ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল Logo নাসিকের হাজার কোটির বাজেট ঘোষণা করলেন সাখাওয়াত Logo আপনারা হাসিনার চেয়ে কম ফ্যাসিস্ট, কম সন্ত্রাসী: এমপি আল আমিন Logo র‍্যাবের ছায়া দেখলেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হতো: এমপি কালাম Logo বিডিএস উইং’-এর ব্যানারে ডা. হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

কাঁকড়ায় খাওয়া-কাটা ইলিশে সাধ মেটাচ্ছে মধ্যবিত্তরা

‘আমরা যদি সকালে ৫০ কেজি মাছ কিনি তাহলে ৪০ কেজি কিনি কাটা মাছ আর ১০ কেজি কিনি ভালো মাছ। এখন ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৫০০ টাকার ওপর, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১২০০ টাকার ওপর। এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই সমুদ্র থেকে জেলেদের নিয়ে আসা অর্ধ-কাটা মাছগুলোতেই মধ্যবিত্তদের চাহিদা বেশি।’

কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশেই অবস্থান করা আলীপুর বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন।

শুধু মিলন নন, আলিপুর বাজারের ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ভাষ্য এমন। শনিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ও সন্ধ্যার পর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, জেলেদের কাছ থেকে কিনে আনা মাছের মাথা কাটা, লেজ কাটা, মাছের মধ্যাংশ কাটা। এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। আবার মাঝারি সাইজের মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছের পরিমাণ যখন বৃদ্ধি পায় তখন কাটা মাছের দাম কিছুটা কমে, আবার যখন মাছের পরিমাণ কমে যায় তখন এর দামও বৃদ্ধি পায়।

জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেরা যখন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের জন্য জাল ফেলেন, তখন অনেক মাছ জালে আটকে কাটা পড়ে, কাঁকড়ায় কেটে দেয়। এছাড়া সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছ ইলিশের একাংশ কেটে খেয়ে ফেলে। এই মাছগুলো যখন অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসে তখন বেছে বেছে আলাদা করা হয় এবং কম দামে পাইকাররা কিনে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করেন।

মাছ কিনতে আসা মো. ইউনুস জানান, ৪-৫ বছর আগে ইলিশ খুব সস্তা ছিল। অনেক বড় এবং ভালো ইলিশ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি ছিল। কিন্তু এখন একটি এক কেজির ইলিশ দুই হাজার টাকার ওপর। তাই এখন গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পক্ষে ইলিশ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই কাটা ও পচা মাছ কিনছেন।

আবুল বাসার নামের এক ক্রেতা বলেন, ইলিশ কিনতে বাজারে এসেছি, কিন্তু এসে দেখি ভালো ইলিশের অনেক দাম। অটোরিকশা চালিয়ে যা আমার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। তাই কাটা ইলিশের দাম জিজ্ঞেস করছি। ছোট-বড় মেলানো এক কেজি কাটা ইলিশ চাচ্ছে ৩৫০ টাকা। এখন দেখছি কাটা ইলিশ কেনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেখি যদি আরেকটু কমে পাই তাহলে এক কেজি কাটা ইলিশ নিয়ে বাড়িতে যাব।

বাজারে আব্দুল্লাহ নামের এক মাছ বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর যেভাবে সমুদ্রের মাছ কমছে, তাতে আগামী দু-এক বছর পর কাটা ইলিশও মানুষ পাবে না। যদি সমুদ্রে ইলিশ না থাকে, তাহলে কাটা ইলিশ কোথা থেকে আসবে। তাই সরকারের উচিত কেন ইলিশ কমছে সেটার দিকে নজর দেওয়া। না হলে আমরা যারা জেলে ও মৎস্য পেশায় রয়েছি, আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ

কাঁকড়ায় খাওয়া-কাটা ইলিশে সাধ মেটাচ্ছে মধ্যবিত্তরা

আপডেট সময় ১১:৩৪:২৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৫

‘আমরা যদি সকালে ৫০ কেজি মাছ কিনি তাহলে ৪০ কেজি কিনি কাটা মাছ আর ১০ কেজি কিনি ভালো মাছ। এখন ৭০০-৮০০ গ্রামের ইলিশের কেজি ১৫০০ টাকার ওপর, ৫০০ গ্রামের ইলিশ ১২০০ টাকার ওপর। এগুলো সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে। তাই সমুদ্র থেকে জেলেদের নিয়ে আসা অর্ধ-কাটা মাছগুলোতেই মধ্যবিত্তদের চাহিদা বেশি।’

কথাগুলো বলছিলেন পটুয়াখালীর বড় মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রের পাশেই অবস্থান করা আলীপুর বাজারের খুচরা মাছ বিক্রেতা মো. মিলন হোসেন।

শুধু মিলন নন, আলিপুর বাজারের ক্ষুদ্র মৎস্য ব্যবসায়ীদের অনেকেরই ভাষ্য এমন। শনিবার (১৬ জুলাই) বিকেল ও সন্ধ্যার পর বাজারের বেশ কয়েকটি দোকান ঘুরে দেখা যায়, জেলেদের কাছ থেকে কিনে আনা মাছের মাথা কাটা, লেজ কাটা, মাছের মধ্যাংশ কাটা। এসব মাছ বিক্রি হচ্ছে ৩৫০ টাকা কেজি দরে। আবার মাঝারি সাইজের মাছগুলো বিক্রি হচ্ছে ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা দরে। মৎস্য অবতরণ কেন্দ্রে মাছের পরিমাণ যখন বৃদ্ধি পায় তখন কাটা মাছের দাম কিছুটা কমে, আবার যখন মাছের পরিমাণ কমে যায় তখন এর দামও বৃদ্ধি পায়।

জেলে ও মৎস্য ব্যবসায়ীরা জানান, জেলেরা যখন গভীর সমুদ্রে মাছ শিকারের জন্য জাল ফেলেন, তখন অনেক মাছ জালে আটকে কাটা পড়ে, কাঁকড়ায় কেটে দেয়। এছাড়া সামুদ্রিক বিভিন্ন মাছ ইলিশের একাংশ কেটে খেয়ে ফেলে। এই মাছগুলো যখন অবতরণ কেন্দ্রে নিয়ে আসে তখন বেছে বেছে আলাদা করা হয় এবং কম দামে পাইকাররা কিনে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করেন।

মাছ কিনতে আসা মো. ইউনুস জানান, ৪-৫ বছর আগে ইলিশ খুব সস্তা ছিল। অনেক বড় এবং ভালো ইলিশ ২০০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি ছিল। কিন্তু এখন একটি এক কেজির ইলিশ দুই হাজার টাকার ওপর। তাই এখন গরিব ও মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষের পক্ষে ইলিশ কিনে খাওয়া সম্ভব নয়। তাই এই কাটা ও পচা মাছ কিনছেন।

আবুল বাসার নামের এক ক্রেতা বলেন, ইলিশ কিনতে বাজারে এসেছি, কিন্তু এসে দেখি ভালো ইলিশের অনেক দাম। অটোরিকশা চালিয়ে যা আমার পক্ষে কেনা সম্ভব নয়। তাই কাটা ইলিশের দাম জিজ্ঞেস করছি। ছোট-বড় মেলানো এক কেজি কাটা ইলিশ চাচ্ছে ৩৫০ টাকা। এখন দেখছি কাটা ইলিশ কেনাও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। দেখি যদি আরেকটু কমে পাই তাহলে এক কেজি কাটা ইলিশ নিয়ে বাড়িতে যাব।

বাজারে আব্দুল্লাহ নামের এক মাছ বিক্রেতা আক্ষেপ করে বলেন, প্রতি বছর যেভাবে সমুদ্রের মাছ কমছে, তাতে আগামী দু-এক বছর পর কাটা ইলিশও মানুষ পাবে না। যদি সমুদ্রে ইলিশ না থাকে, তাহলে কাটা ইলিশ কোথা থেকে আসবে। তাই সরকারের উচিত কেন ইলিশ কমছে সেটার দিকে নজর দেওয়া। না হলে আমরা যারা জেলে ও মৎস্য পেশায় রয়েছি, আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যাবে।