ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা ও ইজিবাইকের বাড়তি চাপে নারায়ণগঞ্জের শহীদনগর, সুকুমপট্টি ও পাঠাননগর এলাকায় সৃষ্টি হচ্ছে নানা ধরনের জনভোগান্তি। অটোরিকশার পাশাপাশি গড়ে ওঠা চার্জিং গ্যারেজকে ঘিরে রয়েছে অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগের অভিযোগ। একই সঙ্গে অগ্নিনিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।স্থানীয়দের অভিযোগ, এলাকার বিভিন্ন গ্যারেজে একসঙ্গে একাধিক অটোরিকশার ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয়। এসব সংযোগের সবগুলো বৈধ কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তবে অভিযোগের প্রকৃত সত্যতা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট বিদ্যুৎ বিভাগের সরেজমিন পরিদর্শন ও মিটার-সংযোগ যাচাই প্রয়োজন।সম্প্রতি নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় অটোরিকশা চার্জিং গ্যারেজে অভিযান চালিয়ে অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও জরিমানার খবর পাওয়া গেছে। ফলে শহীদনগর–সুকুমপট্টি–পাঠাননগর এলাকার চার্জিং পয়েন্টগুলোতেও নিয়মিত নজরদারির জরুরী ভিত্তিতে করা দরকার। সড়কেও বাড়ছে চাপস্থানীয়দের ভাষ্য, অটোরিকশা চলাচলের পাশাপাশি বিভিন্ন মোড়, বাজার ও গলিতে যত্রতত্র দাঁড়িয়ে থাকার কারণে সড়কের স্বাভাবিক চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। পথচারী, রিকশা, অটোরিকশা ও অন্যান্য যান একই সড়ক ব্যবহার করায় ব্যস্ত সময়ে যানজট আরও তীব্র হচ্ছে।
অন্যদিকে আবাসিক ভবন বা ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় অনিরাপদভাবে ব্যাটারি চার্জ করা হলে বৈদ্যুতিক দুর্ঘটনা ও অগ্নিঝুঁকি সম্ভাবনা বেশি আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা। এ কারণে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ নয়, চার্জিং গ্যারেজের অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থাও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।তাই শহীদনগর, সুকুমপট্টি ও পাঠাননগরের চার্জিং গ্যারেজগুলোতে শুধু বিদ্যুৎ সংযোগ বৈধ কি না—তা নয়; অগ্নিনিরাপত্তা ও বৈদ্যুতিক নিরাপত্তার বিষয়টিও পরীক্ষা করা প্রয়োজন।অটোরিকশা অনেক মানুষের কর্মসংস্থান ও স্বল্প ব্যয়ে যাতায়াতের সঙ্গে যুক্ত। ফলে হঠাৎ উচ্ছেদ না করে ধাপে ধাপে একটি নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই বাস্তবসম্মত পথ।শহীদনগর–সুকুমপট্টি–পাঠাননগরসহ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর সব অটোরিকশা গ্যারেজের তালিকা তৈরি। প্রতিটি চার্জিং পয়েন্টের বিদ্যুৎ মিটার, সংযোগের ধরন ও অনুমোদিত লোড যাচাই। অবৈধ সংযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
অনুমোদিত বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ও নিরাপদ চার্জিং পয়েন্ট স্থাপনের উদ্যোগ।অটোরিকশার নিবন্ধন, পরিচয় নম্বর ও নির্দিষ্ট রুট নির্ধারন।ব্যস্ত সড়ক ও আবাসিক গলিতে যত্রতত্র পার্কিং বন্ধ করে নির্দিষ্ট স্ট্যান্ড নির্ধারণ।
বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বয়ে নিয়মিত পরিদর্শন ও নজরদারি চাই, শুধু অভিযান নয়নারায়ণগঞ্জে ইতোমধ্যে অটোরিকশা গ্যারেজে অবৈধ সংযোগবিরোধী অভিযান হয়েছে। ফলে বিষয়টি যে প্রশাসনের নজরের বাইরে নয়, তা স্পষ্ট।কিন্তু একদিনের অভিযান দিয়ে দীর্ঘমেয়াদি সমস্যার সমাধান হবে না। প্রয়োজন একটি এলাকাভিত্তিক ডাটাবেস, বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা, নিয়মিত বিদ্যুৎ সংযোগ পরীক্ষা, নির্দিষ্ট পার্কিং এবং রুটভিত্তিক চলাচল।শহীদনগর, সুকুমপট্টি ও পাঠাননগরের বাসিন্দাদের প্রত্যাশা—অটোরিকশা বন্ধ নয়, বরং অনিয়ম বন্ধ হোক। বিদ্যুৎ চুরি থাকলে তা বন্ধ হোক, বৈধ চার্জিং ব্যবস্থা গড়ে উঠুক, সড়ক দখলমুক্ত থাকুক এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হোক।সমাধানে প্রয়োজন সমন্বিত উদ্যোগস্থানীয়দের দাবি, অটোরিকশা হঠাৎ উচ্ছেদ নয়; বরং নিবন্ধন, নির্দিষ্ট রুট ও পার্কিং ব্যবস্থা চালু করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অবৈধ সংযোগ থাকলে তা শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা এবং বৈধ বাণিজ্যিক মিটারের মাধ্যমে নির্দিষ্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া যেতে পারে।বিদ্যুৎ বিভাগ, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন, জেলা প্রশাসন ও ট্রাফিক পুলিশের সমন্বিত তদারকির মাধ্যমে শহীদনগর–সুকুমপট্টি–পাঠাননগরের অটোরিকশা ও চার্জিং ব্যবস্থাকে নিয়মের মধ্যে আনার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
ঢাকা
,
শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
চার্জিং গ্যারেজে অটোরিকশার ভিড়, চাপে শহীদনগর–সুকুমপট্টি–পাঠাননগর
-
রুদ্রকন্ঠ ডেস্ক : - আপডেট সময় ০৭:১৬:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 0
জনপ্রিয় সংবাদ


















