ঢাকা , শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo ‘আবেদন ছাড়াই’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, সাবেক ইউএনও নাহিদা বারিক ওএসডি Logo পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী-কারবারিসহ গ্রেপ্তার ১৪০ Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা Logo কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন Logo বন্দরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-ছেলে নিহত Logo টানবাজারের জামাল ইয়ার্নের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা Logo নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতার আহ্বান Logo বন্দরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে পেপার মিলে চাঁদা দাবি, হুমকি Logo চট্টগ্রাম নগরীর ২০ ও ৩২ নং ওয়ার্ডে বি এন পির নাম ব্যাবহার করে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ উটেছে স্তানীয় কিছু অসাধু,পাতি নেতার বিরুদ্ধে

‘আবেদন ছাড়াই’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, সাবেক ইউএনও নাহিদা বারিক ওএসডি

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিককে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ফাঁকা থাকা পদে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তাসহ আরো দু’জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলাও করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের এ অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাদের ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের উপসিচব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেন।

নাহিদা বারিক সর্বশেষ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওএসডি হওয়া অপর দু’জন কর্মকর্তা হলেন জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তোফাজ্জল হোসেন এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রকিবুর রহমান খান। তারা তিনজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে দুদক চাকরিতে নিয়োগের সময় জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে মামলা করে। দুদকের অনুসন্ধান বলছে, নাহিদা বারিকসহ ওই তিন কর্মকর্তা ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। কিন্তু তাদের কেউ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির আবেদন না করলেও পরে তাদের ওই কোটা শূণ্য থাকা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুদক বলছে, ২০১১ সালের ১০ জুলাই ২৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রথম গেজেট প্রকাশ হয়। ওই গ্যাজেটে ১৮৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, যেখানে নাহিদাসহ অপর দু’জন কর্মকর্তার নাম ছিল না। প্রথম পর্যায়ের নিয়োগের পর উপযুক্ত প্রার্থী না থাকা মুক্তিযোদ্ধা কোটার ১৪টি পদ ফাঁকা ছিল। ওই ফাঁকা পদেই ১৩ মাস পর নিয়োগ পান নাহিদা বারিকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।

দুদকের এ তদন্তের পর গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন না করলেও ওই কোটায় চাকরি পাওয়ার বিষয়টি জালিয়াতি উল্লেখ করা হয়।

নাহিদা বারিক নারায়ণগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি এ জেলার বন্দর ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হন।

তিনি এ জেলায় করোনাকালীন সময়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বেশ আলোচিত একজন কর্মকর্তা ছিলেন।

২০২১ সালের ২১ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র পদ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

‘আবেদন ছাড়াই’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, সাবেক ইউএনও নাহিদা বারিক ওএসডি

আপডেট সময় ১০:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলার সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাহিদা বারিককে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। প্রশাসন ক্যাডারে মুক্তিযোদ্ধা কোটার ফাঁকা থাকা পদে নিয়োগ পাওয়া এ কর্মকর্তাসহ আরো দু’জনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ তুলে মামলাও করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

দুদকের এ অনুসন্ধানের সূত্র ধরেই গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) তাদের ওএসডি করে প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রণালয়। ওই প্রজ্ঞাপনে মন্ত্রণালয়ের উপসিচব জেতী প্রু স্বাক্ষর করেন।

নাহিদা বারিক সর্বশেষ বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন কর্পোরেশনের সচিব হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ওএসডি হওয়া অপর দু’জন কর্মকর্তা হলেন জামালপুর জোনাল সেটেলমেন্ট অফিসার তোফাজ্জল হোসেন এবং বিমা উন্নয়ন ও নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষের পরিচালক রকিবুর রহমান খান। তারা তিনজনই উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তা।

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি তাদের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান চালিয়ে দুদক চাকরিতে নিয়োগের সময় জালিয়াতির অভিযোগের প্রমাণ পেয়ে মামলা করে। দুদকের অনুসন্ধান বলছে, নাহিদা বারিকসহ ওই তিন কর্মকর্তা ২৯তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে নিয়োগ পান। কিন্তু তাদের কেউ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরির আবেদন না করলেও পরে তাদের ওই কোটা শূণ্য থাকা পদে নিয়োগ দেওয়া হয়।

দুদক বলছে, ২০১১ সালের ১০ জুলাই ২৯তম বিসিএসে নিয়োগের প্রথম গেজেট প্রকাশ হয়। ওই গ্যাজেটে ১৮৪ জনের নাম উল্লেখ করা হয়, যেখানে নাহিদাসহ অপর দু’জন কর্মকর্তার নাম ছিল না। প্রথম পর্যায়ের নিয়োগের পর উপযুক্ত প্রার্থী না থাকা মুক্তিযোদ্ধা কোটার ১৪টি পদ ফাঁকা ছিল। ওই ফাঁকা পদেই ১৩ মাস পর নিয়োগ পান নাহিদা বারিকসহ কয়েকজন কর্মকর্তা।

দুদকের এ তদন্তের পর গত ৪ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে একটি চিঠিও দেওয়া হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় আবেদন না করলেও ওই কোটায় চাকরি পাওয়ার বিষয়টি জালিয়াতি উল্লেখ করা হয়।

নাহিদা বারিক নারায়ণগঞ্জ জেলায় দীর্ঘদিন কাজ করেছেন। তিনি এ জেলার বন্দর ও ফতুল্লা রাজস্ব সার্কেলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পরে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হন।

তিনি এ জেলায় করোনাকালীন সময়ে মাঠপর্যায়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে বেশ আলোচিত একজন কর্মকর্তা ছিলেন।

২০২১ সালের ২১ মার্চ তাকে নারায়ণগঞ্জ সদর ইউএনও’র পদ থেকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বদলি করা হয়।