ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo ফটো সাংবাদিক ওয়ারদে রহমান’র পিতা মরহুম মজিবুর রহমান’র ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কে এই দুলাল মাদককারবারী গড -ফাদার সাধারণ জনগণ জানতে চায় Logo দক্ষ জনবলের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ডেন্টাল চিকিৎসা ‘একজন ডেন্টাল সার্জনই সব’, বাড়ছে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

চোখের সামনে চা খাচ্ছিল ছোটভাই, ৩০ মিনিট পরে পেলেন ‘খুনের খবর’

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে টাকা লেনদেনের জেরে এক রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহ।

নিহত মো. নাঈম হোসেন (২২) ওই গ্রামের প্রয়াত আ. হেকিমের ছেলে।

রাত নয়টার দিকে নিজ বাড়ির ২০০ গজ দূরে খালের পাশে মাঠ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান নিহত নাঈমের বড় ভাই নাছিমুল।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোনারগাঁ থানায় তিনি একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে দুপুরে ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, “টাকা লেনদেনের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে।”

এগারো ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন নাঈম। নাঈম যখন খুব ছোট তখন মা-বাবা দুʼজনই মারা যান। ভাই-বোনেরাই বড় করে তোলেন তাকে। পিঠাপিঠি ভাই নাছিমুল রাজমিস্ত্রিদের ঠিকাদার। নাঈম তার সঙ্গেই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন বলেও জানান বড়ভাই।

গত রাতেও পাশাপাশি চায়ের দোকানে ছিলেন এ দুই ভাই। কারও একজনের কল পেয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে পরে চলে যায় নাঈম।

“আমার ভাই কারে যেন ফোনে বলতেছিল, ‘আমার কাছে টাকা নাই’। দুই-তিনবার এই কথা বলছে। ও তখন একটু দূরে দাঁড়াইয়া কথা বলতেছিল। আমি কিছু জিগাই নাই। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাই সেইখানে নাই। একটু পর আমিও বাড়িতে চলে যাই। তখন বাজে রাত সাড়ে আটটা”, বলছিলেন নাছিমুল।

তিনি আরও বলেন, বাড়িতে এসে ছোটভাইকে মোবাইলে কলও দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বন্ধ পান। এর ৩০ মিনিট না যেতেই বাইরে হৈ-চৈ শুনতে পেয়ে বেরিয়ে আসেন নাছিমুল। লোকজন “ডাকাত, ডাকাত” বলে চিৎকার করছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে খালি মাঠটিতে গিয়ে নাঈমকে রক্তাক্ত দেখতে পান।

“ওর চেহারা চেনা যাচ্ছিলো না। এলাকার লোক চিনতে পারে নাই। আমিই ওর জামা-কাপড় দেইখা চিনছি। হাসপাতালে নিছিলাম, ডাক্তার জানায় আসার আগেই মারা গেছে”, যোগ করেন নিহতের বড়ভাই।

নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পায় পুলিশ। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান সোনারগাঁ থানার ওসি মহিববুল্লাহ।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও তিনি সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার দিতেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে তার এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে।”

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে, জানান তিনি।

আপলোডকারীর তথ্য

দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

চোখের সামনে চা খাচ্ছিল ছোটভাই, ৩০ মিনিট পরে পেলেন ‘খুনের খবর’

আপডেট সময় ০৩:০০:৪৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে টাকা লেনদেনের জেরে এক রাজমিস্ত্রিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) রাতে উপজেলার নোয়াগাঁও ইউনিয়নের পরমেশ্বরদী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান সোনারগাঁ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মহিববুল্লাহ।

নিহত মো. নাঈম হোসেন (২২) ওই গ্রামের প্রয়াত আ. হেকিমের ছেলে।

রাত নয়টার দিকে নিজ বাড়ির ২০০ গজ দূরে খালের পাশে মাঠ থেকে নাঈমের মরদেহ উদ্ধারের কথা জানান নিহত নাঈমের বড় ভাই নাছিমুল।

সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে সোনারগাঁ থানায় তিনি একটি হত্যা মামলাও দায়ের করেছেন।

এ ঘটনায় একজনকে গ্রেপ্তারের কথা জানিয়ে দুপুরে ওসি মহিববুল্লাহ বলেন, “টাকা লেনদেনের জেরে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে।”

এগারো ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিলেন নাঈম। নাঈম যখন খুব ছোট তখন মা-বাবা দুʼজনই মারা যান। ভাই-বোনেরাই বড় করে তোলেন তাকে। পিঠাপিঠি ভাই নাছিমুল রাজমিস্ত্রিদের ঠিকাদার। নাঈম তার সঙ্গেই রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন বলেও জানান বড়ভাই।

গত রাতেও পাশাপাশি চায়ের দোকানে ছিলেন এ দুই ভাই। কারও একজনের কল পেয়ে মোবাইলে কথা বলতে বলতে সেখান থেকে পরে চলে যায় নাঈম।

“আমার ভাই কারে যেন ফোনে বলতেছিল, ‘আমার কাছে টাকা নাই’। দুই-তিনবার এই কথা বলছে। ও তখন একটু দূরে দাঁড়াইয়া কথা বলতেছিল। আমি কিছু জিগাই নাই। কিছুক্ষণ পর দেখি ভাই সেইখানে নাই। একটু পর আমিও বাড়িতে চলে যাই। তখন বাজে রাত সাড়ে আটটা”, বলছিলেন নাছিমুল।

তিনি আরও বলেন, বাড়িতে এসে ছোটভাইকে মোবাইলে কলও দিয়েছিলেন, কিন্তু তা বন্ধ পান। এর ৩০ মিনিট না যেতেই বাইরে হৈ-চৈ শুনতে পেয়ে বেরিয়ে আসেন নাছিমুল। লোকজন “ডাকাত, ডাকাত” বলে চিৎকার করছিল। পরে এলাকাবাসীর সঙ্গে খালি মাঠটিতে গিয়ে নাঈমকে রক্তাক্ত দেখতে পান।

“ওর চেহারা চেনা যাচ্ছিলো না। এলাকার লোক চিনতে পারে নাই। আমিই ওর জামা-কাপড় দেইখা চিনছি। হাসপাতালে নিছিলাম, ডাক্তার জানায় আসার আগেই মারা গেছে”, যোগ করেন নিহতের বড়ভাই।

নিহতের মরদেহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পায় পুলিশ। তার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে জানান সোনারগাঁ থানার ওসি মহিববুল্লাহ।

প্রাথমিক তদন্তের বরাতে এ পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, “পেশায় রাজমিস্ত্রি হলেও তিনি সুদের বিনিময়ে মানুষকে টাকা ধার দিতেন। হত্যাকারীদের সঙ্গে তার এ নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হত্যাকান্ডটি সংঘটিত হয়েছে।”

এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও পুলিশ কাজ করছে, জানান তিনি।