনিয়ত আন্দোলন করেছেন। এমনকি হকাররা পূর্বের রুপে ফিরতে সিটি কর্পোরেশন ও জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। তাদের দাবী হয় কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেন না হয় ফুটপাতে বসতে দেন।
জানাযায়, অল্প পুঁজিতে বেশি লাভের আশায় হকাররা বারবার ফুটপাতে ফিরে আসছে। আর এ সুযোগ কাজে লাগাতে চায় কিছু অসাধু সেন্ডিকেট।অভিযোগ উঠেছে ফুটপাত থেকে চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত রয়েছে পুলিশের অসাধু সদস্যরা। এছাড়াও চাঁদাবাজি ও স্বার্থন্বেষী মহলের কারণে ফুটপাত পুরোপুরি দখল মুক্ত করা যাচ্ছে না। তাই ফুটপাত দখল মুক্ত করা নারায়ণগঞ্জ বাসির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ। হকারদের দাবি বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় বারবার তাদের ফুটপাতে ব্যবসা করতে হচ্ছে। ফুটপাতের দোকানটি তাদের পরিবারের জীবিকার একমাত্র উৎস তাদের মধ্যে অনেকেই শহরে এবং গ্রামে একাধিক পরিবারের খরচ বহন করতে হয়। ফলে হঠাৎ করে তাদের উপার্জনের পথ বন্ধ হয়ে গেলে এর নেতিবাচক প্রভাব পড়বে একটি বড় জনগোষ্ঠীর উপর। আবার ফুটপাত থেকে তাদের সরিয়ে দিলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নতুন কোন জায়গায় ব্যবসা করা হয় না। চাষাড়া এলাকার হকার জামাল বলেন, আমরা সমিতি ও ব্যাংক লোন নিয়ে এই ব্যবসা চালিয়ে আসছি। টাকা-পয়সা থাকলে ফুটপাতে বসতাম না। আমাদের হয় এখানে বসতে দেন নাহয় বিকল্প ব্যবস্থা করে দেন। এদিকে পথচারি আলমগীর বলেন, ফুটপাতে হাঁটার জায়গা ছিলো না। এখন ফুটপাত দখলমুক্ত হওয়ায় নির্বিঘ্নে চলাফেরা করতে পারে।
এ বিষয়ে সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান বলেন, আমি মচকাবো কিন্তু ভাঙ্গবো না। হকার উচ্ছেদ কোন ব্যক্তি স্বার্থে করা হয় নাই। একটি সুন্দর নগরী গড়ে তুলতে এই হকার উচ্ছেদ করা হয়েছে। এই উচ্ছেদ অভিযান প্রতিনিয়ত চলমান থাকবে। কোন অপশক্তি হকার উচ্ছেদ অভিযান থেকে পথভ্রষ্ট করতে পারবে না। আমি জনগণের স্বার্থে এই দায়িত্ব পালন করে আসছি।