ঢাকা , শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল ২০২৬, ৪ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে যত্রতত্র ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের তারের জট জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি Logo দুলাল চন্দ্র দেবনাথের প্রতিবাদলিপি Logo আ. লীগ সরকারের রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: আইনমন্ত্রী Logo ফতুল্লায় ঝুট নিয়ে বিএনপির দুই পক্ষের সংঘর্ষ: গ্রেপ্তার ৩ Logo জুতার ভেতরে লুকিয়ে ইয়াবা পরিবহন, সোনারগাঁয়ে আটক ১ Logo ৩০০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসিইউ কার্যক্রম Logo একটি নিখোঁজ সংবাদ : মোসাঃ স্বর্ণা খাতুন এবং তার ছেলে আবু তালহা নিখোঁজ হয়েছেন। Logo ঐক্য ও সহঅবস্থানে এগিয়ে যাবে নারায়ণগঞ্জ: ডিসি রায়হান কবির Logo উৎসবের আয়োজনে নারায়ণগঞ্জে বাংলা নববর্ষ বরণ Logo পারিবারিক সাহিত্য আড্ডা ও বইয়ের মোড়ক উন্মোচন

রাজাকার তকমা—এক নতুন প্রহসনের রাজনীতি

মোঃ মামুন হোসেন: গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তির অন্যতম হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাই মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার, রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার, এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুযোগ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে—যে কেউ ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করলেই, তাকে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীর দোসর, বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে প্রচার করা হয়। এটি কেবল বাক্‌স্বাধীনতার ওপর একটি বড় আঘাত নয়; এটি গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর মূলে কুঠারাঘাত।
“রাজাকার” শব্দটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ঘৃণিত পরিচিতি। ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগিতা করে, সাধারণ মানুষের ওপর বর্বরতা চালিয়েছিল, তাদেরই বলা হয় রাজাকার। এদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতির ঘৃণা ও প্রতিশোধ ছিল ন্যায্য ও নৈতিক। কিন্তু এই অভিধা আজ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত এক ছুরি হয়ে উঠেছে। একটি অদ্ভুত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে—আজ যদি কেউ ক্ষমতাসীন দলের কোন নীতির সমালোচনা করে, তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বা দমননীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে যুদ্ধাপরাধের পক্ষের লোক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রাজাকার তকমা এমনভাবে ছুঁড়ে মারা হয় যেন সেটা একটি রাজনৈতিক অস্ত্র, যা দিয়ে বিরোধী মতকে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়।এমন একটি সমাজব্যবস্থা, যেখানে সরকার বা শাসকগোষ্ঠীকে সমালোচনা করা মানেই দেশদ্রোহিতা, সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। স্বাধীন মতপ্রকাশ একটি সুস্থ সমাজের নিঃশ্বাস; তা বন্ধ করে দিলে জাতির বিকাশ বন্ধ হয়ে যায়।আজ দেখা যায়, একটি ফেসবুক পোস্ট, একটি ইউটিউব ভিডিও, এমনকি একটি বক্তৃতার অংশবিশেষ নিয়েও কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী বলা হয়। ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও এই রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কিছু বললেই রাজাকার বানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে করে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস করা যায়।এটি কেবল ব্যক্তির সম্মানহানি নয়; এটি জাতিকে বিভক্ত করার এক ধূর্ত কৌশল। এতে দেশের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী তকমা এখন রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার। সরকারপন্থী এবং সরকারবিরোধী—এই দুটি ক্যাম্প তৈরি করে রাষ্ট্র চালানোর কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিভাজনের ফলে জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত—একপক্ষ অন্ধভাবে সরকারকে সমর্থন করে, অন্য পক্ষকে শত্রু বা দেশবিরোধী মনে করে।বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এই কৌশল খুবই কার্যকর। জনগণ যখন আসল প্রশ্ন—যেমন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থা, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটাধিকার হরণ ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করতে ‘রাজাকার’ শব্দটি একরকম রাজনৈতিক জুজু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে সমাজে এক ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে। সাংবাদিকরা সত্য উদঘাটন করতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ জানেন—তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য কালাকানুন প্রয়োগ করা হতে পারে।শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পায়, কারণ জানে—তাকে সহজেই একটি ‘রাজাকার-সমর্থক’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করে রাখা হবে। শিক্ষকরা নিরপেক্ষ মত দিতে ভয় পান, কারণ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।এই ভয়ের পরিবেশে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যারা প্রশ্ন না করে শুধু মান্য করার শিক্ষা পাচ্ছে। এটা যে কোনো দেশের জন্য অশনিসংকেত।সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ‘রাজাকার’ তকমার অপব্যবহার আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করছে। মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের সম্পত্তি নয়; এটি গোটা জাতির অর্জন। কিন্তু আজ এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একটি রাজনৈতিক দল নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র উত্তরাধিকারী দাবি করে, এবং অন্য সব মতকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে অপমান করে।
এতে আসল রাজাকাররা আড়ালে থেকে যায়, আর যারা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলছে, তাদেরই জালিম বানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে জাতি এক ভয়ঙ্কর বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়।
গণতন্ত্রের নামে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। যে কেউ সমালোচনা করলেই তাকে রাজাকার বলা একটি ভীষণ বিপজ্জনক রাজনৈতিক প্রবণতা। এটি কেবল ভিন্নমত দমন করে না, বরং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে তোলে।
নাগরিকদের উচিৎ সত্য ও ইতিহাসকে যাচাই করে মত গঠন করা। সব সমালোচক রাজাকার নয়—বরং অনেক সময় সত্যিকারের দেশপ্রেমিকরাই সাহস করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আমাদের বুঝতে হবে, যিনি প্রতিবাদ করছেন, তিনি রাষ্ট্রের শত্রু নন—তিনি একজন সচেতন নাগরিক, যিনি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ চান।ক্ষমতাসীনদের সমালোচনাকারীদের রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীর দোসর হিসেবে চিহ্নিত করা একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অপচর্চা, যা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী। এ ধরনের কৌশল দীর্ঘমেয়াদে শাসকদেরও রক্ষা করতে পারবে না। ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু সত্যের কণ্ঠ চিরন্তন।জনগণ যখন সচেতন হবে, তখন এসব বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা আর কাজ করবে না। সত্য, ন্যায় ও নৈতিকতাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে—এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

নারায়ণগঞ্জ শহরজুড়ে বৈদ্যুতিক খুঁটিতে যত্রতত্র ইন্টারনেট ও ডিস সংযোগের তারের জট জননিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি

রাজাকার তকমা—এক নতুন প্রহসনের রাজনীতি

আপডেট সময় ১০:০৬:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২২ জুলাই ২০২৫

মোঃ মামুন হোসেন: গণতন্ত্রের মৌলিক ভিত্তির অন্যতম হলো মতপ্রকাশের স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতাই মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার, রাষ্ট্রের দায়িত্বহীনতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার, এবং ক্ষমতাসীনদের জবাবদিহিতার আওতায় আনার সুযোগ দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এক ভয়ঙ্কর প্রবণতা গভীরভাবে প্রোথিত হয়েছে—যে কেউ ক্ষমতাসীনদের সমালোচনা করলেই, তাকে রাজাকার, যুদ্ধাপরাধীর দোসর, বা রাষ্ট্রবিরোধী হিসেবে প্রচার করা হয়। এটি কেবল বাক্‌স্বাধীনতার ওপর একটি বড় আঘাত নয়; এটি গণতান্ত্রিক সমাজ কাঠামোর মূলে কুঠারাঘাত।
“রাজাকার” শব্দটি বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি ঘৃণিত পরিচিতি। ১৯৭১ সালে যারা পাকিস্তানী সেনাদের সহযোগিতা করে, সাধারণ মানুষের ওপর বর্বরতা চালিয়েছিল, তাদেরই বলা হয় রাজাকার। এদের বিরুদ্ধে আমাদের জাতির ঘৃণা ও প্রতিশোধ ছিল ন্যায্য ও নৈতিক। কিন্তু এই অভিধা আজ যেন রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহৃত এক ছুরি হয়ে উঠেছে। একটি অদ্ভুত বাস্তবতায় পরিণত হয়েছে—আজ যদি কেউ ক্ষমতাসীন দলের কোন নীতির সমালোচনা করে, তাদের দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি, বা দমননীতি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, সঙ্গে সঙ্গে তাকে যুদ্ধাপরাধের পক্ষের লোক হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। রাজাকার তকমা এমনভাবে ছুঁড়ে মারা হয় যেন সেটা একটি রাজনৈতিক অস্ত্র, যা দিয়ে বিরোধী মতকে স্তব্ধ করে দেওয়া যায়।এমন একটি সমাজব্যবস্থা, যেখানে সরকার বা শাসকগোষ্ঠীকে সমালোচনা করা মানেই দেশদ্রোহিতা, সেখানে প্রকৃত গণতন্ত্র টিকে থাকতে পারে না। স্বাধীন মতপ্রকাশ একটি সুস্থ সমাজের নিঃশ্বাস; তা বন্ধ করে দিলে জাতির বিকাশ বন্ধ হয়ে যায়।আজ দেখা যায়, একটি ফেসবুক পোস্ট, একটি ইউটিউব ভিডিও, এমনকি একটি বক্তৃতার অংশবিশেষ নিয়েও কাউকে রাষ্ট্রবিরোধী বলা হয়। ছাত্র-শিক্ষক, সাংবাদিক, এমনকি মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরাও এই রাজনৈতিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে কিছু বললেই রাজাকার বানিয়ে দেওয়া হয়, যাতে করে তার সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা ধ্বংস করা যায়।এটি কেবল ব্যক্তির সম্মানহানি নয়; এটি জাতিকে বিভক্ত করার এক ধূর্ত কৌশল। এতে দেশের প্রকৃত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসও প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধী তকমা এখন রাজনৈতিক বিভাজনের হাতিয়ার। সরকারপন্থী এবং সরকারবিরোধী—এই দুটি ক্যাম্প তৈরি করে রাষ্ট্র চালানোর কৌশল হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই বিভাজনের ফলে জনগণ দুই ভাগে বিভক্ত—একপক্ষ অন্ধভাবে সরকারকে সমর্থন করে, অন্য পক্ষকে শত্রু বা দেশবিরোধী মনে করে।বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য এই কৌশল খুবই কার্যকর। জনগণ যখন আসল প্রশ্ন—যেমন দুর্নীতি, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতের অব্যবস্থা, বেকারত্ব, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ভোটাধিকার হরণ ইত্যাদি নিয়ে প্রশ্ন তোলে, তখন তাদের কণ্ঠরোধ করতে ‘রাজাকার’ শব্দটি একরকম রাজনৈতিক জুজু হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এই পরিস্থিতিতে সমাজে এক ভয়ের সংস্কৃতি গড়ে উঠছে। মানুষ নিজের মত প্রকাশ করতে ভয় পাচ্ছে। সাংবাদিকরা সত্য উদঘাটন করতে সাহস পাচ্ছেন না, কারণ জানেন—তাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বা অন্যান্য কালাকানুন প্রয়োগ করা হতে পারে।শিক্ষাঙ্গনে ছাত্ররা অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পায়, কারণ জানে—তাকে সহজেই একটি ‘রাজাকার-সমর্থক’ তকমা দিয়ে কোণঠাসা করে রাখা হবে। শিক্ষকরা নিরপেক্ষ মত দিতে ভয় পান, কারণ তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।এই ভয়ের পরিবেশে একটি প্রজন্ম বেড়ে উঠছে, যারা প্রশ্ন না করে শুধু মান্য করার শিক্ষা পাচ্ছে। এটা যে কোনো দেশের জন্য অশনিসংকেত।সবচেয়ে দুঃখজনক বিষয় হলো, এই ‘রাজাকার’ তকমার অপব্যবহার আসলে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকেই অপমান করছে। মুক্তিযুদ্ধ কোনো দলের সম্পত্তি নয়; এটি গোটা জাতির অর্জন। কিন্তু আজ এমন এক অবস্থায় দাঁড়িয়েছে, যেখানে একটি রাজনৈতিক দল নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একমাত্র উত্তরাধিকারী দাবি করে, এবং অন্য সব মতকে যুদ্ধবিরোধী হিসেবে অপমান করে।
এতে আসল রাজাকাররা আড়ালে থেকে যায়, আর যারা ন্যায়ের পক্ষে কথা বলছে, তাদেরই জালিম বানিয়ে দেওয়া হয়। ফলে জাতি এক ভয়ঙ্কর বিভ্রান্তির মধ্যে পড়ে যায়।
গণতন্ত্রের নামে কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠা করার যে চেষ্টা চলছে, তার বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া এখন সময়ের দাবি। যে কেউ সমালোচনা করলেই তাকে রাজাকার বলা একটি ভীষণ বিপজ্জনক রাজনৈতিক প্রবণতা। এটি কেবল ভিন্নমত দমন করে না, বরং জাতির ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে তোলে।
নাগরিকদের উচিৎ সত্য ও ইতিহাসকে যাচাই করে মত গঠন করা। সব সমালোচক রাজাকার নয়—বরং অনেক সময় সত্যিকারের দেশপ্রেমিকরাই সাহস করে অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলেন। আমাদের বুঝতে হবে, যিনি প্রতিবাদ করছেন, তিনি রাষ্ট্রের শত্রু নন—তিনি একজন সচেতন নাগরিক, যিনি উন্নত ও ন্যায়ভিত্তিক সমাজ চান।ক্ষমতাসীনদের সমালোচনাকারীদের রাজাকার বা যুদ্ধাপরাধীর দোসর হিসেবে চিহ্নিত করা একটি ভয়ঙ্কর রাজনৈতিক অপচর্চা, যা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনার পরিপন্থী। এ ধরনের কৌশল দীর্ঘমেয়াদে শাসকদেরও রক্ষা করতে পারবে না। ইতিহাস সাক্ষী, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, কিন্তু সত্যের কণ্ঠ চিরন্তন।জনগণ যখন সচেতন হবে, তখন এসব বিভ্রান্তিমূলক প্রচারণা আর কাজ করবে না। সত্য, ন্যায় ও নৈতিকতাই শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবে—এটাই ইতিহাসের শিক্ষা।