ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?

বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মাধবপাশা মৌজার একখণ্ড জমি কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের বিচারাধীন মামলা ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে জায়গা মেপে দখলের অপচেষ্টা চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বিবাদী পক্ষ এম আর জালাল ওরফে টাউট জালাল ও জনিসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জামাল উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে ও সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, ১নং নয়ানগর, বন্দর, নারায়ণগঞ্জের মাধবপাশা মৌজার (জেএল নং ২৬২) ৩২১ নং দাগের জায়গাটি দলিল, সিএস (ঈঝ) এবং আরএস (জঝ) রেকর্ড অনুযায়ী বিল্লাল হোসেনের নামে রেকর্ডভুক্ত। জমিটির খতিয়ান, পর্চা এবং ক্রয়সূত্রে মূল মালিকানা বিল্লাল হোসেনের নামেই বহাল রয়েছে এবং আজ অব্দি তা অপরিবর্তিত। বর্তমানে বিতর্কিত এই ৩২০ দাগের জমিতে একটি ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।

৩২১ দাগের জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, আইনগতভাবে কোনো বিতর্কিত বা বিচারাধীন জমির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল মহামান্য আদালতের। প্রতিপক্ষ যদি জমিতে কোনো সত্য বা অধিকার দাবি করে থাকে, তবে তাদের উচিত আদালতের মাধ্যমে রায় নিয়ে জমি মাপার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। আদালতের আদেশ ব্যতীত জোরপূর্বক জমি মাপা বা দখলের চেষ্টা করা সরাসরি মহামান্য আদালত অবমাননার শামিল।

অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী ‘জালাল-জনি গং’ তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে জোরপূর্বক জমিটি মেপে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের পক্ষে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বন্দর থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন উপর মহলের চাপ বা অযুহাত দেখিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা না করেই বিবাদীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি জমিটি মেপে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন-তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন একপেশে পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফারুক মিয়া প্রশ্ন তোলেন, যদি আইন ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা নিজ হাতে আইন তুলে নেন এবং সিদ্ধান্ত জারি করেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে আদালতের গুরুত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে বেআইনি মাপজোখ বন্ধ করে আদালতের আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইতিহাস গড়ে টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি

বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন?

আপডেট সময় ০৩:১৬:৪০ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

বন্দর প্রতিনিধি: নারায়ণগঞ্জ জেলার বন্দর থানাধীন মাধবপাশা মৌজার একখণ্ড জমি কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। আদালতের বিচারাধীন মামলা ও বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও প্রশাসনিক, রাজনৈতিক এবং আর্থিক প্রভাব খাটিয়ে জায়গা মেপে দখলের অপচেষ্টা চালানোর মারাত্মক অভিযোগ উঠেছে বিবাদী পক্ষ এম আর জালাল ওরফে টাউট জালাল ও জনিসহ তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে। এতে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ জামাল উদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধানে ও সংগৃহীত তথ্যে জানা যায়, ১নং নয়ানগর, বন্দর, নারায়ণগঞ্জের মাধবপাশা মৌজার (জেএল নং ২৬২) ৩২১ নং দাগের জায়গাটি দলিল, সিএস (ঈঝ) এবং আরএস (জঝ) রেকর্ড অনুযায়ী বিল্লাল হোসেনের নামে রেকর্ডভুক্ত। জমিটির খতিয়ান, পর্চা এবং ক্রয়সূত্রে মূল মালিকানা বিল্লাল হোসেনের নামেই বহাল রয়েছে এবং আজ অব্দি তা অপরিবর্তিত। বর্তমানে বিতর্কিত এই ৩২০ দাগের জমিতে একটি ভবন নির্মাণাধীন রয়েছে।

৩২১ দাগের জমিটির মালিকানা ও দখল নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। ভুক্তভোগীর দাবি, আইনগতভাবে কোনো বিতর্কিত বা বিচারাধীন জমির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার এখতিয়ার কেবল মহামান্য আদালতের। প্রতিপক্ষ যদি জমিতে কোনো সত্য বা অধিকার দাবি করে থাকে, তবে তাদের উচিত আদালতের মাধ্যমে রায় নিয়ে জমি মাপার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা। আদালতের আদেশ ব্যতীত জোরপূর্বক জমি মাপা বা দখলের চেষ্টা করা সরাসরি মহামান্য আদালত অবমাননার শামিল।

অভিযোগ উঠেছে, বিবাদী ‘জালাল-জনি গং’ তাদের অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে জোরপূর্বক জমিটি মেপে নেওয়ার চক্রান্ত করছে। ভুক্তভোগী বিল্লাল হোসেনের পক্ষে সমস্ত বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বন্দর থানার ওসি মোঃ জামাল উদ্দিন উপর মহলের চাপ বা অযুহাত দেখিয়ে কাগজপত্র পর্যালোচনা না করেই বিবাদীর পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। এমনকি জমিটি মেপে দেওয়ার জন্য পুলিশ প্রশাসন থেকে একটি নির্দিষ্ট দিন-তারিখও নির্ধারণ করা হয়েছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি এবং আইনের শাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানোর নামান্তর।

আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এমন একপেশে পদক্ষেপে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে ভুক্তভোগী রেমিট্যান্স যোদ্ধা ফারুক মিয়া প্রশ্ন তোলেন, যদি আইন ও আদালতের বিচার প্রক্রিয়াকে তোয়াক্কা না করে পুলিশ প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতারা নিজ হাতে আইন তুলে নেন এবং সিদ্ধান্ত জারি করেন, তবে সাধারণ মানুষের কাছে আদালতের গুরুত্ব কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

এ ঘটনায় স্থানীয় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। অনতিবিলম্বে বেআইনি মাপজোখ বন্ধ করে আদালতের আইনগত প্রক্রিয়া বজায় রাখার জন্য ঊর্ধ্বতন পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার। এ বিষয়ে বন্দর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জামাল উদ্দিনের বক্তব্য নেওয়ার জন্য তাঁর মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে এ বিষয়ে তাঁর কোনো মন্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।