ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল Logo নাসিকের হাজার কোটির বাজেট ঘোষণা করলেন সাখাওয়াত Logo আপনারা হাসিনার চেয়ে কম ফ্যাসিস্ট, কম সন্ত্রাসী: এমপি আল আমিন Logo র‍্যাবের ছায়া দেখলেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হতো: এমপি কালাম Logo বিডিএস উইং’-এর ব্যানারে ডা. হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

সীমান্তে ভারতের পুশ-ইন নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে জাতিগত বাঙালি, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধবার (১৭ জুন) এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে।

প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, চলতি মাসের ১ জুন থেকে বাংলাদেশে দুই শতাধিক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার অন্তত ২১টি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব মানুষের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

সরকারকে অবিলম্বে এসব অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’
সীমান্তে মানবিক সংকট
সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এমন অন্তত নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে বিভিন্ন দলকে কাঁটাতারের বেড়া কেটে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলায় গত ৫ জুন ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, ওই ব্যক্তিদের জিরো লাইনে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে রাত কাটাতে হয়। একাধিক পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।

একইভাবে ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুইটি পরিবারের ছয় সদস্য এবং ৮ জুন এক গর্ভবতী নারী ও তার শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকা ছিলেন। পরে বিএসএফ তাদেরও ফিরিয়ে নেয়।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ, এরপর আটক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মার্চের নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনেকের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি পরিবার, যাদের কাছে ভারতের আধার কার্ড ছিল এবং যারা একাধিকবার ভোট দিয়েছেন, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আসামে ‘পুশ অ্যাক্রস দ্য বর্ডার’ মন্তব্য
ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যাই এবং আক্ষরিক অর্থেই সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিই।’

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি।

বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া সীমান্তে কাউকে ঠেলে দিলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই এবং নাগরিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আটকা পড়ে মানবিক সংকটে পড়ছেন।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘কোনো মানুষ, তার নাগরিকত্ব যাই হোক না কেন, দুই দেশের সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীদের মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য হতে পারে না। ভারতকে এই নির্মম বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং উভয় দেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে মানবিক মর্যাদা আর কখনো ক্ষুণ্ন না হয়।’

আপলোডকারীর তথ্য

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ

সীমান্তে ভারতের পুশ-ইন নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের উদ্বেগ

আপডেট সময় ০১:৪৬:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে জাতিগত বাঙালি, বিশেষ করে মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বাংলাদেশে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়ার (পুশ-ইন) কথা উল্লেখ করে এ বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ)।

বুধবার (১৭ জুন) এক প্রতিবেদনে সংস্থাটি বলেছে, ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ও বাংলাদেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর (বিজিবি) পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে বহু পরিবার সীমান্তের ‘জিরো লাইনে’ মানবেতর পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছে।

প্রতিবেদনে এইচআরডব্লিউ জানায়, চলতি মাসের ১ জুন থেকে বাংলাদেশে দুই শতাধিক মানুষকে ঠেলে দেওয়ার অন্তত ২১টি চেষ্টা প্রতিহত করেছে বিজিবি। এসব মানুষের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সম্প্রতি দাবি করেন, তার সরকারের ‘ডিটেক্ট, ডিলিট অ্যান্ড ডিপোর্ট’ নীতির আওতায় শত শত ‘বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীকে’ আটক করা হয়েছে এবং প্রায় পাঁচ হাজার মানুষকে ‘ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছে’।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের উপ-পরিচালক মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘ভারতীয় কর্তৃপক্ষ পরিবারগুলোকে নির্মমভাবে বাংলাদেশে ঠেলে দিচ্ছে কিংবা সীমান্তে ফেলে রাখছে, যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার লঙ্ঘন করছে।

সরকারকে অবিলম্বে এসব অবৈধ বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং নাগরিকত্ব যাচাইয়ে বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় করতে হবে।’
সীমান্তে মানবিক সংকট
সংস্থাটি জানিয়েছে, তারা এমন অন্তত নয়জন প্রত্যক্ষদর্শীর সঙ্গে কথা বলেছে, যারা দেখেছেন যে বিএসএফ সদস্যরা গভীর রাতে বিভিন্ন দলকে কাঁটাতারের বেড়া কেটে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করিয়ে দেয়।

বাংলাদেশের পঞ্চগড় জেলায় গত ৫ জুন ১০ জনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে প্রায় ৭৫ ঘণ্টার অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল হোসেন জানান, ওই ব্যক্তিদের জিরো লাইনে খোলা আকাশের নিচে বৃষ্টি ও বজ্রপাতের মধ্যে রাত কাটাতে হয়। একাধিক পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ শেষ পর্যন্ত তাদের ভারতে ফিরিয়ে নেয়।

একইভাবে ৬ জুন ঠাকুরগাঁও সীমান্তে দুইটি পরিবারের ছয় সদস্য এবং ৮ জুন এক গর্ভবতী নারী ও তার শিশুসহ ১১ জন প্রায় ৪৮ ঘণ্টা জিরো লাইনে আটকা ছিলেন। পরে বিএসএফ তাদেরও ফিরিয়ে নেয়।

ভোটার তালিকা থেকে বাদ, এরপর আটক
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে মার্চের নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে ভোটার তালিকা সংশোধনের মাধ্যমে ৯০ লাখেরও বেশি মানুষের নাম বাদ দেওয়া হয়। এরপর অনেকের বিরুদ্ধে আটক ও বহিষ্কারের আশঙ্কা তৈরি হয়।

পঞ্চগড় সদর ইউনিয়নের এক জনপ্রতিনিধি হিউম্যান রাইটস ওয়াচকে জানান, পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ির একটি পরিবার, যাদের কাছে ভারতের আধার কার্ড ছিল এবং যারা একাধিকবার ভোট দিয়েছেন, তাদের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার পর পুলিশ আটক করে বিএসএফের কাছে হস্তান্তর করে। পরে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়।

আসামে ‘পুশ অ্যাক্রস দ্য বর্ডার’ মন্তব্য
ভারতের আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বারবার বাংলা ভাষাভাষী মুসলমানদের ‘অবৈধ অভিবাসী’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সম্প্রতি তিনি বলেন, ‘আমরা তাদের সীমান্তের কাছাকাছি নিয়ে যাই এবং আক্ষরিক অর্থেই সীমান্তের ওপারে ঠেলে দিই।’

মানবাধিকার সংস্থাটি বলছে, এ ধরনের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনের পরিপন্থি।

বাংলাদেশের অবস্থান
বাংলাদেশ সরকার স্পষ্ট জানিয়েছে, আইনি প্রক্রিয়া ও নাগরিকত্ব যাচাই ছাড়া সীমান্তে কাউকে ঠেলে দিলে তাদের গ্রহণ করা হবে না। প্রত্যাবাসনের ক্ষেত্রে দুই দেশের বিদ্যমান দ্বিপক্ষীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

হিউম্যান রাইটস ওয়াচের মতে, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে নাগরিকত্ব যাচাই এবং নাগরিক প্রত্যাবাসনের জন্য প্রতিষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা রয়েছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণ মানুষ দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে আটকা পড়ে মানবিক সংকটে পড়ছেন।

মীনাক্ষী গাঙ্গুলি বলেন, ‘কোনো মানুষ, তার নাগরিকত্ব যাই হোক না কেন, দুই দেশের সশস্ত্র সীমান্তরক্ষীদের মাঝখানে খোলা মাঠে রাত কাটাতে বাধ্য হতে পারে না। ভারতকে এই নির্মম বহিষ্কার বন্ধ করতে হবে এবং উভয় দেশকে নিশ্চিত করতে হবে যে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার নামে মানবিক মর্যাদা আর কখনো ক্ষুণ্ন না হয়।’