ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo ‘আবেদন ছাড়াই’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, সাবেক ইউএনও নাহিদা বারিক ওএসডি Logo পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী-কারবারিসহ গ্রেপ্তার ১৪০ Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা Logo কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন Logo বন্দরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-ছেলে নিহত Logo টানবাজারের জামাল ইয়ার্নের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা Logo নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতার আহ্বান Logo বন্দরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে পেপার মিলে চাঁদা দাবি, হুমকি Logo চট্টগ্রাম নগরীর ২০ ও ৩২ নং ওয়ার্ডে বি এন পির নাম ব্যাবহার করে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ উটেছে স্তানীয় কিছু অসাধু,পাতি নেতার বিরুদ্ধে

ফারজানার মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পর একটি চিঠি পাওয়ার তথ্য এবং পুলিশের তদন্তের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত প্রায় ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুলও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের পর ফারজানাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাঁর বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পরও অর্থের দাবি ও নির্যাতন চলতে থাকে বলে দাবি স্বজনদের।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁর বোন বাবার বাড়িতে চলে যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। পরে আর নির্যাতন করা হবে না এমন আশ্বাসে দুই পরিবারের সমঝোতায় মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আরিফুলের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ফারজানার মৃত্যুর পর পাওয়া একটি চিঠি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁরা কোনো চিঠি দেখেননি। পুলিশও তখন চিঠির কথা জানায়নি। অথচ পরদিন দুপুরে চিঠি পাওয়ার তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি কখন, কোথায় ও কীভাবে উদ্ধার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

ফারজানার মৃত্যু ঘিরে রহস্য, পরিবারের দাবি পরিকল্পিত হত্যা

আপডেট সময় ১২:০৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় স্বামীর বাসা থেকে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ফারজানা ইসলামের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন নির্যাতনের পর তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর পর একটি চিঠি পাওয়ার তথ্য এবং পুলিশের তদন্তের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনেরা।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত প্রায় ১১টার দিকে ফতুল্লার সাইনবোর্ড এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ফারজানার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাঁর স্বামী নাজমুল ইসলামকে হেফাজতে নেওয়া হয়।

ফারজানা কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসি বিভাগের স্নাতকোত্তর শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিলেন। তাঁর স্বামী নাজমুলও একই বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী।

পরিবারের অভিযোগ, প্রেমের সম্পর্ক থেকে বিয়ের পর ফারজানাকে বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হতো। তাঁর বাবার বাড়ি থেকে বিভিন্ন সময়ে পাঁচ থেকে সাত লাখ টাকা নেওয়া হয়। নাজমুল চাকরি পাওয়ার পরও অর্থের দাবি ও নির্যাতন চলতে থাকে বলে দাবি স্বজনদের।

ফারজানার ভাই আরিফুল ইসলাম জানান, গত বছরের ডিসেম্বরে নির্যাতনের শিকার হয়ে তাঁর বোন বাবার বাড়িতে চলে যান। চলতি বছরের জানুয়ারিতে স্বামীর বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের মামলা করেন। পরে আর নির্যাতন করা হবে না এমন আশ্বাসে দুই পরিবারের সমঝোতায় মামলা প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

আরিফুলের অভিযোগ, মামলা প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরই তাঁর বোনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগেও বোনের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে কথা হয়েছিল বলে জানান তিনি।

ফারজানার মৃত্যুর পর পাওয়া একটি চিঠি নিয়েও সংশয় প্রকাশ করেছেন স্বজনেরা। তাঁদের দাবি, মরদেহ উদ্ধারের সময় তাঁরা কোনো চিঠি দেখেননি। পুলিশও তখন চিঠির কথা জানায়নি। অথচ পরদিন দুপুরে চিঠি পাওয়ার তথ্য জানানো হয়। চিঠিটি কখন, কোথায় ও কীভাবে উদ্ধার করা হয়েছে, তা স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এর আগে ফতুল্লা থানার উপপরিদর্শক গাজী সুমন মাহতাব জানান, ঘটনাস্থলে গিয়ে ফারজানাকে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে মনে হলেও ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ছাড়া মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।