ঢাকা , শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩ Logo ‘আবেদন ছাড়াই’ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি, সাবেক ইউএনও নাহিদা বারিক ওএসডি Logo পুলিশের বিশেষ অভিযানে মাদকসেবী-কারবারিসহ গ্রেপ্তার ১৪০ Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় প্রবাসীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগের বিরুদ্ধে সংবাদ সম্মেলন ও প্রতিবাদ সভা Logo কক্সবাজারে রিসোর্টে আগুন: ফতুল্লায় একই পরিবারের তিনজনের দাফন Logo বন্দরে বাস-ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষ, সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা বাবা-ছেলে নিহত Logo টানবাজারের জামাল ইয়ার্নের বিরুদ্ধে ৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ফাঁকির মামলা Logo নারায়ণগঞ্জে জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস পালিত, সড়ক নিরাপত্তায় সচেতনতার আহ্বান Logo বন্দরে বিএনপি নেতা পরিচয়ে পেপার মিলে চাঁদা দাবি, হুমকি Logo চট্টগ্রাম নগরীর ২০ ও ৩২ নং ওয়ার্ডে বি এন পির নাম ব্যাবহার করে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ উটেছে স্তানীয় কিছু অসাধু,পাতি নেতার বিরুদ্ধে

মালাকুল মাওত কি প্রাণীদেরও রুহ কবজ করেন?

প্রত্যেক জীব বা প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। কেউ মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জমিনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল, আর থেকে যাবে শুধু মহামহিম ও মহানুভব তোমার রবের চেহারা। (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২৬-২৭)

অর্থাৎ, পৃথিবীর সব ধ্বংস হয়ে যাবে, মানুষ, জীন, প্রাণী, ফেরেশতা সবার মৃত্যু হবে। শুধু জীবিত থাকবেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি একাই হবেন চিরঞ্জীবন।

প্রত্যেকের রুহ গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা পক্ষ থেকে ফেরেশতা নির্ধারিত আছে। তাকে মালাকুল মাওত বা মৃত্যুর ফেরেশতা বলা হয়। মৃত্যুর ফেরেশতা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অনেক আয়াত ও বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু হলো—

তোমাদেরকে মৃত্যু দেবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ১১)

অবশেষে যখন তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায়। আর তারা কোন ত্রুটি করে না। (সুরা আল-আনআম, আয়াত : ৬১)

আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করছিল, তাদের চেহারায় ও পশ্চাতে আঘাত করে, আর (বলছিল) ‘তোমরা জ্বলন্ত আগুনের আযাব আস্বাদন কর’। (সুরা আনফাল, আয়াত : ৫০)

নিজদের উপর যুলমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ২৮)

ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ৩২)

মৃত্যুর দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা বা মালাকুল মাওত মানুষসহ সব ধরনের জীবিত প্রাণীর রুহ কবজ করেন। এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, একবার মালাকুল মাওত নবী করিম (সা.)-কে বললেন, আমি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এমনকি একটি মশার প্রাণও নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করতে পারি না।

ইমাম কুরতুবি (রহ.) এই প্রসঙ্গে বলেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক জীবের প্রাণ গ্রহণ করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মাওতকে দিয়েছেন।

এছাড়া, ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মশার প্রাণও কি মালাকুল মউত কবজা করেন? তিনি পাল্টা জিজ্ঞাসা করলেন, এতে কি প্রাণ আছে? উত্তর দেওয়া হলো, জি হ্যাঁ।

তখন তিনি বললেন, তাহলে এর প্রাণও মালাকুল মাওতই কব্জা করেন, কারণ কোরআনে এসেছে, আল্লাহ আত্মাকে তার মৃত্যুর সময় কবজা করেন। (সুরা আজ-জুমার, আয়াত : ৪২)

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সোনারগাঁয়ে বাসে তল্লাশি চালিয়ে ৪৫০০ ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

মালাকুল মাওত কি প্রাণীদেরও রুহ কবজ করেন?

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ৩ ডিসেম্বর ২০২৫

প্রত্যেক জীব বা প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। কেউ মৃত্যু থেকে বাঁচতে পারবে না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, প্রত্যেক প্রাণীকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে। (সুরা আল ইমরান, আয়াত : ১৮৫)

অন্য আয়াতে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, জমিনের উপর যা কিছু রয়েছে, সবই ধ্বংসশীল, আর থেকে যাবে শুধু মহামহিম ও মহানুভব তোমার রবের চেহারা। (সুরা আর রহমান, আয়াত : ২৬-২৭)

অর্থাৎ, পৃথিবীর সব ধ্বংস হয়ে যাবে, মানুষ, জীন, প্রাণী, ফেরেশতা সবার মৃত্যু হবে। শুধু জীবিত থাকবেন আল্লাহ তায়ালা। তিনি একাই হবেন চিরঞ্জীবন।

প্রত্যেকের রুহ গ্রহণ করার জন্য আল্লাহ তায়ালা পক্ষ থেকে ফেরেশতা নির্ধারিত আছে। তাকে মালাকুল মাওত বা মৃত্যুর ফেরেশতা বলা হয়। মৃত্যুর ফেরেশতা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে অনেক আয়াত ও বর্ণনা রয়েছে, যার মধ্যে কিছু হলো—

তোমাদেরকে মৃত্যু দেবে মৃত্যুর ফেরেশতা যাকে তোমাদের জন্য নিয়োগ করা হয়েছে। তারপর তোমাদের রবের নিকট তোমাদেরকে ফিরিয়ে আনা হবে। (সুরা আস-সাজদাহ, আয়াত : ১১)

অবশেষে যখন তোমাদের কারো কাছে মৃত্যু আসে, আমার প্রেরিত দূতগণ তার মৃত্যু ঘটায়। আর তারা কোন ত্রুটি করে না। (সুরা আল-আনআম, আয়াত : ৬১)

আর যদি তুমি দেখতে, যখন ফেরেশতারা কাফিরদের প্রাণ হরণ করছিল, তাদের চেহারায় ও পশ্চাতে আঘাত করে, আর (বলছিল) ‘তোমরা জ্বলন্ত আগুনের আযাব আস্বাদন কর’। (সুরা আনফাল, আয়াত : ৫০)

নিজদের উপর যুলমকারী থাকা অবস্থায় ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটাবে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ২৮)

ফেরেশতারা যাদের মৃত্যু ঘটায় উত্তম অবস্থায়, তারা বলে, ‘তোমাদের উপর সালাম। জান্নাতে প্রবেশ কর, যে আমল তোমরা করতে তার কারণে। (সুরা আন-নাহাল, আয়াত : ৩২)

মৃত্যুর দায়িত্বে থাকা ফেরেশতা বা মালাকুল মাওত মানুষসহ সব ধরনের জীবিত প্রাণীর রুহ কবজ করেন। এক হাদিসে বর্ণিত আছে যে, একবার মালাকুল মাওত নবী করিম (সা.)-কে বললেন, আমি আল্লাহর অনুমতি ছাড়া এমনকি একটি মশার প্রাণও নিজ ইচ্ছায় গ্রহণ করতে পারি না।

ইমাম কুরতুবি (রহ.) এই প্রসঙ্গে বলেন, এই হাদিস থেকে বোঝা যায় যে, প্রত্যেক জীবের প্রাণ গ্রহণ করার দায়িত্ব আল্লাহ তায়ালা মালাকুল মাওতকে দিয়েছেন।

এছাড়া, ইমাম মালিক ইবনে আনাস (রহ.)-কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, মশার প্রাণও কি মালাকুল মউত কবজা করেন? তিনি পাল্টা জিজ্ঞাসা করলেন, এতে কি প্রাণ আছে? উত্তর দেওয়া হলো, জি হ্যাঁ।

তখন তিনি বললেন, তাহলে এর প্রাণও মালাকুল মাওতই কব্জা করেন, কারণ কোরআনে এসেছে, আল্লাহ আত্মাকে তার মৃত্যুর সময় কবজা করেন। (সুরা আজ-জুমার, আয়াত : ৪২)