নিজস্ব প্রতিবেদক: মাত্র দুই বছর আগেও একটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানে মাসিক ১০ হাজার টাকা বেতনে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে চাকরি করতেন রাকিবুল ইসলাম। থাকতেন ভাড়া বাসায়। গ্রামের বাড়িতে নেই উল্লেখযোগ্য কোনো সম্পদ, রয়েছে কেবল একটি ছোট্ট বসতভিটা। সেখানে বসবাস করেন তাঁর বৃদ্ধ বাবা-মা। কিন্তু অল্প সময়ের ব্যবধানে সেই রাকিবুল ইসলাম ও তাঁর বড় ভাই জাফরের আর্থিক অবস্থার নাটকীয় পরিবর্তন ঘিরে এলাকায় দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, রাকিবুল ইসলাম ও তাঁর বড় ভাই জাফর ছোটবেলা থেকেই শহরে বসবাস করে আসছেন। বড় ভাই জাফর একসময় একটি লন্ড্রি দোকানের সাধারণ কর্মচারী হিসেবে কাজ করতেন। অন্যদিকে ছোট ভাই রাকিবুল ইসলাম একটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠানে কম্পিউটার-সংক্রান্ত দায়িত্বে কর্মরত ছিলেন। কিন্তু ২০২৫ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে তাঁদের জীবনযাত্রা ও আর্থিক অবস্থায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, অল্প সময়ের ব্যবধানে দুই ভাই বিপুল অর্থসম্পদের মালিক হয়েছেন। তাঁদের পরিচালিত প্রতিষ্ঠানে বর্তমানে প্রায় ৬০ লাখ টাকা জমা রয়েছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। যে দুই ভাইয়ের একসময় নুন আনতে পান্তা ফুরানোর মতো অবস্থা ছিল, তাঁদের হঠাৎ এমন আর্থিক উত্থান কীভাবে সম্ভব হলো—এ প্রশ্নই এখন এলাকাবাসীর মুখে মুখে।
কম্পিউটার অপারেটর থেকে প্রতিষ্ঠানের মালিক, উত্থানের পেছনে কী রহস্য?
অভিযোগ রয়েছে, পূর্বের কর্মস্থলে কম্পিউটার অপারেটর হিসেবে কাজ করার সময় আর্থিক লেনদেন ও হিসাব-নিকাশের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন রাকিবুল ইসলাম। পরবর্তী সময়ে তিনি নিজেই একটি মাল্টিপারপাস প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। প্রতিষ্ঠানটির নাম দিশারী ট্রাস্ট এবং সমবায় সমিতির লিমিটেড একটি ভুয়া গভর্নমেন্ট রেজিস্ট্রেশন নাম্বার ব্যবহার করে সরকারি নিয়ম নীতিমালাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নির্বিঘ্নে তিনি তার ব্যবসা প্রতিষ্ঠান চালিয়ে যাচ্ছেন। প্রতারণার ফাঁদ পেতেছেন স্থানীয় এক বাড়িওলাকে সাথে নিয়ে । উনার বাড়ির ভিতরে রাতের আঁধারে বাসায় বসে চাঁদা কালেকশন করছেন কথিত সমবায় ব্যবসায়ী রাকিবুল ইসলাম । আমাদের প্রতিনিধি ঢাকা আগারগাঁও সমবায় সমিতি অফিসের দায়িত্বপূর্ণ অফিসারের সাথে কথা বলে জানতে পারেন দিশারী ট্রাস্ট সমবায় সমিতি লিমিটেড নামে কোন প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন ঢাকা সমবায় সমিতি অফিস থেকে দেওয়া হয়নি।তাহলে কিভাবে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে একটি প্রতিষ্ঠান সাধারণ জনগণের সাথে প্রতারণা করে আসছে। মূলত এসব টার্গেট থাকে জনগণের আমানতের টাকা। একসময় এরাই জনগণের আমানতের টাকা নিয়ে প্রতিষ্ঠানে তালা ঝুলিয়ে পালিয়ে যায়। তাই এখনই সচেতন মহলএবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর উচিত এ ধরনের ভুয়া প্রতিষ্ঠানকে আইনের আওতায় এনে যথ প্ যুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে।
আমরা এ ব্যাপারে ঢাকা জেলা ডিসি এবং আগারগাঁও সমবায় সমিতি অফিসের সাথে যোগাযোগ করে তাদেরকে বিষয়টি অবগত করেছি ।


















