ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন Logo আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য আ.লীগের দোসর মানিকের ভবন নির্মাণ Logo বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিয়াপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ মেগা ফাইনাল Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ

হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তারের আবেদন আদালতে মঞ্জু

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) সকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুনের আদালতে এ মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

তিনি জানান, শুনানির সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অভিযুক্ত সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

এর আগে ৯ মাস ধরে কারাবন্দি আইভীকে সেলিম মন্ডল হত্যা মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করে পুলিশ। ওইদিনই আগের পাঁচটি মামলায় হাই কোর্ট আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়।

গত বছরের জুনে বিস্ফোরক আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা সেলিম হত্যা মামলার এজাহারে আসামির তালিকায় আইভীর নাম না থাকলেও ‘তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায়’ গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করে পুলিশ।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই আন্দোলনকারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ভবনের তৃতীয় তলায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের শিমরাইল শাখার অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজ করতে থাকা তিন কর্মী পুড়ে মারা যান। তিনদিন পর তাদের মরদেহ ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়।

তাদের একজন ছিলেন ২৯ বছর বয়সী সেলিম মন্ডল। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরজগন্নাথপুর গ্রামে। মৃত্যুর ১০ মাস পর গত বছরের ৬ জুন তার কৃষক পিতা ওয়াজেদ আলী হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নাসিক মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আইভী দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র এবং নাসিকের নির্বাচনে পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের আইভী হাই কোর্টে জামিন চেয়ে পাঁচটি পৃথক আবেদন করেন এবং জামিন পান।

পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও তাঁর মুক্তি মেলেনি নতুন আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ মামলাগুলোর আসামির তালিকাতেও আইভীর নাম নেই। বৃহস্পতিবার এ পাঁচ মামলায় আইভীকে হাই কোর্ট জামিন দিয়েছেন বলে জানান তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

তিনি বলে, “একজন সৎ জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিককে কেবল রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করতে বারবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এতে তার ন্যায়বিচার পাবার অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।”

“মামলাগুলোতে আসামির তালিকায় তার নাম না থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে, যা দুঃখজনক”, যোগ করেন এ আইনজীবী।

হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “ব্যাপারটা ঠিক তেমন না। বৈষম্যবিরোধী মামলাগুলো আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে তদন্ত করছি। কিছু মামলা তার গ্রেপ্তারের পরে হয়েছে, ফলে তদন্তে সেগুলোতেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে গ্রেপ্তারের আবেদন করে পুলিশ।”

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জেলায় ১০৫টি মামলা রুজু হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র সাতটির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ‘সম্পৃক্ততা পেলে’ আরও মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন

হত্যা মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তারের আবেদন আদালতে মঞ্জু

আপডেট সময় ০২:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ মার্চ ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত ইন্টেরিয়র মিস্ত্রি সেলিম মন্ডল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখাতে পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করেছে আদালত।

সোমবার (২ মার্চ) সকালে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সেলিনা খাতুনের আদালতে এ মামলাটির শুনানি অনুষ্ঠিত হয়।

শুনানি শেষে আদালত পুলিশের আবেদন মঞ্জুর করে আদেশ দেন বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

তিনি জানান, শুনানির সময় গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় মহিলা কারাগার থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অভিযুক্ত সাবেক মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী।

তার পক্ষে আদালতে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

এর আগে ৯ মাস ধরে কারাবন্দি আইভীকে সেলিম মন্ডল হত্যা মামলাটিতে গ্রেপ্তার দেখাতে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে আবেদন করে পুলিশ। ওইদিনই আগের পাঁচটি মামলায় হাই কোর্ট আইভীকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেয়।

গত বছরের জুনে বিস্ফোরক আইনে সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় করা সেলিম হত্যা মামলার এজাহারে আসামির তালিকায় আইভীর নাম না থাকলেও ‘তদন্তে ঘটনার সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা পাওয়ায়’ গ্রেপ্তার দেখাতে আবেদন করে পুলিশ।

মামলার নথিসূত্রে জানা যায়, ২০২৪ সালের ২০ জুলাই আন্দোলনকারী ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে একটি বহুতল ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ ভবনের তৃতীয় তলায় ডাচ বাংলা ব্যাংকের শিমরাইল শাখার অভ্যন্তরীণ সজ্জার কাজ করতে থাকা তিন কর্মী পুড়ে মারা যান। তিনদিন পর তাদের মরদেহ ভবনটি থেকে উদ্ধার করা হয়।

তাদের একজন ছিলেন ২৯ বছর বয়সী সেলিম মন্ডল। তার বাড়ি কুষ্টিয়ার কুমারখালীর চরজগন্নাথপুর গ্রামে। মৃত্যুর ১০ মাস পর গত বছরের ৬ জুন তার কৃষক পিতা ওয়াজেদ আলী হত্যা মামলাটি দায়ের করেন।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১৮ আগস্ট ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীকে নাসিক মেয়রের পদ থেকে অপসারণ করে তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকার।

নারায়ণগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি আইভী দেশের প্রথম নির্বাচিত নারী মেয়র এবং নাসিকের নির্বাচনে পরপর তিনবার নির্বাচিত হয়েছিলেন।

গত বছরের ৯ মে ভোরে নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগের নিজ বাসা থেকে সাবেক মেয়র আইভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

পরে তাকে জুলাই আন্দোলনের ঘটনায় দায়ের হওয়া তিনটি হত্যা মামলা ও দুটি হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।

এই পাঁচ মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন না পেয়ে নারায়ণগঞ্জের আইভী হাই কোর্টে জামিন চেয়ে পাঁচটি পৃথক আবেদন করেন এবং জামিন পান।

পাঁচ মামলায় জামিন পেলেও তাঁর মুক্তি মেলেনি নতুন আরও পাঁচটি মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখায় পুলিশ। এ মামলাগুলোর আসামির তালিকাতেও আইভীর নাম নেই। বৃহস্পতিবার এ পাঁচ মামলায় আইভীকে হাই কোর্ট জামিন দিয়েছেন বলে জানান তার আইনজীবী অ্যাডভোকেট আওলাদ হোসেন।

তিনি বলে, “একজন সৎ জনপ্রতিনিধি ও রাজনীতিককে কেবল রাজনৈতিক কারণে হয়রানি করতে বারবার নতুন মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হচ্ছে। এতে তার ন্যায়বিচার পাবার অধিকার ক্ষুন্ন করা হচ্ছে।”

“মামলাগুলোতে আসামির তালিকায় তার নাম না থাকলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার দেখাচ্ছে, যা দুঃখজনক”, যোগ করেন এ আইনজীবী।

হয়রানির অভিযোগ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তারেক আল মেহেদী বলেন, “ব্যাপারটা ঠিক তেমন না। বৈষম্যবিরোধী মামলাগুলো আমরা সর্বোচ্চ প্রায়োরিটি দিয়ে তদন্ত করছি। কিছু মামলা তার গ্রেপ্তারের পরে হয়েছে, ফলে তদন্তে সেগুলোতেও তার সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে বলে গ্রেপ্তারের আবেদন করে পুলিশ।”

সরকারি চাকরিতে কোটা পদ্ধতির সংস্কারের দাবিতে গড়ে ওঠা জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জেলায় ১০৫টি মামলা রুজু হয়েছে। তার মধ্যে মাত্র সাতটির তদন্ত শেষে অভিযোগপত্র দাখিল করেছে পুলিশ। বাকি মামলাগুলোর তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত চলাকালীন ‘সম্পৃক্ততা পেলে’ আরও মামলায় আইভীকে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন ওই কর্মকর্তা।