ঢাকা , সোমবার, ০৩ অগাস্ট ২০২৬, ১৯ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার Logo ফটো সাংবাদিক ওয়ারদে রহমান’র পিতা মরহুম মজিবুর রহমান’র ১৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত Logo কে এই দুলাল মাদককারবারী গড -ফাদার সাধারণ জনগণ জানতে চায় Logo দক্ষ জনবলের অভাবে ঝুঁকিপূর্ণ ডেন্টাল চিকিৎসা ‘একজন ডেন্টাল সার্জনই সব’, বাড়ছে রোগীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল

ডিজেলের অভাবে বন্দর ঘাটে ট্রলার বন্ধের আশঙ্কা ইজারাদারের

নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাটে জ্বালানি তেল ডিজেলের সংকটের কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ ঘাটের ইজারাদার দিদার খন্দকার। তার ভাষ্যমতে, তাদের কাছে যে পরিমাণ ডিজেল মজুদ আছে তাতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রলার চালানো সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে নতুন মজুদ না পেলে যাত্রী পারাপার ব্যাহত হবে।

তবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতে দেশে বিদ্যমান জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পর্যাপ্ত মজুদ সময়ের মধ্যে করা যাবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দিদার খন্দকারের।

জ্বালানি সংকটের কারণে খেয়া পারপার বন্ধ হওয়ার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠিয়েছেন ইজারাদার। তাতে লিখেছেন, “ডিজেলের অভাবে সেন্ট্রাল ফেরিঘাটে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যতটুকু ডিজেল আছে আজ (শুক্রবার) রাত পর্যন্ত চলবে। আগামীকাল (শনিবার) সকাল থেকে ডিজেলের অভাবে ট্রলারে যাত্রীদের নদী পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। বন্দর সেন্ট্রাল ফেরিঘাটে হয়তো ট্রলার চলবে না।”

বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট দিয়ে সদর ও বন্দরের যাত্রীরা নিয়মিত পারাপার হন। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের পাশাপাশি নৌকা দিয়েও এ ঘাট পার হন লোকজন। ট্রলারে জনপ্রতি দুই টাকা এবং নৌকায় জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে পার হন তারা।

দিদার খন্দকার বলছেন, টোল সংগ্রহের হিসেবে দৈনিক এ ঘাট দিয়ে অন্তত ৩০ হাজার যাত্রী কেবল ট্রলার দিয়েই পারাপার হন।

ঘাটটি প্রতি বছর ইজারা দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বর্তমানে ঘাটটির ইজারাদার দিদার খন্দকার। এর আগেও তিনি এ ঘাটটির ইজারা পেয়ে পরিচালনা করেছেন।

প্রেস নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, “এতদিন পর্যন্ত যে জাহাজ থেকে তেল নিতাম তা গত একমাস ধরে বন্ধ আছে। কোথাও তেল পাচ্ছি না। গত কয়েকদিন ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় ডিজেল কিনেছি। কিন্তু এ মুহুর্তে তেলের খুবই সংকট। আজও দুইটা পাম্পে যোগাযোগ করলাম, সেখান থেকে ৫০ লিটার তেল পাইছি, যা আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত চলবে।”

এ ঘাটে সাতটি ট্রলার সকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা যাত্রী পারাপার করে বলেও জানান দিদার।

এদিকে, ট্রলার না চললে হাজারো যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়বেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এ চাকুরিজীবী প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “এ ঘাট দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঘন্টায় পারাপার হয়। অধিকাংশই কর্মজীবী, খেটে-খাওয়া শ্রমিক। তারা ২ টাকা দিয়ে ট্রলার পার হয়। দশ টাকার নৌকায় খরচ যেমন বাড়বে তেমনি অতিরিক্ত যাত্রী চাপে দুর্ঘটনারও শঙ্কা আছে।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “এ ব্যাপারে ইজারাদার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কিছু বলেননি। উনি বিআইডব্লিউটিএ’কেও বিষয়টি জানালে তারা যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে তারাই ব্যবস্থা করবেন। তারপরও বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।”

ট্রলার চলাচলে ডিজেল সংকটের বিষয়টি ইজারাদার দিদার খন্দকার বিআইডব্লিউটিএ’কেও অবগত করেনি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান।

প্রেস নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, “আমাকে অবগত করা হয়নি এখনো। ডিজেলের তো সংকট ওইভাবে নেই। তারপরও প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও পাম্পে চিঠি দেবো, সুপারিশ করবো। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করবো।”

জানতে চাইলে দিদার খন্দকার বলেন, ছুটির দিন হওয়াতে তিনি প্রশাসন ও নদী বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে পারেননি। তবে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন এবং আশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

দিঘীরপাড় তদন্ত কেন্দ্রের অভিযানে ১২৫ পিস ইয়াবাসহ ২ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার

ডিজেলের অভাবে বন্দর ঘাটে ট্রলার বন্ধের আশঙ্কা ইজারাদারের

আপডেট সময় ১১:৫১:১৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৮ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাটে জ্বালানি তেল ডিজেলের সংকটের কারণে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন এ ঘাটের ইজারাদার দিদার খন্দকার। তার ভাষ্যমতে, তাদের কাছে যে পরিমাণ ডিজেল মজুদ আছে তাতে শনিবার দুপুর পর্যন্ত ট্রলার চালানো সম্ভব। এই সময়ের মধ্যে নতুন মজুদ না পেলে যাত্রী পারাপার ব্যাহত হবে।

তবে, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতে দেশে বিদ্যমান জ্বালানি তেলের সংকটের কারণে পর্যাপ্ত মজুদ সময়ের মধ্যে করা যাবে কিনা তা নিয়েও সন্দেহ দিদার খন্দকারের।

জ্বালানি সংকটের কারণে খেয়া পারপার বন্ধ হওয়ার বিষয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিও গণমাধ্যমকর্মীদের পাঠিয়েছেন ইজারাদার। তাতে লিখেছেন, “ডিজেলের অভাবে সেন্ট্রাল ফেরিঘাটে ট্রলার চলাচল বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। যতটুকু ডিজেল আছে আজ (শুক্রবার) রাত পর্যন্ত চলবে। আগামীকাল (শনিবার) সকাল থেকে ডিজেলের অভাবে ট্রলারে যাত্রীদের নদী পারাপার বন্ধ হয়ে যাবে। বন্দর সেন্ট্রাল ফেরিঘাটে হয়তো ট্রলার চলবে না।”

বিজ্ঞপ্তিতে জেলা প্রশাসক, জেলা পুলিশ ও বিআইডব্লিউটিএ’র সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জ শহরের কেন্দ্রীয় খেয়াঘাট দিয়ে সদর ও বন্দরের যাত্রীরা নিয়মিত পারাপার হন। ইঞ্জিনচালিত ট্রলারের পাশাপাশি নৌকা দিয়েও এ ঘাট পার হন লোকজন। ট্রলারে জনপ্রতি দুই টাকা এবং নৌকায় জনপ্রতি ১০ টাকা দিয়ে পার হন তারা।

দিদার খন্দকার বলছেন, টোল সংগ্রহের হিসেবে দৈনিক এ ঘাট দিয়ে অন্তত ৩০ হাজার যাত্রী কেবল ট্রলার দিয়েই পারাপার হন।

ঘাটটি প্রতি বছর ইজারা দেয় বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)। বর্তমানে ঘাটটির ইজারাদার দিদার খন্দকার। এর আগেও তিনি এ ঘাটটির ইজারা পেয়ে পরিচালনা করেছেন।

প্রেস নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, “এতদিন পর্যন্ত যে জাহাজ থেকে তেল নিতাম তা গত একমাস ধরে বন্ধ আছে। কোথাও তেল পাচ্ছি না। গত কয়েকদিন ১২২ থেকে ১৩০ টাকায় ডিজেল কিনেছি। কিন্তু এ মুহুর্তে তেলের খুবই সংকট। আজও দুইটা পাম্পে যোগাযোগ করলাম, সেখান থেকে ৫০ লিটার তেল পাইছি, যা আগামীকাল দুপুর পর্যন্ত চলবে।”

এ ঘাটে সাতটি ট্রলার সকাল ছয়টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত টানা যাত্রী পারাপার করে বলেও জানান দিদার।

এদিকে, ট্রলার না চললে হাজারো যাত্রী ভোগান্তির মুখে পড়বেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বন্দরের আমিন আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আব্দুল বাতেন। বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এ চাকুরিজীবী প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “এ ঘাট দিয়ে কয়েক হাজার মানুষ ঘন্টায় পারাপার হয়। অধিকাংশই কর্মজীবী, খেটে-খাওয়া শ্রমিক। তারা ২ টাকা দিয়ে ট্রলার পার হয়। দশ টাকার নৌকায় খরচ যেমন বাড়বে তেমনি অতিরিক্ত যাত্রী চাপে দুর্ঘটনারও শঙ্কা আছে।”

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম ফয়েজ উদ্দিন প্রেস নারায়ণগঞ্জকে বলেন, “এ ব্যাপারে ইজারাদার স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে কিছু বলেননি। উনি বিআইডব্লিউটিএ’কেও বিষয়টি জানালে তারা যাত্রী সাধারণের সুবিধার্থে তারাই ব্যবস্থা করবেন। তারপরও বিষয়টি আমরা খোঁজখবর নিচ্ছি।”

ট্রলার চলাচলে ডিজেল সংকটের বিষয়টি ইজারাদার দিদার খন্দকার বিআইডব্লিউটিএ’কেও অবগত করেনি বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরের যুগ্ম পরিচালক মোহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান।

প্রেস নারায়ণগঞ্জকে তিনি বলেন, “আমাকে অবগত করা হয়নি এখনো। ডিজেলের তো সংকট ওইভাবে নেই। তারপরও প্রয়োজনে এ বিষয়ে আমরা প্রশাসন ও পাম্পে চিঠি দেবো, সুপারিশ করবো। এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে আমরা বিকল্প ব্যবস্থা করবো।”

জানতে চাইলে দিদার খন্দকার বলেন, ছুটির দিন হওয়াতে তিনি প্রশাসন ও নদী বন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানাতে পারেননি। তবে, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে তিনি যোগাযোগ করেছেন এবং আশ্বাস পেয়েছেন বলেও জানান।