ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিযোগের পর অভিযোগ, বদলি কর্মকর্তার পরও বহাল সালমা! ভাঙ্গার ভূমি অফিসে রহস্য আরও ঘনীভূত—“অলৌকিক ক্ষমতার” উৎস কোথায়, প্রশ্ন জনগণ ও সাংবাদিকদের Logo নাসিকে যুক্ত হচ্ছে ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগর, বাদ কাশীপুর Logo নাসিকের টেন্ডার বাণিজ্যেরও অভিযোগ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে Logo শহরে অটোরিকশার সংখ্যা ও গ্যারেজের তালিকা চাইলেন এমপি আবুল কালাম Logo লিংক রোড সকালে পরিষ্কার, রাতে ফের ময়লা Logo হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান Logo চেলসিকে রুখে দিয়ে তৃতীয় স্থানে হাল সিটি, হতাশ লিভারপুল Logo ডিসেম্বরেই মিমির সুখবর! Logo চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ Logo আলিগঞ্জে অভিষেক অনুষ্ঠানে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন, উঠেছে নানা প্রশ্ন

শাওন হত্যার চার বছরেও বিচার নিয়ে আক্ষেপ পরিবারের

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী শাওন প্রধান নিহত হওয়ার চার বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এতে দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শাওনের পরিবার।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি শহরে শোভাযাত্রার আয়োজন করে। মিছিলটি ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে গুলিও ছোড়া হয়। এ সময় যুবদল কর্মী শাওন প্রধান (২৩) বুকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শাওন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২২ সালের ২ সেপ্টেম্বর একই থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় বিএনপির পাঁচ হাজার অজ্ঞাত নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর শাওনের ভাই মো. মিলন বাদী হয়ে পৃথক হত্যা মামলা করেন। এতে সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি), সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি), সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পুলিশের সদস্যকে আসামি করা হয়।

প্রথম মামলা হওয়ার পর মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মামলার বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কিছু জানতেন না। পুলিশ তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

শাওন নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলাকালে অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তৎকালীন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মাহফুজুর রহমান কনককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে চার বছরেও ছেলের হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন শাওনের মা খোরশেদা বেগম। তিনি বলেন, “আমার ছেলে হত্যার কড়া বিচার চাই।”

শাওনের মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শাওনই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই সংসার চলত।

খোরশেদা বেগম বলেন, “শাওন এই দলে গেছে বলে আমাকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। আমার সংসারে শাওনই আয় করে সংসার চালাত। আজকে আমার ছেলে বেঁচে থাকলে ওর সব বেতন আমার হাতে দিত। আজকে ছেলে নেই, কেউ সান্ত্বনা দিতে আসে না।”

বিএনপির নেতাদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “শাওন হত্যার পর আমাকে দেখতে কোনো নেতা আসেনি। আমি এখন বিছানায় পড়ে থাকি। এখন তো আমার ছেলে নেই, কেউ খবর নেয় না।”

চার বছরেও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে শাওনের মা দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিযোগের পর অভিযোগ, বদলি কর্মকর্তার পরও বহাল সালমা! ভাঙ্গার ভূমি অফিসে রহস্য আরও ঘনীভূত—“অলৌকিক ক্ষমতার” উৎস কোথায়, প্রশ্ন জনগণ ও সাংবাদিকদের

শাওন হত্যার চার বছরেও বিচার নিয়ে আক্ষেপ পরিবারের

আপডেট সময় ০৯:৩৪:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ শহরের ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে যুবদল কর্মী শাওন প্রধান নিহত হওয়ার চার বছর পূর্ণ হয়েছে। তবে এ ঘটনায় দায়ের করা হত্যা মামলার তদন্ত এখনো শেষ হয়নি। এতে দ্রুত বিচার ও জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছে শাওনের পরিবার।

২০২২ সালের ১ সেপ্টেম্বর বিএনপির ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর বিএনপি শহরে শোভাযাত্রার আয়োজন করে। মিছিলটি ২ নম্বর রেলগেট এলাকায় পৌঁছালে পুলিশ বাধা দেয়। পরে বিএনপির নেতা-কর্মীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষ শুরু হয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। একপর্যায়ে গুলিও ছোড়া হয়। এ সময় যুবদল কর্মী শাওন প্রধান (২৩) বুকে গুলিবিদ্ধ হন। পরে তাকে নারায়ণগঞ্জ জেনারেল (ভিক্টোরিয়া) হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

শাওন নিহত হওয়ার ঘটনায় ২০২২ সালের ২ সেপ্টেম্বর একই থানায় একটি মামলা করা হয়। ওই মামলায় বিএনপির পাঁচ হাজার অজ্ঞাত নেতা-কর্মীকে আসামি করা হয়েছিল। পরে ২০২৪ সালের ২১ অক্টোবর শাওনের ভাই মো. মিলন বাদী হয়ে পৃথক হত্যা মামলা করেন। এতে সাবেক জেলা প্রশাসক (ডিসি), সাবেক পুলিশ সুপার (এসপি), সাবেক সংসদ সদস্য শামীম ওসমানসহ একাধিক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও পুলিশের সদস্যকে আসামি করা হয়।

প্রথম মামলা হওয়ার পর মিলন সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মামলার বিষয়ে তিনি বা তার পরিবারের কেউ কিছু জানতেন না। পুলিশ তাদের কাছ থেকে সাদা কাগজে স্বাক্ষর নিয়েছিল বলেও অভিযোগ করেছিলেন তিনি।

শাওন নিহত হওয়ার ঘটনার তদন্ত চলাকালে অস্ত্র হাতে প্রকাশ্যে গুলি ছোড়ার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হলে নারায়ণগঞ্জ গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশের তৎকালীন সাব-ইনস্পেক্টর (এসআই) মাহফুজুর রহমান কনককে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে আদালতে হাজির করে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

এদিকে চার বছরেও ছেলের হত্যার বিচার না হওয়ায় হতাশা ও ক্ষোভ জানিয়েছেন শাওনের মা খোরশেদা বেগম। তিনি বলেন, “আমার ছেলে হত্যার কড়া বিচার চাই।”

শাওনের মৃত্যুর পর পরিবারটি আর্থিক সংকটে পড়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, শাওনই ছিলেন পরিবারের প্রধান উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। তার আয়েই সংসার চলত।

খোরশেদা বেগম বলেন, “শাওন এই দলে গেছে বলে আমাকে অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছে। আমার সংসারে শাওনই আয় করে সংসার চালাত। আজকে আমার ছেলে বেঁচে থাকলে ওর সব বেতন আমার হাতে দিত। আজকে ছেলে নেই, কেউ সান্ত্বনা দিতে আসে না।”

বিএনপির নেতাদের কাছ থেকেও প্রত্যাশিত সহযোগিতা পাননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার ভাষায়, “শাওন হত্যার পর আমাকে দেখতে কোনো নেতা আসেনি। আমি এখন বিছানায় পড়ে থাকি। এখন তো আমার ছেলে নেই, কেউ খবর নেয় না।”

চার বছরেও বিচার না পাওয়ার আক্ষেপ জানিয়ে শাওনের মা দ্রুত মামলার তদন্ত শেষ করে হত্যার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।