ঢাকা , সোমবার, ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ: এইচএসসিতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫ Logo শহরে বেপরোয়া উৎসব বাসের চাপায় রিকশাচালক নিহত, আহত ৩ Logo গণঅভ্যুত্থানের পর রাজনীতি কি আবার পুরোনো পথে? Logo নারায়ণগঞ্জ সংবাদকর্মী কল্যাণ সমিতি’র আলোচনা সভা, অভিষেক ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত Logo নারায়ণগঞ্জে হেভেন কম্পিউটারের বিরুদ্ধে ক্রেতা হয়রানি ও প্রতারণার অভিযোগ Logo রূপগঞ্জে মোবারক হোসেন মোল্লা’র উপর সন্ত্রাসী হামলা ; সবুজ মিয়া গংদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ Logo সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo ‘আবেদন ছাড়াই’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, সাবেক ইউএনও নাহিদা বারিক ওএসডি Logo পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী-কারবারিসহ গ্রেপ্তার ১৪০ Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা

শরীয়তপুরের ঐতিহ্য রুদ্রকর মঠ

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকায় ১৫০ ফুট উঁচু একটি মঠ রয়েছে। ৩৫৩ বছরের পুরোনো ওই মঠ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পর্যটকেরা মঠটি দেখতে আসেন। কিন্তু মঠের কাছে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সংস্কারের অভাবে মঠটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী মঠে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ এবং মঠটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

১৬৭০ সালের দিকে মঠটি নির্মাণ করা হয়। মঠটি ইট ও পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়। পালং এলাকার রাজমিস্ত্রি তিলক ভূঁইয়া ও গুরুচরণ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্মাণ করেন।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকায় ষোলো শতকের দিকে বাস করতেন নীলমনি চক্রবর্তী নামের এক জমিদার। তাঁর মৃত্যুর পর ১৬৭০ সালের দিকে তাঁর তিন সন্তান বানিলাল চক্রবর্তী, ক্ষিতিলাল চক্রবর্তী ও বসন্তলাল চক্রবর্তী বাবার স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সমাধির ওপর একটি মঠ নির্মাণ করেন। মঠটি ইট ও পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়। পালং এলাকার রাজমিস্ত্রি তিলক ভূঁইয়া ও গুরুচরণ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্মাণ করেন।

প্রাচীন ওই মঠের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেলে ১৮৮৯ সালে চক্রবর্তী পরিবারের সন্তান গুরুচরণ চক্রবর্তী এটি পুনর্নির্মাণ করেন। পরে মঠটিতে কালীমন্দির স্থাপন করে পূজা-অর্চনা করা হতো। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মঠটির কালীমন্দিরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে কালীপূজা হতো। ওই মঠের পাশের ৩ একর ৭৩ শতাংশ জমির ওপর চক্রবর্তী পরিবার থেকে ১৯১৫ সালে জমিদার নীলমনির নামে একটি উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মঠটি ধ্বংস করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। এতে মঠটির কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালে নীলমনি চক্রবর্তীর বংশের বাংলাদেশে বসবাসকারী সর্বশেষ সদস্য প্রমথ লাল চক্রবর্তী ভারত চলে যান। এর পর থেকে সেখানে পূজা হয় না। সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী মঠটি এখন ধ্বংস হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মঠটি দেখতে রুদ্রকরে আসছেন।

আপলোডকারীর তথ্য

নারায়ণগঞ্জ: এইচএসসিতে কমেছে পাসের হার ও জিপিএ-৫

শরীয়তপুরের ঐতিহ্য রুদ্রকর মঠ

আপডেট সময় ০৭:৪৯:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬

শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকায় ১৫০ ফুট উঁচু একটি মঠ রয়েছে। ৩৫৩ বছরের পুরোনো ওই মঠ কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। পর্যটকেরা মঠটি দেখতে আসেন। কিন্তু মঠের কাছে যাওয়ার কোনো রাস্তা নেই। সংস্কারের অভাবে মঠটির বিভিন্ন স্থানে ভেঙে যাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী মঠে যাওয়ার জন্য রাস্তা নির্মাণ এবং মঠটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।

১৬৭০ সালের দিকে মঠটি নির্মাণ করা হয়। মঠটি ইট ও পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়। পালং এলাকার রাজমিস্ত্রি তিলক ভূঁইয়া ও গুরুচরণ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্মাণ করেন।
শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, শরীয়তপুর সদর উপজেলার রুদ্রকর এলাকায় ষোলো শতকের দিকে বাস করতেন নীলমনি চক্রবর্তী নামের এক জমিদার। তাঁর মৃত্যুর পর ১৬৭০ সালের দিকে তাঁর তিন সন্তান বানিলাল চক্রবর্তী, ক্ষিতিলাল চক্রবর্তী ও বসন্তলাল চক্রবর্তী বাবার স্মৃতির প্রতি সম্মান দেখিয়ে সমাধির ওপর একটি মঠ নির্মাণ করেন। মঠটি ইট ও পাথর দিয়ে নির্মাণ করা হয়। পালং এলাকার রাজমিস্ত্রি তিলক ভূঁইয়া ও গুরুচরণ ভূঁইয়া দীর্ঘদিন ধরে এটি নির্মাণ করেন।

প্রাচীন ওই মঠের কিছু অংশ নষ্ট হয়ে গেলে ১৮৮৯ সালে চক্রবর্তী পরিবারের সন্তান গুরুচরণ চক্রবর্তী এটি পুনর্নির্মাণ করেন। পরে মঠটিতে কালীমন্দির স্থাপন করে পূজা-অর্চনা করা হতো। ১৯৭৫ সাল পর্যন্ত মঠটির কালীমন্দিরে জাঁকজমকপূর্ণভাবে কালীপূজা হতো। ওই মঠের পাশের ৩ একর ৭৩ শতাংশ জমির ওপর চক্রবর্তী পরিবার থেকে ১৯১৫ সালে জমিদার নীলমনির নামে একটি উচ্চবিদ্যালয় স্থাপন করা হয়। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মঠটি ধ্বংস করার জন্য পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সদস্যরা মর্টার শেল নিক্ষেপ করে। এতে মঠটির কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে যায়। ১৯৭৫ সালে নীলমনি চক্রবর্তীর বংশের বাংলাদেশে বসবাসকারী সর্বশেষ সদস্য প্রমথ লাল চক্রবর্তী ভারত চলে যান। এর পর থেকে সেখানে পূজা হয় না। সংরক্ষণের অভাবে ঐতিহ্যবাহী মঠটি এখন ধ্বংস হতে চলেছে। দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে মানুষ মঠটি দেখতে রুদ্রকরে আসছেন।