নারায়ণগঞ্জে রূপগঞ্জে অস্ত্র মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তারের সময় হামলার শিকার হয়েছে পুলিশ। হামলা চালিয়ে পরিবারের সদস্য ও সহযোগীরা গ্রেপ্তার শামীম মিয়াকে ছিনিয়েও নিয়ে যায়।
মঙ্গলবার (৫ মে) ভোরে উপজেলার চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে এ ঘটনায় থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ অন্তত সাতজন সদস্য আহত হয়েছেন।
যদিও পরে র্যাব ও পুলিশ যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে শামীমের স্ত্রীসহ ১২ জনকে গ্রেপ্তার করেছে।
ভোর পাঁচটার দিকে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে অস্ত্র মামলায় পরোয়ানাভুক্ত আসামি যুবদল নেতা শামীম মিয়াকে গ্রেপ্তার করতে গেলে তার পরিবারের সদস্য ও সহযোগীদের বাধার মুখে পড়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। পরে পুলিশের উপর হামলা চালিয়ে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও জানান থানার ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন।
এ হামলায় তিনি ছাড়া অন্তত আরও ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন বলে জানান ওসি।
হামলার সময় পুলিশের একটি ওয়াকিটকি ও দু’টি মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়। যদিও পরে ওয়াকিটকিটি উদ্ধার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।
অভিযুক্ত শামীম মিয়া রূপগঞ্জ থানা যুবদলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। তার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে সন্ত্রাস ও মাদক ব্যবসা নিয়ন্ত্রকের অভিযোগ ওঠে।
যদিও পুলিশের উপর এই হামলার ঘটনা জানাজানি হবার পর বিকেলে তাকে বহিষ্কার করে গণমাধ্যমে বিজ্ঞপ্তি পাঠায় কেন্দ্রীয় যুবদল।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “বহিষ্কৃতদের কোনো অপকর্মের দায়-দায়িত্ব দল নিবে না। যুবদলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের সাংগঠনিক সম্পর্ক না রাখার নির্দেশনা দেওয়া হলো।”
একইসঙ্গে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছে যুবদল।
যদিও হামলার ঘটনার পর পুলিশ ও র্যাবের যৌথ অভিযানে শামীমের স্ত্রীসহ অন্তত ১২ জনকে আটক করা হয়। পরে পুলিশ বাদী হয়ে তাদের উপর হামলা ও সরকারি কাজে বাধা প্রদানের অভিযোগে থানায় একটি মামলাও করেছে।
জেলা পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী পুলিশ সুপার (‘গ’ সার্কেল) মেহেদী ইসলাম বলেন, “শামীম মিয়াকে তার ঘর থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরিবারের সদস্যরা শামীমের সহযোগীদের খবর দিলে তারা পুলিশ সদস্যদের অবরুদ্ধ করে রাখে। এক পর্যায়ে শামীম পালিয়ে যান। তবে তাকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।”










