ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

জুলাইকে ধারণ মানে শুধু দিবস পালন নয়, বৈষম্যহীন সমাজ গড়া: ডিসি

জুলাইকে ধারণ করা মানে শুধু একটি দিন দিবস পালন, শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়া নয়; জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এমন মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি হোক কিংবা সাধারণ নাগরিক প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল এর লক্ষ্য। এই অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই প্রশাসন একা করেনি। সেখানে রাজনৈতিক দলের লোকজন, সমাজের নাগরিকসহ সবাই ছিল। যে যার মতো ভূমিকা রেখেছে। তাই প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে আমরা সঠিক পথে আছি কি না এবং যে স্পিরিট নিয়ে জুলাই আন্দোলন করেছি, সেই স্পিরিটে এখনো আছি কি না।’

রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চাই। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি নাগরিকই আমাদের নাগরিক। যারা দেশ, সমাজ ও মানুষকে ভালোবাসেন এবং বৈষম্যহীন সমাজ চান, তাঁদের সবাইকে নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই।’

পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের সব সমস্যা একক কোনো প্রতিষ্ঠান সমাধান করতে পারে না। কিছু বিষয় সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে, কিছু পুলিশ ও কিছু আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে। এজন্য পঞ্চায়েত ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার তাঁদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েছে। তবে তা যথেষ্ট নয়। শহীদ পরিবারগুলোর মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেই নেতা হওয়ার জন্য আন্দোলনে যায়নি। একজন সাধারণ মানুষ আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাই শহীদ পরিবারের হয়ে কথা বলার দায়িত্ব আমাদের। তাঁদের খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের অংশ।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জুলাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। জুলাই যোদ্ধা, তাঁদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন, সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাদিয়া আক্তার, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, আমির মাওলানা আবদুল জব্বার, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগরীর জাবেদ আলমসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

জুলাইকে ধারণ মানে শুধু দিবস পালন নয়, বৈষম্যহীন সমাজ গড়া: ডিসি

আপডেট সময় ১২:২২:০৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ জুলাই ২০২৬

জুলাইকে ধারণ করা মানে শুধু একটি দিন দিবস পালন, শ্রদ্ধাঞ্জলি দেওয়া বা শহীদ পরিবারের সদস্যদের চাকরি দেওয়া নয়; জুলাই বিপ্লবের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠা করা এমন মন্তব্য করেছেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মো. রায়হান কবির।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

জেলা প্রশাসক বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব হয়েছিল একটি বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য। জুলাই আন্দোলনে অংশ নেওয়া ব্যক্তি হোক কিংবা সাধারণ নাগরিক প্রত্যেকের অধিকার নিশ্চিত করাই ছিল এর লক্ষ্য। এই অধিকার প্রতিষ্ঠা নিয়ে আমাদের কাজ করতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘জুলাই প্রশাসন একা করেনি। সেখানে রাজনৈতিক দলের লোকজন, সমাজের নাগরিকসহ সবাই ছিল। যে যার মতো ভূমিকা রেখেছে। তাই প্রতিনিয়ত নিজেদের প্রশ্ন করতে হবে আমরা সঠিক পথে আছি কি না এবং যে স্পিরিট নিয়ে জুলাই আন্দোলন করেছি, সেই স্পিরিটে এখনো আছি কি না।’

রায়হান কবির বলেন, ‘আমরা সমন্বিত উদ্যোগ নিতে চাই। নারায়ণগঞ্জের প্রতিটি নাগরিকই আমাদের নাগরিক। যারা দেশ, সমাজ ও মানুষকে ভালোবাসেন এবং বৈষম্যহীন সমাজ চান, তাঁদের সবাইকে নিয়েই আমরা কাজ করতে চাই।’

পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ নারায়ণগঞ্জ গড়ার বিষয়ে তিনি বলেন, সমাজের সব সমস্যা একক কোনো প্রতিষ্ঠান সমাধান করতে পারে না। কিছু বিষয় সমাজব্যবস্থার মাধ্যমে, কিছু পুলিশ ও কিছু আদালতের মাধ্যমে সমাধান হবে। এজন্য পঞ্চায়েত ও কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

জুলাইয়ে নিহত ও আহতদের পরিবারের বিষয়ে জেলা প্রশাসক বলেন, সরকার তাঁদের জন্য বিভিন্ন প্রণোদনা দিয়েছে। তবে তা যথেষ্ট নয়। শহীদ পরিবারগুলোর মর্যাদা ও সামাজিক অবস্থান নিশ্চিত করা সবার দায়িত্ব।

তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকেই নেতা হওয়ার জন্য আন্দোলনে যায়নি। একজন সাধারণ মানুষ আন্দোলনে গিয়ে শহীদ হয়েছেন। তাই শহীদ পরিবারের হয়ে কথা বলার দায়িত্ব আমাদের। তাঁদের খোঁজখবর রাখা এবং প্রয়োজনের সময় পাশে দাঁড়ানোই জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নের অংশ।’

জেলা প্রশাসক আরও বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকলেও জুলাইয়ের প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব নিয়ে কারও দ্বিমত নেই। জুলাই যোদ্ধা, তাঁদের পরিবার এবং ক্ষতিগ্রস্তদের সঙ্গে নিয়ে আন্দোলনের উদ্দেশ্য ও স্বপ্ন বাস্তবায়নে সবাইকে কাজ করতে হবে।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল আমিন, নাসিক প্রশাসক অ্যাডভোকেট সাখাওয়াত হোসেন খান, জেলা পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান মুন্সি, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সিফাত উদ্দিন, সদর উপজেলার সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সাদিয়া আক্তার, মহানগর বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবু আল ইউসুফ খান টিপু, মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সাবেক আমির মাওলানা মঈনুদ্দিন আহমাদ, আমির মাওলানা আবদুল জব্বার, গণসংহতি আন্দোলন জেলার সমন্বয়কারী তারিকুল ইসলাম সুজন, জেলা এনসিপির সাংগঠনিক সম্পাদক নিরব রায়হান, মহানগরীর জাবেদ আলমসহ জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্য ও আহতরা উপস্থিত ছিলেন।