ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির Logo ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব দিবসে নাঃগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালী Logo সিদ্ধিরগঞ্জে বিহারী পট্টি ৩নং বালুর মাঠে বাবলা ও হীরার রমরমা মাদক ব্যবসা; এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি Logo ইতিহাস গড়ে টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি Logo তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ Logo আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস Logo মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন Logo আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য আ.লীগের দোসর মানিকের ভবন নির্মাণ Logo বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিয়াপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ মেগা ফাইনাল

আমিও এক সময় পাট ব্যবসায়ী ছিলাম: আবুল কালাম

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, এক সময় এই নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে। কারণ স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে যখন প্রথম পাট ব্যবসা শুরু হয়, তখন ভারত বিভাজনের সময় ১৯৪৭ সালে পাট ব্যবসার মিল-কারখানাগুলো ছিল কলকাতায়। আর আমাদের নারায়ণগঞ্জে পাটের প্রথম ব্যবসা শুরু করেন এ কে খান। আমিও ব্যক্তিগতভাবে এক সময় পাট ব্যবসায়ী ছিলাম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে যে সরকার ছিল তাদের কিছু ভুল নীতির কারণে আমাদের এই পেশা থেকে সরে আসতে হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করবো। আজকে আমাদের জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ দেখা করে আলাপ করেছেন যে, আমাদের কিছু সমস্যা আছে যা সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। আমি প্রত্যাশা করবো জনগণের দাবির পক্ষে আমাকে মন্ত্রণালয়ে একটু সময় দেবেন। আমরা বসে দেখতে চাই, পাট শিল্প থাকবে, পাশাপাশি পাট ব্যবসাও টিকে থাকবে। কারণ পাট ব্যবসায়ী এমন একটি শ্রেণি, যাদের কারণে একসময় পাটকে বলা হতো গোল্ডেন ফাইবার। সেই গোল্ডেন ফাইবার আজ আমাদের বাজার থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেছে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার কিশোরগঞ্জে এক সময় অনেক যাতায়াত ছিল। গফরগাঁও, ভালুকাসহ বেশ কিছু জায়গায় ব্যবসা ছিল। কিন্তু কী কারণে পাটের ব্যবসা থেকে সরে আসলাম, সেই ব্যথাটি আজও যারা পাটের ব্যবসা করেন তাদের মধ্যেও বিরাজমান। কারণ ওই সময় সরকার একটি গোলটেবিল বৈঠক করে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর আমাদের পাট স্টক হয়ে গেল। তখন বলা হলো বাফার স্টক করতে। আমরা বলেছিলাম, বাফার স্টক করতে টাকা পাব কোথায়? তখন বলা হয়, আমাদের যত লিমিট আছে তা দিয়ে সহায়তা করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সময়ে আমাদের যে মিল ছিল সেগুলো সচল রাখার জন্য। আর ওই সময় যিনি মন্ত্রী ছিলেন তিনি একটি পাটকলের মালিকও ছিলেন। সুতরাং তিনি কী নীতিতে এটি করেছিলেন, সেটি বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, আগে যে সরকার ছিল সেই সরকারের মন্ত্রীও পাট মিলের মালিক ছিলেন। আবার কী স্বার্থে ও কী উদ্দেশ্যে পাট রপ্তানি বন্ধ করে রেখেছিলেন, এ বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ প্রান্তিক চাষিরা যদি তাদের উৎপাদনের খরচ তুলতে না পারেন, তাহলে এই মেলা একদিন বিলীন হয়ে যাবে। এটিও থাকবে না। সুতরাং আমি প্রত্যাশা করবো মন্ত্রী মহোদয়, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে সুবিধা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিন প্রমুখ।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির

আমিও এক সময় পাট ব্যবসায়ী ছিলাম: আবুল কালাম

আপডেট সময় ১২:৩৮:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম বলেছেন, এক সময় এই নারায়ণগঞ্জকে বলা হতো প্রাচ্যের ডান্ডি হিসেবে। কারণ স্কটল্যান্ডের ডান্ডিতে যখন প্রথম পাট ব্যবসা শুরু হয়, তখন ভারত বিভাজনের সময় ১৯৪৭ সালে পাট ব্যবসার মিল-কারখানাগুলো ছিল কলকাতায়। আর আমাদের নারায়ণগঞ্জে পাটের প্রথম ব্যবসা শুরু করেন এ কে খান। আমিও ব্যক্তিগতভাবে এক সময় পাট ব্যবসায়ী ছিলাম।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) নারায়ণগঞ্জ শহীদ জিয়া হল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত বহুমুখী পাটপণ্য মেলার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি একথা বলেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সাবেক সরকারের সমালোচনা করে তিনি বলেন, অতীতে যে সরকার ছিল তাদের কিছু ভুল নীতির কারণে আমাদের এই পেশা থেকে সরে আসতে হয়। এ বিষয়ে মন্ত্রীর কাছে একটি আবেদন করবো। আজকে আমাদের জুট অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ দেখা করে আলাপ করেছেন যে, আমাদের কিছু সমস্যা আছে যা সহজে সমাধান করা সম্ভব নয়। আমি প্রত্যাশা করবো জনগণের দাবির পক্ষে আমাকে মন্ত্রণালয়ে একটু সময় দেবেন। আমরা বসে দেখতে চাই, পাট শিল্প থাকবে, পাশাপাশি পাট ব্যবসাও টিকে থাকবে। কারণ পাট ব্যবসায়ী এমন একটি শ্রেণি, যাদের কারণে একসময় পাটকে বলা হতো গোল্ডেন ফাইবার। সেই গোল্ডেন ফাইবার আজ আমাদের বাজার থেকে উচ্ছেদ হয়ে গেছে।

তিনি স্মৃতিচারণ করে বলেন, আমার কিশোরগঞ্জে এক সময় অনেক যাতায়াত ছিল। গফরগাঁও, ভালুকাসহ বেশ কিছু জায়গায় ব্যবসা ছিল। কিন্তু কী কারণে পাটের ব্যবসা থেকে সরে আসলাম, সেই ব্যথাটি আজও যারা পাটের ব্যবসা করেন তাদের মধ্যেও বিরাজমান। কারণ ওই সময় সরকার একটি গোলটেবিল বৈঠক করে বিদেশে পাট রপ্তানি বন্ধ করে দেয়। এরপর আমাদের পাট স্টক হয়ে গেল। তখন বলা হলো বাফার স্টক করতে। আমরা বলেছিলাম, বাফার স্টক করতে টাকা পাব কোথায়? তখন বলা হয়, আমাদের যত লিমিট আছে তা দিয়ে সহায়তা করা হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল তৎকালীন সময়ে আমাদের যে মিল ছিল সেগুলো সচল রাখার জন্য। আর ওই সময় যিনি মন্ত্রী ছিলেন তিনি একটি পাটকলের মালিকও ছিলেন। সুতরাং তিনি কী নীতিতে এটি করেছিলেন, সেটি বোধগম্য নয়।

তিনি আরও বলেন, আজ আমরা দেখতে পাচ্ছি, আগে যে সরকার ছিল সেই সরকারের মন্ত্রীও পাট মিলের মালিক ছিলেন। আবার কী স্বার্থে ও কী উদ্দেশ্যে পাট রপ্তানি বন্ধ করে রেখেছিলেন, এ বিষয়টি আমাদের লক্ষ্য রাখতে হবে। কারণ প্রান্তিক চাষিরা যদি তাদের উৎপাদনের খরচ তুলতে না পারেন, তাহলে এই মেলা একদিন বিলীন হয়ে যাবে। এটিও থাকবে না। সুতরাং আমি প্রত্যাশা করবো মন্ত্রী মহোদয়, সচিবসহ সংশ্লিষ্ট সকলে বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখলে সুবিধা হবে।

জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবিরের সভাপতিত্বে এসময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এসএম জাহিদ হাসান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) তাসমিন আক্তার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক-সার্কেল) হাসিনুজ্জামান, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজউদ্দিন প্রমুখ।