ঢাকা , বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo খানপুর হাসপাতালে ১৯ বছর ধরে একই পদে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আক্তারুজ্জামানকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার অভিযোগ Logo ইটের ফাঁক দিয়ে টাকা দিলেই উপর থেকে নেমে আসে মাদক Logo যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা শাহেনশাহর মা জাহানারা আর নেই Logo সরকারি সময়সূচি উপেক্ষার অভিযোগ: কাউলীবেড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সেবা নিতে এসে হয়রানির শিকার সাধারণ মানুষ Logo নাসিকে যুক্ত হচ্ছে ফতুল্লা-কুতুবপুর-এনায়েতনগর, বাদ কাশীপুর Logo নাসিকের টেন্ডার বাণিজ্যেরও অভিযোগ আসিফ মাহমুদের বিরুদ্ধে Logo শহরে অটোরিকশার সংখ্যা ও গ্যারেজের তালিকা চাইলেন এমপি আবুল কালাম Logo লিংক রোড সকালে পরিষ্কার, রাতে ফের ময়লা Logo হরমুজে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলায় একজন নিহত, যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করল ইরান Logo চেলসিকে রুখে দিয়ে তৃতীয় স্থানে হাল সিটি, হতাশ লিভারপুল

আর কত “রামিসা” হত্যা হলে জেগে উঠবে তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন? শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি

মুহসীন দেওয়ান : দেশে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের পর হত্যা এবং বিভিন্ন নৃশংস অপরাধ। প্রতিনিয়ত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসছে অসহায় শিশু, কিশোরী ও নারীদের উপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র। এসব ঘটনায় সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—দেশে অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠন থাকা সত্ত্বেও এসব ঘটনায় তাদের সক্রিয় ও শক্ত অবস্থান কোথায়?

সচেতন মহলের অভিযোগ, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল দায়িত্ব হচ্ছে যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই প্রতিবাদ করা, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার আদায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সময় তাদের মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায় না। অনেকের মতে, বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে—বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, ব্যানার-ফেস্টুন ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই যেন তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ ও পারিবারিক নির্যাতনের মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত বেড়ে চললেও এসব ইস্যুতে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠছে না। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—এসব কি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে না? আর কত ঘটনা ঘটলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নির্যাতিত মা-বোন ও শিশুদের পাশে দাঁড়াবে?

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি না হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে তা ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। ফলে অপরাধীরা আইনের প্রতি ভয় হারিয়ে ফেলে এবং নতুন করে অপরাধ সংঘটনে সাহস পায়।

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু প্রতিবাদ নয়, অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

এদিকে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল ভয়াবহ অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।

সমাজের প্রত্যাশা—আর কোনো মা-বাবাকে যেন তাদের সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়, আর কোনো শিশু বা নারী যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। মানবিক সমাজ গঠনে এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিবাদ, সচেতনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

খানপুর হাসপাতালে ১৯ বছর ধরে একই পদে মেডিকেল টেকনোলজিস্ট আক্তারুজ্জামানকে ঘিরে রাজনৈতিক প্রভাব ও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকার অভিযোগ

আর কত “রামিসা” হত্যা হলে জেগে উঠবে তথাকথিত মানবাধিকার সংগঠন? শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন ও হত্যার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের দাবি

আপডেট সময় ১১:২১:১০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬

মুহসীন দেওয়ান : দেশে দিন দিন উদ্বেগজনক হারে বেড়ে চলেছে শিশু ধর্ষণ, নারী নির্যাতন, ধর্ষণের পর হত্যা এবং বিভিন্ন নৃশংস অপরাধ। প্রতিনিয়ত সংবাদপত্র, টেলিভিশন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে উঠে আসছে অসহায় শিশু, কিশোরী ও নারীদের উপর ভয়াবহ নির্যাতনের চিত্র। এসব ঘটনায় সমাজে সৃষ্টি হচ্ছে আতঙ্ক, ক্ষোভ ও গভীর উদ্বেগ। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে—দেশে অসংখ্য মানবাধিকার সংগঠন থাকা সত্ত্বেও এসব ঘটনায় তাদের সক্রিয় ও শক্ত অবস্থান কোথায়?

সচেতন মহলের অভিযোগ, মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মূল দায়িত্ব হচ্ছে যেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘিত হবে, সেখানেই প্রতিবাদ করা, নির্যাতিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং ন্যায়বিচার আদায়ে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আন্দোলন গড়ে তোলা। কিন্তু বাস্তবে অধিকাংশ সময় তাদের মাঠে তেমন সক্রিয় দেখা যায় না। অনেকের মতে, বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে—বিশ্ব মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা, ব্যানার-ফেস্টুন ও আনুষ্ঠানিক কর্মসূচির মধ্যেই যেন তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে।

বিশেষ করে শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা, নারী ধর্ষণ ও পারিবারিক নির্যাতনের মতো ভয়াবহ ঘটনাগুলো প্রতিনিয়ত বেড়ে চললেও এসব ইস্যুতে শক্তিশালী সামাজিক আন্দোলন গড়ে উঠছে না। এতে সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন জাগছে—এসব কি মানবাধিকার লঙ্ঘনের মধ্যে পড়ে না? আর কত ঘটনা ঘটলে মানবাধিকার সংগঠনগুলো নির্যাতিত মা-বোন ও শিশুদের পাশে দাঁড়াবে?

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, বিচারহীনতার সংস্কৃতি, দীর্ঘসূত্রতা এবং অপরাধীদের দ্রুত শাস্তি না হওয়ায় অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে। অনেক সময় দেখা যায়, ভয়াবহ অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পর কিছুদিন আলোচনা হলেও পরে তা ধীরে ধীরে চাপা পড়ে যায়। ফলে অপরাধীরা আইনের প্রতি ভয় হারিয়ে ফেলে এবং নতুন করে অপরাধ সংঘটনে সাহস পায়।

সচেতন নাগরিকরা মনে করেন, ধর্ষণ, নির্যাতন ও নৃশংস হত্যার বিরুদ্ধে দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। মানবাধিকার সংগঠন, সামাজিক সংগঠন, রাজনৈতিক নেতৃত্ব, প্রশাসন এবং সাধারণ জনগণকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। শুধু প্রতিবাদ নয়, অপরাধ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি, পারিবারিক শিক্ষা, নৈতিক মূল্যবোধ গড়ে তোলা এবং আইনের সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করাও জরুরি।

এদিকে সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে জোর দাবি জানানো হয়েছে, নারী ও শিশু নির্যাতনসহ সকল ভয়াবহ অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি রায় কার্যকরে দীর্ঘসূত্রতা বন্ধ করে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এমন জঘন্য অপরাধ করার সাহস না পায়।

সমাজের প্রত্যাশা—আর কোনো মা-বাবাকে যেন তাদের সন্তানের লাশ কাঁধে নিতে না হয়, আর কোনো শিশু বা নারী যেন নির্যাতনের শিকার না হয়। মানবিক সমাজ গঠনে এখনই প্রয়োজন সম্মিলিত প্রতিবাদ, সচেতনতা এবং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার কার্যকর উদ্যোগ।