ঢাকা , শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo এসি ল্যান্ড বদলি, অভিযোগের পরও বহাল সালমা Logo সিদ্ধিরগঞ্জে গাউছুল আজম মাইজভান্ডারী মেধা বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত Logo আড়াইহাজার উপজেলা মিনি স্টেডিয়ামের উদ্বোধনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক Logo নারায়ণগঞ্জের বাজারে সবজির দামে ঊর্ধ্বগতি, কমেছে মুরগি-ইলিশের দাম Logo চার্জিং গ্যারেজে অটোরিকশার ভিড়, চাপে শহীদনগর–সুকুমপট্টি–পাঠাননগর Logo টঙ্গিবাড়ীতে মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভা Logo সৌদিতে কোরআন প্রতিযোগিতায় বিজয়ী হাফেজদের সংবর্ধনা প্রধানমন্ত্রীর Logo মদনপুর রহমানিয়া উচ্চ বিদ্যালয় পরিদর্শনে ইউএনও শিবানী সরকার Logo মদনপুর ইউপিতে ইউএনও শিবানী সরকার: ডেঙ্গু ঠেকাতে পরিচ্ছন্নতায় জোর, জনভোগান্তি চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের নির্দেশ Logo গোগনগর থেকে নারায়ণগঞ্জের সাহিত্যাঙ্গন—এক স্বপ্নবান মানুষের যাত্রা

এসি ল্যান্ড বদলি, অভিযোগের পরও বহাল সালমা

ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক, ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি, অসদাচরণ, অনিয়ম এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ, প্রতিকার নেই
সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণও বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকেই কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কেন বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না? অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে একজন কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বহাল থাকার পেছনে প্রশাসনিক ব্যাখ্যাই বা কী?
সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ ও অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ
গত ৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে সাংবাদিকদের প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নেওয়া এবং ধারণ করা অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। সাংবাদিক কুমকুমের মেমোরি কার্ড নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এসি ল্যান্ড বদলি, সালমা বহাল কেন?
এরই মধ্যে ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমকে বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সালমা আক্তার একই কর্মস্থলে বহাল থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ কোথায়?
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমের বদলির সঙ্গে সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, সাংবাদিকদের কাছে থাকা অডিও, ব্যবহৃত ডিভাইসের তথ্য এবং ভূমি-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকরা।
তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করতে হবে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুদক, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও যদি কোনো প্রতিকার না মেলে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—সালমা আক্তারের ক্ষমতার উৎস কোথায়?
এখন ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের একটাই দাবি—অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করা এবং অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগেরও যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

এসি ল্যান্ড বদলি, অভিযোগের পরও বহাল সালমা

এসি ল্যান্ড বদলি, অভিযোগের পরও বহাল সালমা

আপডেট সময় ১০:২০:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ উঠলেও তিনি এখনো একই কর্মস্থলে বহাল রয়েছেন। এ নিয়ে স্থানীয় নাগরিক, ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, ভূমিসেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি, অসদাচরণ, অনিয়ম এবং অতিরিক্ত অর্থ দাবির মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ফরিদপুরের জেলা প্রশাসককে নিয়ে অশালীন ভাষা ব্যবহারের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ, প্রতিকার নেই
সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে ভূমি মন্ত্রণালয়, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এবং ভাঙ্গা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
তাদের দাবি, অভিযোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট তথ্য-প্রমাণও বিভিন্ন দপ্তরে জমা দেওয়া হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো দপ্তর থেকেই কার্যকর প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
অভিযোগকারীরা প্রশ্ন তুলেছেন, একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও কেন বিষয়টি তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে না? অভিযোগের সত্যতা যাচাই না করে একজন কর্মকর্তা একই কর্মস্থলে বহাল থাকার পেছনে প্রশাসনিক ব্যাখ্যাই বা কী?
সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ ও অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগ
গত ৬ সেপ্টেম্বর অভিযোগের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ ও সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য নিতে ভাঙ্গা উপজেলা ভূমি অফিসে গেলে সাংবাদিকদের প্রায় ১ ঘণ্টা ৪৪ মিনিট অবরুদ্ধ করে রাখার অভিযোগ ওঠে। এ সময় তাদের মোবাইল ফোন ও ক্যামেরা নেওয়া এবং ধারণ করা অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগও রয়েছে। সাংবাদিক কুমকুমের মেমোরি কার্ড নেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
সাংবাদিকদের দাবি, ঘটনাটি নিয়ে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে অভিযোগ জানানো হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
এসি ল্যান্ড বদলি, সালমা বহাল কেন?
এরই মধ্যে ভাঙ্গার সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমকে বদলি করা হয়েছে। তবে অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা সালমা আক্তার একই কর্মস্থলে বহাল থাকায় নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—অভিযোগগুলোর তদন্ত ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের পদক্ষেপ কোথায়?
তবে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাদরুল আলমের বদলির সঙ্গে সালমা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে অফিসের সিসিটিভি ফুটেজ, সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, সাংবাদিকদের কাছে থাকা অডিও, ব্যবহৃত ডিভাইসের তথ্য এবং ভূমি-সংক্রান্ত নথি পরীক্ষা করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকরা।
তাদের বক্তব্য, অভিযোগ সত্য হলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে হবে। আর অভিযোগ মিথ্যা হলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে তা পরিষ্কার করতে হবে।
অভিযোগকারীরা আরও বলেন, ভূমি মন্ত্রণালয়, দুদক, জেলা প্রশাসক, বিভাগীয় কমিশনার এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার পরও যদি কোনো প্রতিকার না মেলে, তাহলে প্রশ্ন ওঠে—সালমা আক্তারের ক্ষমতার উৎস কোথায়?
এখন ভুক্তভোগী ও সাংবাদিকদের একটাই দাবি—অভিযোগগুলোর দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করা হোক। পাশাপাশি সাংবাদিকদের অবরুদ্ধ করা এবং অডিও-ভিডিও মুছে ফেলার অভিযোগেরও যথাযথ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক।