ঢাকা , মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সিদ্ধিরগঞ্জে আবাসিক হোটেল শীতলক্ষ্যা থেমে নেই শাহিনের পতিতা ও মাদক ব্যবসা, দেখার যেন কেউ নেই Logo নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা থানাধীন নন্দলালপুর, কুতুবপুর ইন্ডাস্ট্রিজ এলাকায় অভিনব কায়দায় সরকারি গ্যাসের বিলের টাকা আত্মসাৎ Logo তিন মাসের ভিসার ফাঁদে সৌদি প্রবাস—দালাল চক্রের প্রতারণায় সর্বস্বান্ত হাজারো বাংলাদেশি। দালাল চক্র বছরের হাতিয়ে নিচ্ছে প্রায় ৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা। Logo ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ে নিউজিল্যান্ডের কাছে বিধ্বস্ত বাংলাদেশ Logo ইরানের সঙ্গে খুব বেশি ‘গুরুত্বপূর্ণ মতপার্থক্য’ নেই: ট্রাম্প Logo আগামীতে হজের খরচ আরও কমানোর আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর Logo ডিজেলের অভাবে বন্দর ঘাটে ট্রলার বন্ধের আশঙ্কা ইজারাদারের Logo শীতলক্ষ্যাকে বদলাতে না পারলে পরিবর্তন সম্ভব নয়: সাখাওয়াত Logo স্ত্রীকে নিয়ে ঈদে গ্রামে যাবার কথা রানার, বাড়ি ফিরলো লাশ Logo অন্যায়কারী আমার দলের হলেও প্রশ্রয় দেবেন না: এমপি আল আমিন

ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গল্লিতে জলাবদ্ধতা,  ডেঙ্গু ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে

মোঃ মামুন হোসেন : নারায়ণগঞ্জের গোগনগর এলাকার পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গলির রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন, ফলে এলাকাটি যেন স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে নোংরা পানি জমে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্কদের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।এলাকার বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তা ডুবে যায়। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েকদিন পর্যন্ত এই পানি জমে থাকে, এতে করে খুব কষ্ট করে চলাফেরা করতে হয়।” একই এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম জানান, “এই নোংরা পানির কারণে আমাদের বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মশার উপদ্রব এত বেশি যে রাতে ঘুমানোই দায় হয়ে গেছে।”স্থানীয়দের মতে, রাস্তার দুই পাশে কোনো সঠিক ড্রেন না থাকায় বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি ও বৃষ্টির পানি সরাসরি রাস্তায় জমে থাকে। ফলে একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, অন্যদিকে পরিবেশও হয়ে উঠছে বসবাসের অযোগ্য। পানি জমে থাকার কারণে রাস্তায় কাদা সৃষ্টি হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রায়ই মোটরসাইকেল বা রিকশা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জলাবদ্ধতা শুধু জনদুর্ভোগই সৃষ্টি করে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়, যা ডেঙ্গুর প্রধান বাহক। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে গোগনগর পূর্ব মসিনাবন্দের মসজিদ গলিতে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তার সংস্কার এখন সময়ের দাবি। একটি উন্নত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করলে শুধু জলাবদ্ধতা দূর হবে না, বরং এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
অতএব, সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক—এটাই সকলের প্রত্যাশা।এলাকাবাসী আরও জানান, তারা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। এতে করে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।এ বিষয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। খুব শিগগিরই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।” তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।সচেতন মহল মনে করছে, নগরায়ণের এই সময়ে মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা অবহেলার কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গল্লির ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী, যাতে করে তারা স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সিদ্ধিরগঞ্জে আবাসিক হোটেল শীতলক্ষ্যা থেমে নেই শাহিনের পতিতা ও মাদক ব্যবসা, দেখার যেন কেউ নেই

ড্রেনেজ ব্যবস্থার অভাবে পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গল্লিতে জলাবদ্ধতা,  ডেঙ্গু ও জনদুর্ভোগ বাড়ছে

আপডেট সময় ০৩:৫১:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
মোঃ মামুন হোসেন : নারায়ণগঞ্জের গোগনগর এলাকার পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গলির রাস্তায় দীর্ঘদিন ধরে কার্যকর কোনো ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাজুড়ে পানি জমে থাকে দিনের পর দিন, ফলে এলাকাটি যেন স্থায়ী জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে আছে। এ পরিস্থিতিতে একদিকে যেমন মানুষের চলাচল বিঘ্নিত হচ্ছে, অন্যদিকে নোংরা পানি জমে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগের ঝুঁকিও আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তারা এ সমস্যার সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্বারস্থ হলেও কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। ফলে বছরের পর বছর ধরে একই দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে এলাকাবাসীকে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। রাস্তায় হাঁটুসমান পানি জমে থাকায় স্কুলগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও বয়স্কদের চলাচল প্রায় অচল হয়ে পড়ে।এলাকার বাসিন্দা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, “একটু বৃষ্টি হলেই আমাদের রাস্তা ডুবে যায়। পানি নামার কোনো ব্যবস্থা নেই। কয়েকদিন পর্যন্ত এই পানি জমে থাকে, এতে করে খুব কষ্ট করে চলাফেরা করতে হয়।” একই এলাকার গৃহিণী রহিমা বেগম জানান, “এই নোংরা পানির কারণে আমাদের বাচ্চারা প্রায়ই অসুস্থ হয়ে পড়ে। মশার উপদ্রব এত বেশি যে রাতে ঘুমানোই দায় হয়ে গেছে।”স্থানীয়দের মতে, রাস্তার দুই পাশে কোনো সঠিক ড্রেন না থাকায় বাসাবাড়ির ব্যবহৃত পানি ও বৃষ্টির পানি সরাসরি রাস্তায় জমে থাকে। ফলে একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছড়ায়, অন্যদিকে পরিবেশও হয়ে উঠছে বসবাসের অযোগ্য। পানি জমে থাকার কারণে রাস্তায় কাদা সৃষ্টি হয়, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে। প্রায়ই মোটরসাইকেল বা রিকশা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যাচ্ছে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের জলাবদ্ধতা শুধু জনদুর্ভোগই সৃষ্টি করে না, বরং জনস্বাস্থ্যের জন্যও মারাত্মক হুমকি। জমে থাকা পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হয়, যা ডেঙ্গুর প্রধান বাহক। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডেঙ্গুর প্রকোপ বৃদ্ধি পাওয়ায় এ ধরনের পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে এ এলাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকি দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।এমন পরিস্থিতিতে গোগনগর পূর্ব মসিনাবন্দের মসজিদ গলিতে দ্রুত ড্রেন নির্মাণ ও রাস্তার সংস্কার এখন সময়ের দাবি। একটি উন্নত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা নির্মাণ করলে শুধু জলাবদ্ধতা দূর হবে না, বরং এলাকাবাসীর জীবনযাত্রার মানও উন্নত হবে।
অতএব, সংশ্লিষ্ট সিটি কর্পোরেশন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের প্রতি বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি, বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করে জরুরী ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য। এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের এই ভোগান্তি নিরসনে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক—এটাই সকলের প্রত্যাশা।এলাকাবাসী আরও জানান, তারা একাধিকবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত ও মৌখিকভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন। কিন্তু আশ্বাস ছাড়া এখনো পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উন্নয়ন কাজ শুরু হয়নি। এতে করে মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা বাড়ছে।এ বিষয়ে স্থানীয় এক জনপ্রতিনিধি নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। খুব শিগগিরই ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়নের জন্য একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হবে।” তবে কবে নাগাদ কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে তিনি নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা উল্লেখ করেননি।এদিকে এলাকাবাসী দ্রুত এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান চান। তাদের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ড্রেন নির্মাণ, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ারও জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।সচেতন মহল মনে করছে, নগরায়ণের এই সময়ে মৌলিক নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করা স্থানীয় প্রশাসনের দায়িত্ব। ড্রেনেজ ব্যবস্থা একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো, যা অবহেলার কারণে জনজীবনে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি করছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে পূর্ব মসিনাবন্দ মসজিদ গল্লির ড্রেনেজ সমস্যার সমাধান না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে।এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী, যাতে করে তারা স্বাভাবিক ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশে বসবাস করতে পারেন।