ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির Logo ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব দিবসে নাঃগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালী Logo সিদ্ধিরগঞ্জে বিহারী পট্টি ৩নং বালুর মাঠে বাবলা ও হীরার রমরমা মাদক ব্যবসা; এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি Logo ইতিহাস গড়ে টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি Logo তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ Logo আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস Logo মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন Logo আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য আ.লীগের দোসর মানিকের ভবন নির্মাণ Logo বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিয়াপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ মেগা ফাইনাল

নবীন বরণ নিয়ে তোলারাম কলেজে উত্তেজনা, থামালেন অধ্যক্ষ

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনের নেতারা পাল্টাপাল্টি অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উভয়পক্ষের ছাত্র সংগঠনের নেতারা মুখোমুখি অবস্থানে দেখা যায়। পরে প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে সমাধান দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার এ প্রতিষ্ঠানের নবীন বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তবে, দিন নিয়ে আপত্তি জানায় ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি পক্ষ। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির, এনসিপি’র জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র মজলিসের নেতারাও ছিলেন।

তারা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই সংসদ সদস্য ও সিটি প্রশাসককে নিমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অতিথির তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও বিরোধীতা করেন। এ নিয়ে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে বাকি তিন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র শিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র মজলিসের নেতারা বেলা এগারোটায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। কিন্তু তাতে ছাত্রদলের নেতারা বাধা দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম অন্য শিক্ষকদের নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অধ্যক্ষ উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নবীন বরণ সকল সংগঠন ও সকল ছাত্রছাত্রীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত একটা অনুষ্ঠান। এটা অনেক বাস্তব কিছু কারণে শুক্রবার তারিখ রাখতে হয়েছে। কারণ কার্যদিবসগুলোতে পরীক্ষা চলছে। শনিবার আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে থাকবেন বলে শিডিউল পেছানো হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাক্সিক্ষত অনুষ্ঠানে বাধা আমরা চাই না। তাই নবীন বরণ বাস্তবায়ন কমিটি সবকিছু বিবেচনা করে দিন ঠিক করেছে। এখন পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিকভাবেই আমরা এগিয়ে আসছি। ফলে এ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।”

তবে, ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজ খান বলেন, “আমাদের কলেজে যেহেতু কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই, আমাদের দাবি ছিল- প্রত্যেকটি কার্যকর ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে পরামর্শ করে তারপরে যেন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হয়। আমরা দেখেছি যে পূর্বনির্ধারিত একটি কমিটি থাকলেও সেই কমিটি আমাদের সাথে কোনো প্রকার মতামত গ্রহণ না করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আমরা নিন্দা জানাই।”

অতিথিদের তালিকা নিয়েও আপত্তি জানান এ ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, “এই কলেজের মধ্যে পুরাতন যে ইতিহাস তা হচ্ছে- শামীম ওসমান আগে এই কলেজে ঢুকতো, তার সাথে তার ছেলে অয়ন ওসমান এখানে ঢুকতো। তার সাথে তাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা ঢুকতো। আমরা দেখতাম ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা স্টেজে দখল করে থাকতো। এবং সেভাবে দলীয়ভাবে প্রোগ্রামটা তারা পরিচালনা করতো। আমরা সহজ কথায় বলতে চাই- এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বাইরে কোনো দলীয় প্রভাব আমরা চাই না।”

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে তাতে ছাত্রদলের নেতারা বাধা দেন বলেও অভিযোগ করেন মাহফুজ।

কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, “কলেজ প্রশাসন কোনো ছাত্র সংগঠনের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ না করে এইভাবে প্রোগ্রাম রেখেছে। আমরা চাই এই প্রোগ্রামটা হোক। কিন্তু কলেজ প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে একেবারে একসাইড করে, অবহেলা করে শুধুমাত্র একটি সংগঠনকে বা একটি সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করছে। এটার নিন্দা জানাই।”

যদিও ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, “দুঃখজনকভাবে কিছু গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডাভিত্তিক সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরি করে অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। আমরা বিষয়টি শিক্ষকবৃন্দকে জানিয়েছি এবং সবাইকে অনুরোধ করেছি যেন এত কষ্ট, সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার পর আয়োজন হতে যাওয়া এই সুন্দর অনুষ্ঠানটি কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।”

একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির

নবীন বরণ নিয়ে তোলারাম কলেজে উত্তেজনা, থামালেন অধ্যক্ষ

আপডেট সময় ০১:০০:২৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী সরকারি তোলারাম কলেজে একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ উৎসবকে কেন্দ্র করে ছাত্র সংগঠনের নেতারা পাল্টাপাল্টি অবস্থানে থাকায় উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) দুপুরে উভয়পক্ষের ছাত্র সংগঠনের নেতারা মুখোমুখি অবস্থানে দেখা যায়। পরে প্রতিষ্ঠান প্রধান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বিষয়টি নিয়ে আলাপ করে সমাধান দেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, শুক্রবার এ প্রতিষ্ঠানের নবীন বরণ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। তবে, দিন নিয়ে আপত্তি জানায় ছাত্র সংগঠনগুলোর একটি পক্ষ। তাদের মধ্যে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র শিবির, এনসিপি’র জাতীয় ছাত্রশক্তি, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র মজলিসের নেতারাও ছিলেন।

তারা অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। অনুষ্ঠানে বিএনপির দুই সংসদ সদস্য ও সিটি প্রশাসককে নিমন্ত্রণ জানানোর পাশাপাশি স্থানীয় বিএনপি নেতাদের অতিথির তালিকায় রাখা হয়েছে বলেও বিরোধীতা করেন। এ নিয়ে বিএনপির ছাত্র সংগঠন ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে বাকি তিন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের মুখোমুখি অবস্থান দেখা যায়।

বিষয়টি নিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তি, ছাত্র শিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র মজলিসের নেতারা বেলা এগারোটায় প্রতিষ্ঠান প্রাঙ্গণে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। কিন্তু তাতে ছাত্রদলের নেতারা বাধা দেন বলেও অভিযোগ ওঠে। এ নিয়ে উভয়পক্ষের মধ্যে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হলে অধ্যক্ষ অধ্যাপক শহীদুল ইসলাম অন্য শিক্ষকদের নিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেন।

অধ্যক্ষ উভয়পক্ষের শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, “নবীন বরণ সকল সংগঠন ও সকল ছাত্রছাত্রীর দীর্ঘদিনের কাঙ্খিত একটা অনুষ্ঠান। এটা অনেক বাস্তব কিছু কারণে শুক্রবার তারিখ রাখতে হয়েছে। কারণ কার্যদিবসগুলোতে পরীক্ষা চলছে। শনিবার আমন্ত্রিত সংসদ সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে থাকবেন বলে শিডিউল পেছানো হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের কাক্সিক্ষত অনুষ্ঠানে বাধা আমরা চাই না। তাই নবীন বরণ বাস্তবায়ন কমিটি সবকিছু বিবেচনা করে দিন ঠিক করেছে। এখন পর্যন্ত আমরা গণতান্ত্রিকভাবেই আমরা এগিয়ে আসছি। ফলে এ পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি।”

তবে, ছাত্রশক্তির নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির আহ্বায়ক মাহফুজ খান বলেন, “আমাদের কলেজে যেহেতু কোনো নির্বাচিত ছাত্র সংসদ নেই, আমাদের দাবি ছিল- প্রত্যেকটি কার্যকর ছাত্র সংগঠনকে নিয়ে পরামর্শ করে তারপরে যেন প্রোগ্রাম বাস্তবায়ন করা হয়। আমরা দেখেছি যে পূর্বনির্ধারিত একটি কমিটি থাকলেও সেই কমিটি আমাদের সাথে কোনো প্রকার মতামত গ্রহণ না করে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে। এই অগণতান্ত্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণকে আমরা নিন্দা জানাই।”

অতিথিদের তালিকা নিয়েও আপত্তি জানান এ ছাত্রনেতা। তিনি বলেন, “এই কলেজের মধ্যে পুরাতন যে ইতিহাস তা হচ্ছে- শামীম ওসমান আগে এই কলেজে ঢুকতো, তার সাথে তার ছেলে অয়ন ওসমান এখানে ঢুকতো। তার সাথে তাদের দলীয় নেতা-কর্মীরা ঢুকতো। আমরা দেখতাম ছাত্রলীগের নেতৃবৃন্দরা স্টেজে দখল করে থাকতো। এবং সেভাবে দলীয়ভাবে প্রোগ্রামটা তারা পরিচালনা করতো। আমরা সহজ কথায় বলতে চাই- এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষার্থীদের বাইরে কোনো দলীয় প্রভাব আমরা চাই না।”

এ নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করতে চাইলে তাতে ছাত্রদলের নেতারা বাধা দেন বলেও অভিযোগ করেন মাহফুজ।

কলেজ শাখা ছাত্রশিবিরের সভাপতি জহিরুল ইসলাম বলেন, “কলেজ প্রশাসন কোনো ছাত্র সংগঠনের সাথে কোন প্রকার পরামর্শ না করে এইভাবে প্রোগ্রাম রেখেছে। আমরা চাই এই প্রোগ্রামটা হোক। কিন্তু কলেজ প্রশাসন সাধারণ শিক্ষার্থী কিংবা অন্যান্য ছাত্র সংগঠনকে একেবারে একসাইড করে, অবহেলা করে শুধুমাত্র একটি সংগঠনকে বা একটি সংগঠনের সিদ্ধান্তকে বাস্তবায়ন করছে। এটার নিন্দা জানাই।”

যদিও ছাত্রদলের কলেজ শাখার সভাপতি মনির হোসেন জিয়া বলেন, “দুঃখজনকভাবে কিছু গোপন রাজনৈতিক এজেন্ডাভিত্তিক সংগঠন সাধারণ শিক্ষার্থীদের বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তারা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর ন্যারেটিভ তৈরি করে অনুষ্ঠানকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করেছে। আমরা বিষয়টি শিক্ষকবৃন্দকে জানিয়েছি এবং সবাইকে অনুরোধ করেছি যেন এত কষ্ট, সংগ্রাম ও প্রতিকূলতার পর আয়োজন হতে যাওয়া এই সুন্দর অনুষ্ঠানটি কোনোভাবেই নষ্ট না হয়।”

একইসঙ্গে সংবাদ সম্মেলনে বাধা দেওয়ার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।