ঢাকা , রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল Logo নাসিকের হাজার কোটির বাজেট ঘোষণা করলেন সাখাওয়াত Logo আপনারা হাসিনার চেয়ে কম ফ্যাসিস্ট, কম সন্ত্রাসী: এমপি আল আমিন Logo র‍্যাবের ছায়া দেখলেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হতো: এমপি কালাম Logo বিডিএস উইং’-এর ব্যানারে ডা. হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

‘নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরণের অবহেলা আছে’

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন ছিলেন প্রথম সারির তারকাদের একজন। ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারের পতনের দাবিতে প্রকাশ্যেই রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরেও বিভিন্ন জাতীয় ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। যদিও তিনি একাধিকবার হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশের কাছে আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু কিছু ঘটনা তাকে নিরাশ করেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনলাইন হয়রানি এবং তাকে ‘খারাপ মেয়ে’হিসেবে আখ্যায়িত করার পেছনে সমাজের এক ধরনের অবহেলা ও দ্বিচারিতা কাজ করছে। তিনি মনে করেন, নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরণের অবহেলা আছে।

একটু ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘অনলাইনে মেয়েদের নানাভাবে হ্যারেজ করা হচ্ছে। আমিও যার শিকার। তারা মনে করছে, আমি এটা ডিজার্ভ করি। কারণ, আমি একটা খারাপ মেয়ে….!’

কেন খারাপ মেয়ে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আমার ঠোঁটকাটা। সময়ের প্রয়োজনে দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। বাজে ব্যাপার হচ্ছে, তারা আমাকে কোনো দলে ফেলতে পারছে না। যে কারণে সবকিছুতেই সমস্যা দেখছে।’

বাঁধন আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভুত্থ্যানে যখন গিয়েছি, তখন একটা আশার আলো দেখেছি। যারা টিভিতে সংবাদ দেখেছে, তারা আসলে বুঝতে পারবে না বাস্তবের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল। ভেবেছিলাম, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। তবে আমরা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্থ একটা জাতি, যিনি পালিয়ে গেছেন, তার রেখে যাওয়া সেই করাপ্টেড সিস্টেম থেকে বের হতে পারিনি।’

সম্প্রতি জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এক স্ট্যাটাসে বাঁধন বলেন, যারা বলে জুলাই বিপ্লব ভুল ছিল — সত্যি বলতে, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। ওই সময় ওই বিপ্লব একদম প্রয়োজনীয় ছিল। মানুষ যে পরিমাণ অবিচার, অন্যায় এবং দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছিল, তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সরকার তো একদিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে যায়নি— ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার আর কণ্ঠস্বর কেড়ে নিতে নিতে তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। তখন আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না।

৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, যারা সেদিন, ৫ আগস্ট রাস্তায় ছিল না, তারা কোনো দিন বুঝতে পারবে না সেই আনন্দ কতটা বিশুদ্ধ ছিল— যখন সে ভীতুর মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই আনন্দ ছিল একদম বাস্তব, এবং আমি তা নিজের প্রতিটি হৃদস্পন্দনে অনুভব করেছিলাম। ওইরকম স্বাধীনতা আর শক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একসঙ্গে অনুভব করার অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই আসে।

সবশেষ বাঁধন লিখেছেন, হ্যাঁ, বিপ্লবের পরে অনেক কিছু ঘটেছে, এবং সবকিছু সুখকর হয়নি। কিন্তু এক জিনিস স্পষ্ট: জুলাই বিপ্লব সঠিক সময়ে, সঠিক কাজ ছিল।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ

‘নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরণের অবহেলা আছে’

আপডেট সময় ১০:৫৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে অভিনেত্রী আজমেরি হক বাঁধন ছিলেন প্রথম সারির তারকাদের একজন। ফ্যাসিবাদি আওয়ামী সরকারের পতনের দাবিতে প্রকাশ্যেই রাস্তায় নেমেছিলেন তিনি। এছাড়া অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পরেও বিভিন্ন জাতীয় ঘটনায় নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন। যদিও তিনি একাধিকবার হতাশা প্রকাশ করে বলেছেন যে, জুলাই আন্দোলনের পর তিনি দেশের কাছে আরও ভালো কিছু প্রত্যাশা করেছিলেন, কিন্তু কিছু ঘটনা তাকে নিরাশ করেছে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অনলাইন হয়রানি এবং তাকে ‘খারাপ মেয়ে’হিসেবে আখ্যায়িত করার পেছনে সমাজের এক ধরনের অবহেলা ও দ্বিচারিতা কাজ করছে। তিনি মনে করেন, নারীদের প্রতি সমাজ-রাষ্ট্রের এক ধরণের অবহেলা আছে।

একটু ব্যাখ্যা দিয়ে অভিনেত্রী বলেন, ‘অনলাইনে মেয়েদের নানাভাবে হ্যারেজ করা হচ্ছে। আমিও যার শিকার। তারা মনে করছে, আমি এটা ডিজার্ভ করি। কারণ, আমি একটা খারাপ মেয়ে….!’

কেন খারাপ মেয়ে? এমন প্রশ্নের উত্তরে বাঁধন বলেন, ‘আমার ঠোঁটকাটা। সময়ের প্রয়োজনে দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। বাজে ব্যাপার হচ্ছে, তারা আমাকে কোনো দলে ফেলতে পারছে না। যে কারণে সবকিছুতেই সমস্যা দেখছে।’

বাঁধন আরও বলেন, ‘জুলাইয়ের গণঅভুত্থ্যানে যখন গিয়েছি, তখন একটা আশার আলো দেখেছি। যারা টিভিতে সংবাদ দেখেছে, তারা আসলে বুঝতে পারবে না বাস্তবের অভিজ্ঞতাটা কেমন ছিল। ভেবেছিলাম, এবার একটা পরিবর্তন আসবে। তবে আমরা এতটাই দুর্নীতিগ্রস্থ একটা জাতি, যিনি পালিয়ে গেছেন, তার রেখে যাওয়া সেই করাপ্টেড সিস্টেম থেকে বের হতে পারিনি।’

সম্প্রতি জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এক স্ট্যাটাসে বাঁধন বলেন, যারা বলে জুলাই বিপ্লব ভুল ছিল — সত্যি বলতে, তাদের জন্য আমার দুঃখ হয়। ওই সময় ওই বিপ্লব একদম প্রয়োজনীয় ছিল। মানুষ যে পরিমাণ অবিচার, অন্যায় এবং দমন-পীড়নের মুখোমুখি হচ্ছিল, তা সহ্যের সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছিল। সরকার তো একদিনে ফ্যাসিস্ট হয়ে যায়নি— ধাপে ধাপে মানুষের অধিকার আর কণ্ঠস্বর কেড়ে নিতে নিতে তারা ফ্যাসিস্ট হয়ে উঠেছিল। তখন আর কোনো রাস্তা খোলা ছিল না।

৫ আগস্টের কথা স্মরণ করে অভিনেত্রী বলেন, যারা সেদিন, ৫ আগস্ট রাস্তায় ছিল না, তারা কোনো দিন বুঝতে পারবে না সেই আনন্দ কতটা বিশুদ্ধ ছিল— যখন সে ভীতুর মতো দেশ ছেড়ে পালিয়ে গিয়েছিল। সেই আনন্দ ছিল একদম বাস্তব, এবং আমি তা নিজের প্রতিটি হৃদস্পন্দনে অনুভব করেছিলাম। ওইরকম স্বাধীনতা আর শক্তি রাস্তায় দাঁড়িয়ে একসঙ্গে অনুভব করার অভিজ্ঞতা জীবনে একবারই আসে।

সবশেষ বাঁধন লিখেছেন, হ্যাঁ, বিপ্লবের পরে অনেক কিছু ঘটেছে, এবং সবকিছু সুখকর হয়নি। কিন্তু এক জিনিস স্পষ্ট: জুলাই বিপ্লব সঠিক সময়ে, সঠিক কাজ ছিল।