ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

সংঘর্ষের ১৮ দিন পর খুলছে তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাস

নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি তোলারাম কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস ১৮ দিন পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের সঙ্গে কলেজ প্রশাসনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানসহ কলেজ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, ছাত্রাবাসটি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একমত হয়েছে। ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ফিরে আসতে পারেন, সে বিষয়ে দুই সংগঠনই সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর রাখতে সহযোগিতা করা হবে।

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ৫ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে বৈঠকটি হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রাবাস চালু করা এবং অস্থায়ীভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করা।

তিনি জানান, কলেজের অধ্যক্ষ আগামীকালের মধ্যে ছাত্রাবাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। ছাত্রাবাসে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সহযোগিতা করবে।

কলেজের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি তোলারাম কলেজ নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিরোধ হলেও আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তিনি জানান, ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর নোটিশ জারি করে আগামীকাল থেকে ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

কলেজ প্রশাসন জানায়, ছাত্রনেতারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে প্রশাসন।

এর আগে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ছাত্রশিবিরের সমর্থকদের ওপর হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

সংঘর্ষের পর সমস্যা সমাধানে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মহানগর নেতারা দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের বৈঠকে ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

সংঘর্ষের ১৮ দিন পর খুলছে তোলারাম কলেজের ছাত্রাবাস

আপডেট সময় ০৩:৫০:৪৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ ছাত্রদল ও ইসলামী ছাত্রশিবিরের দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি তোলারাম কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস ১৮ দিন পর শিক্ষার্থীদের জন্য খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

রোববার (২৩ আগস্ট) দুপুরে সরকারি তোলারাম কলেজের অধ্যক্ষের কক্ষে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের সঙ্গে কলেজ প্রশাসনের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

বৈঠকে মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আজিজুল ইসলাম রাজীব, মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসানসহ কলেজ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠক শেষে আজিজুল ইসলাম রাজীব বলেন, ছাত্রাবাসটি দ্রুত খুলে দেওয়ার বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির একমত হয়েছে। ছাত্রাবাসে থাকা শিক্ষার্থীরা যাতে নির্ভয়ে ফিরে আসতে পারেন, সে বিষয়ে দুই সংগঠনই সহযোগিতা করবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাস ও ছাত্রাবাসের পরিবেশ শান্তিপূর্ণ রাখা এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর রাখতে সহযোগিতা করা হবে।

মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি অমিত হাসান বলেন, ৫ আগস্টের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার ধারাবাহিকতায় সমস্যা সমাধানের অংশ হিসেবে বৈঠকটি হয়েছে। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বন্ধ হয়ে যাওয়া ছাত্রাবাস চালু করা এবং অস্থায়ীভাবে থাকা শিক্ষার্থীদের সমস্যার সমাধান করা।

তিনি জানান, কলেজের অধ্যক্ষ আগামীকালের মধ্যে ছাত্রাবাস চালুর আশ্বাস দিয়েছেন। ছাত্রাবাসে যাতে আর কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, সে বিষয়ে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবির সহযোগিতা করবে।

কলেজের অধ্যাপক শহিদুল ইসলাম বলেন, সরকারি তোলারাম কলেজ নারায়ণগঞ্জ জেলার অন্যতম বৃহৎ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী পড়াশোনা করেন। বিভিন্ন সময় ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে মতবিরোধ হলেও আলোচনার মাধ্যমে এসব সমস্যার সমাধান করা সম্ভব।

তিনি জানান, ছাত্রাবাস চালুর বিষয়ে বৈঠকে ঐকমত্য হয়েছে। তদন্ত কমিটির সদস্যরাও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। একাডেমিক কাউন্সিলের অনুমোদনের পর নোটিশ জারি করে আগামীকাল থেকে ছাত্রাবাস খুলে দেওয়ার আশা করা হচ্ছে।

কলেজ প্রশাসন জানায়, ছাত্রনেতারা ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা না ঘটার বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছেন। কলেজের স্বাভাবিক পরিবেশ বজায় রাখতে সব ছাত্র ও রাজনৈতিক সংগঠনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করছে প্রশাসন।

এর আগে, গত ৫ আগস্ট জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আয়োজিত একটি সভায় বক্তব্য দেওয়াকে কেন্দ্র করে সরকারি তোলারাম কলেজে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরে বিকেলে ইসদাইর এলাকায় অবস্থিত কলেজের শের-ই বাংলা ছাত্রাবাস বন্ধ ঘোষণা করে কলেজ কর্তৃপক্ষ। ওই সময় ছাত্রশিবিরের সমর্থকদের ওপর হামলা, লুটপাট ও ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে ছাত্রদলের কর্মীদের বিরুদ্ধে।

সংঘর্ষের পর সমস্যা সমাধানে দুই ছাত্র সংগঠনের মধ্যে একাধিক বৈঠক হয়। সর্বশেষ নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং জামায়াতে ইসলামীর মহানগর নেতারা দুই সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। এরই ধারাবাহিকতায় রোববার কলেজ প্রশাসনের সঙ্গে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাদের বৈঠকে ছাত্রাবাস পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়।