ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo ফটো সাংবাদিক ওয়ারদে রহমান’র পিতা মরহুম মজিবুর রহমান’র ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কে এই দুলাল মাদককারবারী গড -ফাদার সাধারণ জনগণ জানতে চায় Logo দক্ষ জনবলের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ডেন্টাল চিকিৎসা ‘একজন ডেন্টাল সার্জনই সব’, বাড়ছে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

বন্দরে গ্যাস নেই, অথচ কোটি টাকার বকেয়া বিল দিশেহারা গ্রাহকরা

মুহসীন দেওয়ান : নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার নাসিকের ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডসহ কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলীনগর, ঘাড়মোড়া এবং আশপাশের অনেক এলাকায় গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিতাস গ্যাসের লাইন থাকলেও বাস্তবে কোনো গ্যাস সরবরাহ নেই।

ত্রিবেণী ব্রিজ উন্নয়ন কাজের সময় সোনাকান্দা-বন্দর সংযোগ লাইনের মূল পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই এই তিনটি ওয়ার্ড পুরোপুরি গ্যাসবিহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এলাকাবাসী বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পায়নি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব এডভোকেট আবুল কালাম সাহেব এর নজরে আনা হলে তিনি গ্যাস সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে এমপি সাহেবের নির্দেশে ত্রিবেণী ব্রিজের নিচে ক্ষতিগ্রস্থ পাইপ মেরামতের কাজও করা হয়। কিন্তু মূল লাইনের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি থাকার কারণে এখনো পর্যন্ত গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে মানুষের আশা আজ চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, এই তিনটি ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। অনেক বাড়িতে একাধিক চুলা থাকাই বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। প্রতি চুলার জন্য মাসিক গ্যাস বিল ১০৮০ টাকা হিসেবে মাসে মোট বিল দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বছরে তা প্রায় ৩০ কোটি টাকা, আর পাঁচ বছরে এই বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ও বেশি।

সবচেয়ে দুঃখ জনক বিষয় হলো এলাকাবাসী একফোঁটা গ্যাস ব্যবহার না করেও এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে, এই বকেয়া বিল সুদসহ আরও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য এক ভয়াবহ চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিল আদায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যেহেতু গ্রাহকরা বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

গ্যাস ব্যবহার করলে বিল পরিশোধের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু গ্যাস না পেয়েও এমন বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল দেওয়ায় এটি সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অগ্রহণযোগ্য।

এমতাবস্থায়, এই সংকট নিরসনে এবং বকেয়া বিল মওকুফের জন্য সংশ্লিষ্ট মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেবের জরুরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি এলাকার সচেতন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গেরও এই বিষয়ে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অতএব, ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষ থেকে জোর দাবি দ্রæত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যায্য বকেয়া বিল সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হোক।

আপলোডকারীর তথ্য

দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

বন্দরে গ্যাস নেই, অথচ কোটি টাকার বকেয়া বিল দিশেহারা গ্রাহকরা

আপডেট সময় ১২:৪৯:২৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

মুহসীন দেওয়ান : নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানার নাসিকের ১৯, ২০ ও ২১ নং ওয়ার্ডসহ কলাগাছিয়া ইউনিয়নের আলীনগর, ঘাড়মোড়া এবং আশপাশের অনেক এলাকায় গত প্রায় পাঁচ বছর ধরে তিতাস গ্যাসের লাইন থাকলেও বাস্তবে কোনো গ্যাস সরবরাহ নেই।

ত্রিবেণী ব্রিজ উন্নয়ন কাজের সময় সোনাকান্দা-বন্দর সংযোগ লাইনের মূল পাইপ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই এই তিনটি ওয়ার্ড পুরোপুরি গ্যাসবিহীন হয়ে পড়ে। দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে এলাকাবাসী বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কোনো স্থায়ী সমাধান পায়নি।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় বিষয়টি সংশ্লিষ্ঠ বিএনপি প্রার্থী আলহাজ্ব এডভোকেট আবুল কালাম সাহেব এর নজরে আনা হলে তিনি গ্যাস সমস্যার সমাধানের আশ্বাস দেন। পরবর্তীতে এমপি সাহেবের নির্দেশে ত্রিবেণী ব্রিজের নিচে ক্ষতিগ্রস্থ পাইপ মেরামতের কাজও করা হয়। কিন্তু মূল লাইনের বিভিন্ন স্থানে ত্রুটি থাকার কারণে এখনো পর্যন্ত গ্রাহকরা গ্যাস পাচ্ছেন না। ফলে মানুষের আশা আজ চরম হতাশায় পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, এই তিনটি ওয়ার্ডসহ আশপাশের এলাকায় প্রায় ২৫ হাজার গ্রাহক রয়েছে। অনেক বাড়িতে একাধিক চুলা থাকাই বাস্তবে সংখ্যাটি আরও বেশি হতে পারে। প্রতি চুলার জন্য মাসিক গ্যাস বিল ১০৮০ টাকা হিসেবে মাসে মোট বিল দাঁড়ায় প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ টাকা। বছরে তা প্রায় ৩০ কোটি টাকা, আর পাঁচ বছরে এই বকেয়া বিলের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫০ কোটি টাকার ও বেশি।

সবচেয়ে দুঃখ জনক বিষয় হলো এলাকাবাসী একফোঁটা গ্যাস ব্যবহার না করেও এই বিপুল অঙ্কের বকেয়া বিলের বোঝা বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। দিন যত যাচ্ছে, এই বকেয়া বিল সুদসহ আরও বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের জন্য এক ভয়াবহ চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সরকারি নিয়ম অনুযায়ী তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ বকেয়া বিল আদায়ে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারে। যেহেতু গ্রাহকরা বৈধ কাগজপত্র জমা দিয়ে সংযোগ নিয়েছেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে মামলা হলে তা অত্যন্ত জটিল ও বিপজ্জনক পরিস্থিতির সৃষ্টি করবে।

গ্যাস ব্যবহার করলে বিল পরিশোধের বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু গ্যাস না পেয়েও এমন বিপুল পরিমাণ বকেয়া বিল দেওয়ায় এটি সম্পূর্ণ অন্যায্য এবং মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকেও অগ্রহণযোগ্য।

এমতাবস্থায়, এই সংকট নিরসনে এবং বকেয়া বিল মওকুফের জন্য সংশ্লিষ্ট মাননীয় সংসদ সদস্য জনাব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম সাহেবের জরুরি হস্তক্ষেপ অত্যন্ত প্রয়োজন। পাশাপাশি এলাকার সচেতন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গেরও এই বিষয়ে দ্রæত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

অতএব, ভুক্তভোগী জনগণের পক্ষ থেকে জোর দাবি দ্রæত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা এবং অন্যায্য বকেয়া বিল সম্পূর্ণভাবে মওকুফ করা হোক।