ঢাকা , মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo অভিযোগের পর অভিযোগ, বদলি কর্মকর্তার পরও বহাল সালমা! ভাঙ্গার ভূমি অফিসে রহস্য আরও ঘনীভূত—“অলৌকিক ক্ষমতার” উৎস কোথায়, প্রশ্ন জনগণ ও সাংবাদিকদের Logo নাসিকে যুক্ত হচ্ছে ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগর, বাদ কাশীপুর Logo নাসিকের টেন্ডার বাণিজ্যেরও অভিযোগ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে Logo শহরে অটোরিকশার সংখ্যা ও গ্যারেজের তালিকা চাইলেন এমপি আবুল কালাম Logo লিংক রোড সকালে পরিষ্কার, রাতে ফের ময়লা Logo হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান Logo চেলসিকে রুখে দিয়ে তৃতীয় স্থানে হাল সিটি, হতাশ লিভারপুল Logo ডিসেম্বরেই মিমির সুখবর! Logo চট্টগ্রামে বিয়ের অনুষ্ঠান শেষে ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৪ Logo আলিগঞ্জে অভিষেক অনুষ্ঠানে এমপি আব্দুল্লাহ আল আমিন, উঠেছে নানা প্রশ্ন

নির্যাতনের অভিযোগে সাংবাদিক কুমকুম নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেলে

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: তথ্য সংগ্রহের কাজে বাধা, প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং সাংবাদিককে মারধরের হুমকির অভিযোগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক কুমকুম। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া সরকারি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সালমা আক্তারকে ঘিরে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক কুমকুমের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে ভয় ও আতঙ্কে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং ঘটনার কথা মনে পড়লেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন।

ঘটনার পর গত কয়েকদিন ধরে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। সাংবাদিকদের ভাষ্য, তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিষয়টি অবহিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভিডিও ধারণের উপকরণ জোর করে নিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে একটি মেমোরি কার্ডে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে আমানত হিসেবে জমা রয়েছে বলে জানান তারা।

এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ভূমিকার প্রশংসা করে সাংবাদিকরা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে না থাকলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারত। পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লার সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তারা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মানবিক আচরণ করে দুপুরের খাবারও তাদের গাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানান সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক কুমকুম বলেন, “আমি আমার বিচার চেয়ে প্রেস কাউন্সিলে আবেদন করেছি। প্রেস ক্লাব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিষয়টি জানতে চেয়েছে। আমি কিছুটা সুস্থ হয়ে প্রথমে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ভিডিও করতে পারবেন না—এমন কোনো পরিস্থিতি হওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য গোপন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টিও আমরা আইনগতভাবে দেখব। আমি সুস্থ হয়ে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাব।”

এ কথা বলার সময়ও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বারবার বলেন, “ভয় লাগে।”

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

তবে অভিযুক্ত কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অভিযোগের পর অভিযোগ, বদলি কর্মকর্তার পরও বহাল সালমা! ভাঙ্গার ভূমি অফিসে রহস্য আরও ঘনীভূত—“অলৌকিক ক্ষমতার” উৎস কোথায়, প্রশ্ন জনগণ ও সাংবাদিকদের

নির্যাতনের অভিযোগে সাংবাদিক কুমকুম নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকা মেডিকেলে

আপডেট সময় ০৭:১১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি: তথ্য সংগ্রহের কাজে বাধা, প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং সাংবাদিককে মারধরের হুমকির অভিযোগে মানসিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েছেন সাংবাদিক কুমকুম। বর্তমানে তিনি নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া সরকারি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন।

অভিযোগ রয়েছে, ফরিদপুরের ভাঙ্গা উপজেলার কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সালমা আক্তারকে ঘিরে তথ্য সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ ও বাধা দেওয়া হয়। এ সময় প্রকাশ্যে অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ এবং সাংবাদিকদের মারধরের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক কুমকুমের দাবি, ওই ঘটনার পর থেকে ভয় ও আতঙ্কে তিনি বারবার অসুস্থ হয়ে পড়ছেন এবং ঘটনার কথা মনে পড়লেই অজ্ঞান হয়ে যাচ্ছেন। প্রথমে তাকে নারায়ণগঞ্জের ভিক্টোরিয়া সরকারি হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসকরা তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করেন।

ঘটনার পর গত কয়েকদিন ধরে সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসকের বক্তব্য নেওয়ার জন্য মোবাইল ফোন ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও প্রত্যাশিত সাড়া পাওয়া যায়নি বলে অভিযোগ করেন তারা। সাংবাদিকদের ভাষ্য, তারা জেলা প্রশাসকের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে বিষয়টি অবহিত করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু পথিমধ্যে তারা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন।

সাংবাদিকদের আরও অভিযোগ, ঘটনাস্থলে তাদের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও ভিডিও ধারণের উপকরণ জোর করে নিয়ে নষ্ট করে দেওয়া হয়। তবে একটি মেমোরি কার্ডে থাকা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পরবর্তীতে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর কাছে আমানত হিসেবে জমা রয়েছে বলে জানান তারা।

এ ঘটনায় সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর ভূমিকার প্রশংসা করে সাংবাদিকরা বলেন, তিনি ঘটনাস্থলে না থাকলে পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক হতে পারত। পাশাপাশি পরবর্তীতে স্থানীয় সংবাদকর্মীদের সহযোগিতায় তাদের উদ্ধার করা হয়। এ সময় ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আইয়ুব মোল্লার সহযোগিতার কথাও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে উল্লেখ করেন তারা। সহকারী কমিশনার (ভূমি) মানবিক আচরণ করে দুপুরের খাবারও তাদের গাড়িতে পৌঁছে দেন বলে জানান সাংবাদিকরা।

সাংবাদিক কুমকুম বলেন, “আমি আমার বিচার চেয়ে প্রেস কাউন্সিলে আবেদন করেছি। প্রেস ক্লাব, জাতীয় সাংবাদিক সংস্থাসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠন বিষয়টি জানতে চেয়েছে। আমি কিছুটা সুস্থ হয়ে প্রথমে জাতীয় প্রেসক্লাবে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি তুলে ধরতে চাই।”

তিনি আরও বলেন, “সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের সময় নিজেদের নিরাপত্তার জন্য ভিডিও করতে পারবেন না—এমন কোনো পরিস্থিতি হওয়া উচিত নয়। প্রয়োজনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার জন্য গোপন ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়টিও আমরা আইনগতভাবে দেখব। আমি সুস্থ হয়ে সাংবাদিক সমাজকে সঙ্গে নিয়ে ন্যায়বিচারের দাবি জানাব।”

এ কথা বলার সময়ও তিনি আতঙ্কিত হয়ে পড়েন এবং বারবার বলেন, “ভয় লাগে।”

সাংবাদিকদের পক্ষ থেকে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

তবে অভিযুক্ত কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।

তবে অভিযুক্ত কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা সালমা আক্তারের বক্তব্য এ প্রতিবেদনে পাওয়া যায়নি। প্রতিবেদকের পক্ষ থেকে তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য চাওয়া হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি। অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী প্রতিবেদনে তুলে ধরা হবে।