ঢাকা , শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ Logo নারায়ণগঞ্জ সদর উপজেলা অটোরিকশা অটোটেম্পা মিশুক ও বেবি ট্যাক্সি শ্রমিক ইউনিয়নের বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদের প্রতিবাদ Logo চাষাঢ়ায় ছাত্রশিবিরের অনুষ্ঠানে পটকা নিক্ষেপ, আটক ২ আজমেরী অনুসারী Logo বর্তমান সহ-সভাপতি, নতুন কমিটিতেও দাপুটে অবস্থানে সাফি ইসলাম Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত প্রবাসীদের বাড়িতে সায়েম আহম্মেদ; শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা Logo ফতুল্লার ৭নংওয়ার্ডের বিএনপি ও এলাকাবসীর উদ্যোগে মাদক বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিল Logo নাসিকের হাজার কোটির বাজেট ঘোষণা করলেন সাখাওয়াত Logo আপনারা হাসিনার চেয়ে কম ফ্যাসিস্ট, কম সন্ত্রাসী: এমপি আল আমিন Logo র‍্যাবের ছায়া দেখলেই বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে হতো: এমপি কালাম Logo বিডিএস উইং’-এর ব্যানারে ডা. হাবিবুর রহমানসহ আওয়ামী লীগের দোসর চিকিৎসকদের সংবাদ সম্মেলনের আড়ালে দেশবিরোধী ষড়যন্ত্র

মালাকুল মাওত কি প্রাণীদেরও রুহ কবজ করেন?

প্রত্যেক জীব বা প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। কেউ মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জমিনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল, আর থেকে যাবে শুধু মহামহিম ও মহানুভব তোমার রবের চেহারা। (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২৬-২৭)

অর্থাৎ, পৃথিবীর সব ধ্বংস হয়ে যাবে, মানুষ, জীন, প্রাণী, ফেরেশতা সবার মৃত্যু হবে। শুধু জীবিত থাকবেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি একাই হবেন চিরঞ্জীবন।

প্রত্যেকের রুহ গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা পক্ষ থেকে ফেরেশতা নির্ধারিত আছে। তাকে মালাকুল মাওত বা মৃত্যুর ফেরেশতা বলা হয়। মৃত্যুর ফেরেশতা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অনেক আয়াত ও বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু হলো—

তোমাদেরকে মৃত্যু দেবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ১১)

অবশেষে যখন তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায়। আর তারা কোন ত্রুটি করে না। (সুরা আল-আনআম, আয়াত : ৬১)

আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করছিল, তাদের চেহারায় ও পশ্চাতে আঘাত করে, আর (বলছিল) ‘তোমরা জ্বলন্ত আগুনের আযাব আস্বাদন কর’। (সুরা আনফাল, আয়াত : ৫০)

নিজদের উপর যুলমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ২৮)

ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ৩২)

মৃত্যুর দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা বা মালাকুল মাওত মানুষসহ সব ধরনের জীবিত প্রাণীর রুহ কবজ করেন। এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, একবার মালাকুল মাওত নবী করিম (সা.)-কে বললেন, আমি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এমনকি একটি মশার প্রাণও নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করতে পারি না।

ইমাম কুরতুবি (রহ.) এই প্রসঙ্গে বলেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক জীবের প্রাণ গ্রহণ করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মাওতকে দিয়েছেন।

এছাড়া, ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মশার প্রাণও কি মালাকুল মউত কবজা করেন? তিনি পাল্টা জিজ্ঞাসা করলেন, এতে কি প্রাণ আছে? উত্তর দেওয়া হলো, জি হ্যাঁ।

তখন তিনি বললেন, তাহলে এর প্রাণও মালাকুল মাওতই কব্জা করেন, কারণ কোরআনে এসেছে, আল্লাহ আত্মাকে তার মৃত্যুর সময় কবজা করেন। (সুরা আজ-জুমার, আয়াত : ৪২)

আপলোডকারীর তথ্য

নারায়ণগঞ্জে মাদক নির্মূল ও সামাজিক সচেতনতায় যুবসমাজের বিশাল সমাবেশ

মালাকুল মাওত কি প্রাণীদেরও রুহ কবজ করেন?

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রত্যেক জীব বা প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। কেউ মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জমিনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল, আর থেকে যাবে শুধু মহামহিম ও মহানুভব তোমার রবের চেহারা। (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২৬-২৭)

অর্থাৎ, পৃথিবীর সব ধ্বংস হয়ে যাবে, মানুষ, জীন, প্রাণী, ফেরেশতা সবার মৃত্যু হবে। শুধু জীবিত থাকবেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি একাই হবেন চিরঞ্জীবন।

প্রত্যেকের রুহ গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা পক্ষ থেকে ফেরেশতা নির্ধারিত আছে। তাকে মালাকুল মাওত বা মৃত্যুর ফেরেশতা বলা হয়। মৃত্যুর ফেরেশতা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অনেক আয়াত ও বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু হলো—

তোমাদেরকে মৃত্যু দেবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ১১)

অবশেষে যখন তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায়। আর তারা কোন ত্রুটি করে না। (সুরা আল-আনআম, আয়াত : ৬১)

আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করছিল, তাদের চেহারায় ও পশ্চাতে আঘাত করে, আর (বলছিল) ‘তোমরা জ্বলন্ত আগুনের আযাব আস্বাদন কর’। (সুরা আনফাল, আয়াত : ৫০)

নিজদের উপর যুলমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ২৮)

ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ৩২)

মৃত্যুর দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা বা মালাকুল মাওত মানুষসহ সব ধরনের জীবিত প্রাণীর রুহ কবজ করেন। এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, একবার মালাকুল মাওত নবী করিম (সা.)-কে বললেন, আমি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এমনকি একটি মশার প্রাণও নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করতে পারি না।

ইমাম কুরতুবি (রহ.) এই প্রসঙ্গে বলেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক জীবের প্রাণ গ্রহণ করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মাওতকে দিয়েছেন।

এছাড়া, ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মশার প্রাণও কি মালাকুল মউত কবজা করেন? তিনি পাল্টা জিজ্ঞাসা করলেন, এতে কি প্রাণ আছে? উত্তর দেওয়া হলো, জি হ্যাঁ।

তখন তিনি বললেন, তাহলে এর প্রাণও মালাকুল মাওতই কব্জা করেন, কারণ কোরআনে এসেছে, আল্লাহ আত্মাকে তার মৃত্যুর সময় কবজা করেন। (সুরা আজ-জুমার, আয়াত : ৪২)