ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির Logo ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব দিবসে নাঃগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালী Logo সিদ্ধিরগঞ্জে বিহারী পট্টি ৩নং বালুর মাঠে বাবলা ও হীরার রমরমা মাদক ব্যবসা; এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি Logo ইতিহাস গড়ে টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি Logo তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ Logo আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস Logo মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন Logo আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য আ.লীগের দোসর মানিকের ভবন নির্মাণ Logo বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিয়াপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ মেগা ফাইনাল

জুলাইয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে ডিপ স্টেট

আসাদুজ্জামান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে ক্ষমতার হাতবদল হলেও, শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরে বিদ্যমান কিছু অদৃশ্য জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে সম্প্রতি একটি গভীর ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা সামনে এসেছে। দৃশ্যমান ক্ষমতার বাইরেও যে একটি সুনির্দিষ্ট শাসনকাঠামো বা ‘সিস্টেম’ পুরো রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে—এই আলোচনায় তার একটি নির্মোহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও ব্যবস্থার পুরোনো রূপ এবং পর্দার আড়ালের চালিকাশক্তিগুলো যেন বারবার ফিরে আসছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রশ্ন তুলছে।

১. ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য চালিকাশক্তি

আমাদের দেশের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু শুধু দৃশ্যমান সরকার বা রাজনৈতিক দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্দার আড়ালে এমন একটি ‘অদৃশ্য রাষ্ট্রযন্ত্র’ বা ডিপ স্টেট কাজ করে, যারা মূলত দেশের নীতি ও ভাগ্য নির্ধারণ করে। এই শক্তির মূল নিয়ন্ত্রণ বা রিমোট কন্ট্রোল থাকে সীমান্তের ওপারে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছে, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার চেয়ে বাইরের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পায়।

২. ‘লিমিটেড ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের মাস্টার প্ল্যান

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসায় মানুষের মনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা জেগেছিল। কিন্তু এই অদৃশ্য শক্তি একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করছে। তারা বাংলাদেশে একটি ‘লিমিটেড ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র বজায় রাখতে চায়।

এর বড় প্রমাণ হলো, নতুন ব্যবস্থার অধীনেও নির্বাচনী মাঠে পুরোনো রাজনৈতিক রূপই ফিরে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৮৫ জন পুরোনো সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সুপরিচিত পুরোনো মুখগুলোই নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে বা ভিন্ন পোশাকে আবার ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থাৎ, চেহারার বদল হলেও মূল ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

৩. হাদি ও হাসনাতের প্রতীকী উদাহরণ (সিস্টেমের নির্মমতা)

এই অদৃশ্য সিস্টেম কীভাবে তার বিরোধিতাকারীদের দমন বা নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝাতে হাদি ও হাসনাত নামের দুজন ব্যক্তির উদাহরণ দেওয়া যায়:

  • হাদি (আপসহীনতার পরিণতি): হাদি ছিলেন একজন সৎ ও আদর্শবাদী মানুষ, যিনি এই নোংরা সিস্টেমের সঙ্গে আপস করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি এই অদৃশ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, সিস্টেম তাকে সহ্য করেনি এবং তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (মৃত্যু)।
  • হাসনাত (সিস্টেমের ফাঁদ): হাসনাত ছিলেন আন্দোলনের একজন মূল কারিগর বা জাতীয় নেতা (ন্যাশনাল লিডার)। সিস্টেম তাকে সরাসরি মেরে ফেলেনি বা হুমকি দেয়নি। বরং তাকে দমনের জন্য আরও চতুর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তাকে সিস্টেমের ভেতরে টেনে নিয়ে, লোকাল পলিটিক্স, পদ-পদবি এবং ফান্ডের জালে আটকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তার যে জাতীয় পর্যায়ের বিপ্লবী কণ্ঠস্বর ছিল, তা স্তিমিত হয়ে গেছে এবং তিনি একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

৪. পদ্ধতিগত সংকট উত্তরণে দুটি মূল সংস্কারের প্রস্তাব

যদি আমরা সত্যিই এই চক্র থেকে বের হতে চাই, তবে শুধু নেতা বা দল পরিবর্তন করে লাভ নেই। শাসনব্যবস্থার দুটি জায়গায় মৌলিক সংস্কার করা জরুরি।

ক. এমপিদের কাজ হবে শুধু আইন প্রণয়ন

বর্তমানে একজন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার এলাকার স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট এবং সব ধরনের উন্নয়নমূলক কমিটির প্রধান হয়ে বসেন। এর ফলে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং এমপিরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।

প্রস্তাবিত সংস্কার: এমপিদের কাজ হবে শুধু জাতীয় সংসদে বসে দেশের জন্য আইন ও নীতি তৈরি করা। স্থানীয় কোনো উন্নয়ন বা প্রশাসনিক দায়িত্বে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। স্থানীয় উন্নয়নের দায়িত্ব থাকবে সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় সরকারের (চেয়ারম্যান/মেয়র) হাতে।

খ. নির্বাচনের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা

বর্তমানে আমাদের দেশে নির্বাচন একটি ‘হাই-প্রোফাইল ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট’ বা বড় ব্যবসায়িক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। একজন প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা তোলার জন্য দুর্নীতিতে জড়ান। ফলে সৎ ও যোগ্য মানুষরা কখনোই নির্বাচনে টিকে থাকতে পারেন না।

প্রস্তাবিত সংস্কার: নির্বাচনের এই বাণিজ্যিক রূপ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে পোস্টার ছাপানো, মাইকিং বা বিশাল জনসভা করতে পারবেন না।

বিকল্প পদ্ধতি: নির্বাচন কমিশন নিজ দায়িত্বে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমমানের পোস্টার এবং প্রচারণার ব্যবস্থা করবে। এছাড়া, প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের নিয়ে ‘সরাসরি বিতর্ক’ (লাইভ ডিবেট)-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রার্থীরা জনগণের সামনে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। জনগণ কোনো টাকা বা পেশিশক্তি না দেখে, শুধুমাত্র প্রার্থীর যোগ্যতা ও যুক্তি দেখে ভোট দেবেন।

পরিশেষ

এই মৌলিক সংস্কারগুলো না করা পর্যন্ত ক্ষমতার হাতবদল হবে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তি বা ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাব থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। দেশের টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনই ভাবার সময় এসেছে।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির

জুলাইয়ের স্বপ্ন ভেঙে দিচ্ছে ডিপ স্টেট

আপডেট সময় ১১:১২:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৯ জুন ২০২৬

আসাদুজ্জামান

বাংলাদেশের রাজনৈতিক পটভূমিতে ক্ষমতার হাতবদল হলেও, শাসনব্যবস্থার অভ্যন্তরে বিদ্যমান কিছু অদৃশ্য জটিলতা এবং ভবিষ্যৎ সংস্কারের রূপরেখা নিয়ে সম্প্রতি একটি গভীর ও বিশ্লেষণমূলক আলোচনা সামনে এসেছে। দৃশ্যমান ক্ষমতার বাইরেও যে একটি সুনির্দিষ্ট শাসনকাঠামো বা ‘সিস্টেম’ পুরো রাষ্ট্রকে নিয়ন্ত্রণ করছে—এই আলোচনায় তার একটি নির্মোহ চিত্র ফুটে উঠেছে। ফলে, ক্ষমতার পরিবর্তন ঘটলেও ব্যবস্থার পুরোনো রূপ এবং পর্দার আড়ালের চালিকাশক্তিগুলো যেন বারবার ফিরে আসছে, যা বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে জনমনে নানামুখী প্রশ্ন তুলছে।

১. ‘ডিপ স্টেট’ বা অদৃশ্য চালিকাশক্তি

আমাদের দেশের ক্ষমতার মূল কেন্দ্রবিন্দু শুধু দৃশ্যমান সরকার বা রাজনৈতিক দলের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। পর্দার আড়ালে এমন একটি ‘অদৃশ্য রাষ্ট্রযন্ত্র’ বা ডিপ স্টেট কাজ করে, যারা মূলত দেশের নীতি ও ভাগ্য নির্ধারণ করে। এই শক্তির মূল নিয়ন্ত্রণ বা রিমোট কন্ট্রোল থাকে সীমান্তের ওপারে। তারা এমন একটি ব্যবস্থা তৈরি করে রেখেছে, যেখানে দেশের সাধারণ মানুষের ইচ্ছা-অনিচ্ছার চেয়ে বাইরের স্বার্থ বেশি প্রাধান্য পায়।

২. ‘লিমিটেড ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্রের মাস্টার প্ল্যান

জুলাইয়ের গণ-অভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতায় আসায় মানুষের মনে বড় ধরনের পরিবর্তনের আশা জেগেছিল। কিন্তু এই অদৃশ্য শক্তি একটি সুনির্দিষ্ট মাস্টার প্ল্যান অনুযায়ী কাজ করছে। তারা বাংলাদেশে একটি ‘লিমিটেড ডেমোক্রেসি’ বা নিয়ন্ত্রিত গণতন্ত্র বজায় রাখতে চায়।

এর বড় প্রমাণ হলো, নতুন ব্যবস্থার অধীনেও নির্বাচনী মাঠে পুরোনো রাজনৈতিক রূপই ফিরে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে, প্রায় ৮৫ জন পুরোনো সংসদ সদস্য (এমপি) এবং সুপরিচিত পুরোনো মুখগুলোই নতুন কোনো রাজনৈতিক ব্যানারে বা ভিন্ন পোশাকে আবার ক্ষমতায় আসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। অর্থাৎ, চেহারার বদল হলেও মূল ব্যবস্থার কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

৩. হাদি ও হাসনাতের প্রতীকী উদাহরণ (সিস্টেমের নির্মমতা)

এই অদৃশ্য সিস্টেম কীভাবে তার বিরোধিতাকারীদের দমন বা নিয়ন্ত্রণ করে, তা বোঝাতে হাদি ও হাসনাত নামের দুজন ব্যক্তির উদাহরণ দেওয়া যায়:

  • হাদি (আপসহীনতার পরিণতি): হাদি ছিলেন একজন সৎ ও আদর্শবাদী মানুষ, যিনি এই নোংরা সিস্টেমের সঙ্গে আপস করতে রাজি হননি। তিনি সরাসরি এই অদৃশ্য ব্যবস্থার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিলেন। ফলস্বরূপ, সিস্টেম তাকে সহ্য করেনি এবং তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে (মৃত্যু)।
  • হাসনাত (সিস্টেমের ফাঁদ): হাসনাত ছিলেন আন্দোলনের একজন মূল কারিগর বা জাতীয় নেতা (ন্যাশনাল লিডার)। সিস্টেম তাকে সরাসরি মেরে ফেলেনি বা হুমকি দেয়নি। বরং তাকে দমনের জন্য আরও চতুর পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়েছে। তাকে সিস্টেমের ভেতরে টেনে নিয়ে, লোকাল পলিটিক্স, পদ-পদবি এবং ফান্ডের জালে আটকে দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তার যে জাতীয় পর্যায়ের বিপ্লবী কণ্ঠস্বর ছিল, তা স্তিমিত হয়ে গেছে এবং তিনি একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছেন।

৪. পদ্ধতিগত সংকট উত্তরণে দুটি মূল সংস্কারের প্রস্তাব

যদি আমরা সত্যিই এই চক্র থেকে বের হতে চাই, তবে শুধু নেতা বা দল পরিবর্তন করে লাভ নেই। শাসনব্যবস্থার দুটি জায়গায় মৌলিক সংস্কার করা জরুরি।

ক. এমপিদের কাজ হবে শুধু আইন প্রণয়ন

বর্তমানে একজন এমপি নির্বাচিত হওয়ার পর তার এলাকার স্কুল, কলেজ, মসজিদ-মাদ্রাসা, রাস্তাঘাট এবং সব ধরনের উন্নয়নমূলক কমিটির প্রধান হয়ে বসেন। এর ফলে স্থানীয় উপজেলা চেয়ারম্যান বা পৌর মেয়রের সঙ্গে ক্ষমতার দ্বন্দ্ব তৈরি হয় এবং এমপিরা একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করেন।

প্রস্তাবিত সংস্কার: এমপিদের কাজ হবে শুধু জাতীয় সংসদে বসে দেশের জন্য আইন ও নীতি তৈরি করা। স্থানীয় কোনো উন্নয়ন বা প্রশাসনিক দায়িত্বে তাদের কোনো হস্তক্ষেপ থাকবে না। স্থানীয় উন্নয়নের দায়িত্ব থাকবে সম্পূর্ণভাবে স্থানীয় সরকারের (চেয়ারম্যান/মেয়র) হাতে।

খ. নির্বাচনের বাণিজ্যিকীকরণ বন্ধ করা

বর্তমানে আমাদের দেশে নির্বাচন একটি ‘হাই-প্রোফাইল ইনভেস্টমেন্ট প্রজেক্ট’ বা বড় ব্যবসায়িক বিনিয়োগে পরিণত হয়েছে। একজন প্রার্থী কোটি কোটি টাকা খরচ করে নির্বাচন করেন এবং ক্ষমতায় গিয়ে সেই টাকা তোলার জন্য দুর্নীতিতে জড়ান। ফলে সৎ ও যোগ্য মানুষরা কখনোই নির্বাচনে টিকে থাকতে পারেন না।

প্রস্তাবিত সংস্কার: নির্বাচনের এই বাণিজ্যিক রূপ পুরোপুরি বন্ধ করতে হবে। কোনো প্রার্থী ব্যক্তিগতভাবে পোস্টার ছাপানো, মাইকিং বা বিশাল জনসভা করতে পারবেন না।

বিকল্প পদ্ধতি: নির্বাচন কমিশন নিজ দায়িত্বে প্রতিটি প্রার্থীর জন্য সমমানের পোস্টার এবং প্রচারণার ব্যবস্থা করবে। এছাড়া, প্রতিটি আসনে প্রার্থীদের নিয়ে ‘সরাসরি বিতর্ক’ (লাইভ ডিবেট)-এর আয়োজন করা হবে, যেখানে প্রার্থীরা জনগণের সামনে তাদের পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। জনগণ কোনো টাকা বা পেশিশক্তি না দেখে, শুধুমাত্র প্রার্থীর যোগ্যতা ও যুক্তি দেখে ভোট দেবেন।

পরিশেষ

এই মৌলিক সংস্কারগুলো না করা পর্যন্ত ক্ষমতার হাতবদল হবে ঠিকই, কিন্তু সাধারণ মানুষের প্রকৃত মুক্তি বা ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাব থেকে বের হওয়া সম্ভব নয়। দেশের টেকসই রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য এই বিষয়গুলো নিয়ে এখনই ভাবার সময় এসেছে।