ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

অর্ধলাখ কোটি টাকার জাল নোট বিক্রেতার হাতে

বিদেশি গোয়েন্দা মদদে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে একটি মহল। এর অংশ হিসাবে এরই মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার জাল নোট দেশে ঢুকিয়ে কারবারিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদেশে পাঠানোর জন্য সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন গোপন আস্তানায় রাখা হয়েছে আরও দেড় লাখ কোটি টাকার জাল নোট। এ তথ্য ফাঁস হওয়ায় সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাল টাকার নেপথ্য কারিগর ও কারবারিদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী থানাগুলোর পুলিশ কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সন্দেহভাজনদের নজরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ বড় বড় শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে।

জাল টাকার মাধ্যমে অর্থনীতি ধ্বংসের নীলনকশা নিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশের আইজি বাহারুল আলম যুগান্তরকে বলেন, তথ্যটি যদি সঠিক হয়ে থাকে, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য এলার্মিং। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মূলহোতাদের পাশাপাশি জাল টাকার খুচরা বিক্রেতাকেও শনাক্ত করতে নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিট।

সূত্র জানিয়েছে, জাল টাকা ঢুকানোর মিশনের প্রথম চালানে দেশের অভ্যন্তরে ৫০ হাজার কোটি টাকার জাল নোট পাঠানো হয়েছে। এসব টাকা পাঠানো এবং ছড়ানোর সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীও জড়িত রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে পেশাদার খুচরা বিক্রেতাদের হাতে চলে গেছে এসব জাল টাকা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভারতের মাটিতে বিশেষায়িত প্রিন্টিং প্রেস ব্যবহার করে বাংলাদেশি টাকার হুবহু নকল তৈরি করা হচ্ছে। উন্নতমানের কাগজ, কালি ও নিরাপত্তা সুতা ব্যবহার করে এমনভাবে এই নোট ছাপা হচ্ছে যে, সাধারণ চোখে আসল-নকল চেনা প্রায় অসম্ভব। চোরাকারবারিরা সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে বিভিন্ন বিশেষ রুট ব্যবহার করছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলগুলো হয়ে বাংলাদেশে জাল টাকা ঢুকছে। প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট ব্যাগ, ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী পরিবহণের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করছে। স্থানীয় কিছু দালাল ও পাচারকারী এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এমনকি নারী-শিশুকেও পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় অন্তত ৭টি বড় সিন্ডিকেট জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি সিন্ডিকেটের অধীনে রয়েছে আরও ছোট ছোট চক্র। এরা মূলত রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে, রেস্টুরেন্ট ও শপিংমলে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু খুচরা বাজারেই নয়, চক্রটি এখন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাতেও জাল নোট ঢোকানোর চেষ্টা করছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া এবং জনমনে ভারতবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করা।

নজরদারিতে হুন্ডি ও অনলাইন চক্র : জাল নোটের পাশাপাশি হুন্ডি ও অনলাইন লেনদেন চক্রের সঙ্গেও এরা যোগাযোগ রাখছে। অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে সিন্ডিকেটগুলো গোপন যোগাযোগ করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণকে সতর্ক না করলে এ নাশকতামূলক পরিকল্পনা ঠেকানো কঠিন হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই নানা সংকটে জর্জরিত। এর মধ্যে জাল নোটের মহামারি নতুন করে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

অর্ধলাখ কোটি টাকার জাল নোট বিক্রেতার হাতে

আপডেট সময় ০৬:২৮:৪৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩ অক্টোবর ২০২৫

বিদেশি গোয়েন্দা মদদে বাংলাদেশের অর্থনীতি ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে একটি মহল। এর অংশ হিসাবে এরই মধ্যে ৫০ হাজার কোটি টাকার জাল নোট দেশে ঢুকিয়ে কারবারিদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এদেশে পাঠানোর জন্য সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন গোপন আস্তানায় রাখা হয়েছে আরও দেড় লাখ কোটি টাকার জাল নোট। এ তথ্য ফাঁস হওয়ায় সীমান্তে কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জাল টাকার নেপথ্য কারিগর ও কারবারিদের ধরতে তৎপরতা শুরু করেছে। সীমান্তবর্তী থানাগুলোর পুলিশ কর্মকর্তারা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সন্দেহভাজনদের নজরে রাখা হয়েছে। বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, সিলেট ও খুলনাসহ বড় বড় শহরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতা বেড়েছে।

জাল টাকার মাধ্যমে অর্থনীতি ধ্বংসের নীলনকশা নিয়ে বৃহস্পতিবার যুগান্তরে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে পুলিশের আইজি বাহারুল আলম যুগান্তরকে বলেন, তথ্যটি যদি সঠিক হয়ে থাকে, তবে তা দেশের অর্থনীতির জন্য এলার্মিং। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কারও সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেলে তাকে অবশ্যই আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। মূলহোতাদের পাশাপাশি জাল টাকার খুচরা বিক্রেতাকেও শনাক্ত করতে নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসনের বিভিন্ন ইউনিট।

সূত্র জানিয়েছে, জাল টাকা ঢুকানোর মিশনের প্রথম চালানে দেশের অভ্যন্তরে ৫০ হাজার কোটি টাকার জাল নোট পাঠানো হয়েছে। এসব টাকা পাঠানো এবং ছড়ানোর সঙ্গে পতিত আওয়ামী লীগের কিছু নেতাকর্মীও জড়িত রয়েছেন। তাদের মাধ্যমে পেশাদার খুচরা বিক্রেতাদের হাতে চলে গেছে এসব জাল টাকা।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ভারতের মাটিতে বিশেষায়িত প্রিন্টিং প্রেস ব্যবহার করে বাংলাদেশি টাকার হুবহু নকল তৈরি করা হচ্ছে। উন্নতমানের কাগজ, কালি ও নিরাপত্তা সুতা ব্যবহার করে এমনভাবে এই নোট ছাপা হচ্ছে যে, সাধারণ চোখে আসল-নকল চেনা প্রায় অসম্ভব। চোরাকারবারিরা সীমান্তের কাঁটাতার ঘেঁষে বিভিন্ন বিশেষ রুট ব্যবহার করছে। বিশেষত পশ্চিমবঙ্গের মালদা, মুর্শিদাবাদ, নদীয়া ও উত্তর দিনাজপুর জেলার সীমান্তঘেঁষা অঞ্চলগুলো হয়ে বাংলাদেশে জাল টাকা ঢুকছে। প্রতিদিন গড়ে কয়েক কোটি টাকার জাল নোট ব্যাগ, ট্রাক কিংবা যাত্রীবাহী পরিবহণের মাধ্যমে সীমান্ত অতিক্রম করছে। স্থানীয় কিছু দালাল ও পাচারকারী এতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছে। এমনকি নারী-শিশুকেও পাচারের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার একটি সূত্র জানায়, ঢাকায় অন্তত ৭টি বড় সিন্ডিকেট জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। প্রতিটি সিন্ডিকেটের অধীনে রয়েছে আরও ছোট ছোট চক্র। এরা মূলত রাজধানীর বিভিন্ন পাইকারি বাজারে, বাস টার্মিনাল ও রেলস্টেশনে, রেস্টুরেন্ট ও শপিংমলে জাল নোট ছড়িয়ে দিচ্ছে। শুধু খুচরা বাজারেই নয়, চক্রটি এখন ব্যাংক ও মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সেবাতেও জাল নোট ঢোকানোর চেষ্টা করছে।

একজন গোয়েন্দা কর্মকর্তা জানান, ভারতের একটি গোয়েন্দা সংস্থা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে থাকতে পারে। তাদের মূল লক্ষ্য বাংলাদেশের অর্থনীতি ভেঙে দেওয়া এবং জনমনে ভারতবিরোধী মনোভাব সৃষ্টি করা।

নজরদারিতে হুন্ডি ও অনলাইন চক্র : জাল নোটের পাশাপাশি হুন্ডি ও অনলাইন লেনদেন চক্রের সঙ্গেও এরা যোগাযোগ রাখছে। অপরদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও টেলিগ্রাম-হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ ব্যবহার করে সিন্ডিকেটগুলো গোপন যোগাযোগ করছে।

অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, জনগণকে সতর্ক না করলে এ নাশকতামূলক পরিকল্পনা ঠেকানো কঠিন হবে। বাংলাদেশের অর্থনীতি ইতোমধ্যেই নানা সংকটে জর্জরিত। এর মধ্যে জাল নোটের মহামারি নতুন করে বড় হুমকি হয়ে দেখা দিয়েছে।