ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

বিশ্ব ফুটবলের এক বর্ণাঢ্য ও রেকর্ডময় যুগের অবসান ঘটল। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বুধবার প্রকাশিত একটি আবেগঘন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তিনি পর্তুগালের জার্সিতে নিজের বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

২০০৩ সালে পর্তুগালের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পা রেখেছিলেন এক তরুণ রোনালদো। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪টি ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ১৪৬টি গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এবং সর্বাধিক গোলের সর্বকালের রেকর্ডটি তাঁর দখলেই রয়েছে। তাঁর হাত ধরেই ২০১৬ সালে পর্তুগাল প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লাভ করে। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বেই দলটি ২০১৯ ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগও জয় করে। ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে (লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে) টানা ৬টি ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার ও অংশগ্রহণ করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ, যেখানে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগাল বিদায় নেয়।

​ভক্তদের উদ্দেশ্যে নিজের অফিসিয়াল বার্তায় রোনালদো অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় বলেন, “আমাদের জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। টানা ২৩ বছর ধরে আমি এটি অত্যন্ত গর্ব ও দায়িত্ববোধের সাথে পরেছি। এটি কোনো সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, কারণ কিছু সিদ্ধান্ত কেবল মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়েও নিতে হয়।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “সময়ের সাথে সাথে গোল ম্লান হয়ে যায়, ট্রফিগুলো মিউজিয়ামে চলে যায় এবং রেকর্ডগুলো একদিন ভেঙে যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তৈরি হওয়া জায়গাটি সময় কখনো মুছে ফেলতে পারে না।” পাশাপাশি তিনি তাঁর পরিবার, পর্তুগালের সাধারণ জনগণ এবং তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোচ ও স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভিডিওবার্তার ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “পর্তুগাল সর্বদা আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে থাকবে।”

​সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, দলগত কিছু শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নিয়ে কোচ জর্জ জেসুসের সাথে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলেও পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চেয়ে দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছিলেন। সব জটিলতা পেছনে ফেলে এবার নিজেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন এই মহাতারকা।

​পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, “তিনি কেবল একজন ব্যতিক্রমী অ্যাথলেটই নন, বরং আমাদের জাতীয় দলের মূল চেতনার এক অনুপ্রেরণাদায়ী প্রতীক।”

​জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও এখনই ক্লাব ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না সিআরসেভেন। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের সাথে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাঁর চুক্তি বহাল রয়েছে। ফলে ক্লাব ফুটবলে তাঁকে আরও কিছুদিন মাঠে খেলতে দেখা যাবে। সমস্ত রেকর্ড, ট্রফি আর অবিস্মরণীয় মুহূর্ত পেছনে ফেলে আজ এক নতুন ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ফুটবল ইতিহাসের এই অবিসংবাদিত সম্রাট।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো

আপডেট সময় ১১:৪১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬

বিশ্ব ফুটবলের এক বর্ণাঢ্য ও রেকর্ডময় যুগের অবসান ঘটল। দীর্ঘ ২৩ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টেনে পর্তুগাল জাতীয় দল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। বুধবার প্রকাশিত একটি আবেগঘন সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট ও ভিডিওবার্তার মাধ্যমে তিনি পর্তুগালের জার্সিতে নিজের বুটজোড়া চিরতরে তুলে রাখার এই ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের কথা জানান।

২০০৩ সালে পর্তুগালের জার্সিতে আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় পা রেখেছিলেন এক তরুণ রোনালদো। দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশের হয়ে সর্বোচ্চ ২৩৪টি ম্যাচ খেলে তিনি করেছেন ১৪৬টি গোল। আন্তর্জাতিক ফুটবলে সর্বাধিক ম্যাচ খেলা এবং সর্বাধিক গোলের সর্বকালের রেকর্ডটি তাঁর দখলেই রয়েছে। তাঁর হাত ধরেই ২০১৬ সালে পর্তুগাল প্রথমবারের মতো ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা লাভ করে। পরবর্তীতে তাঁর নেতৃত্বেই দলটি ২০১৯ ও ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগও জয় করে। ফুটবলের ইতিহাসে প্রথম ও একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে (লিওনেল মেসির সাথে যৌথভাবে) টানা ৬টি ফিফা বিশ্বকাপে গোল করার ও অংশগ্রহণ করার অবিশ্বাস্য রেকর্ড গড়েছেন তিনি। তাঁর সর্বশেষ আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট ছিল ২০২৬ বিশ্বকাপ, যেখানে শেষ ষোলোর লড়াইয়ে স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে পর্তুগাল বিদায় নেয়।

​ভক্তদের উদ্দেশ্যে নিজের অফিসিয়াল বার্তায় রোনালদো অত্যন্ত আবেগঘন ভাষায় বলেন, “আমাদের জাতীয় দলের ৭ নম্বর জার্সিটি ফিরিয়ে দেওয়ার সময় এসে গেছে। টানা ২৩ বছর ধরে আমি এটি অত্যন্ত গর্ব ও দায়িত্ববোধের সাথে পরেছি। এটি কোনো সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না, কারণ কিছু সিদ্ধান্ত কেবল মাথা দিয়ে নেওয়া যায় না, হৃদয় দিয়েও নিতে হয়।”

​তিনি আরও যোগ করেন, “সময়ের সাথে সাথে গোল ম্লান হয়ে যায়, ট্রফিগুলো মিউজিয়ামে চলে যায় এবং রেকর্ডগুলো একদিন ভেঙে যায়। কিন্তু মানুষের হৃদয়ে তৈরি হওয়া জায়গাটি সময় কখনো মুছে ফেলতে পারে না।” পাশাপাশি তিনি তাঁর পরিবার, পর্তুগালের সাধারণ জনগণ এবং তাঁর দীর্ঘ ক্যারিয়ারের কোচ ও স্টাফদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন। ভিডিওবার্তার ক্যাপশনে তিনি লেখেন, “পর্তুগাল সর্বদা আমার জীবনের একটি অংশ হয়ে থাকবে।”

​সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছিল যে, দলগত কিছু শৃঙ্খলাজনিত বিষয় নিয়ে কোচ জর্জ জেসুসের সাথে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলেও পরবর্তীতে তিনি ক্ষমা চেয়ে দলের প্রতি নিজের দায়বদ্ধতা প্রমাণ করেছিলেন। সব জটিলতা পেছনে ফেলে এবার নিজেই জাতীয় দল থেকে সরে দাঁড়ানোর চূড়ান্ত ঘোষণা দিলেন এই মহাতারকা।

​পর্তুগিজ ফুটবল ফেডারেশন এক বিবৃতিতে তাঁর প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছে, “তিনি কেবল একজন ব্যতিক্রমী অ্যাথলেটই নন, বরং আমাদের জাতীয় দলের মূল চেতনার এক অনুপ্রেরণাদায়ী প্রতীক।”

​জাতীয় দল থেকে বিদায় নিলেও এখনই ক্লাব ফুটবলকে বিদায় জানাচ্ছেন না সিআরসেভেন। সৌদি প্রো লিগের ক্লাব আল-নাসরের সাথে ২০২৭ সাল পর্যন্ত তাঁর চুক্তি বহাল রয়েছে। ফলে ক্লাব ফুটবলে তাঁকে আরও কিছুদিন মাঠে খেলতে দেখা যাবে। সমস্ত রেকর্ড, ট্রফি আর অবিস্মরণীয় মুহূর্ত পেছনে ফেলে আজ এক নতুন ইতিহাসের পাতায় নাম লেখালেন ফুটবল ইতিহাসের এই অবিসংবাদিত সম্রাট।