ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির Logo ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব দিবসে নাঃগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালী Logo সিদ্ধিরগঞ্জে বিহারী পট্টি ৩নং বালুর মাঠে বাবলা ও হীরার রমরমা মাদক ব্যবসা; এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি Logo ইতিহাস গড়ে টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি Logo তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ Logo আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস Logo মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন Logo আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য আ.লীগের দোসর মানিকের ভবন নির্মাণ Logo বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিয়াপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ মেগা ফাইনাল

নওগাঁর মহাদেবপুরে মিল-কারখানার ছাই-ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় বিভিন্ন মিল-কারখানা থেকে নির্গত ছাই, ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় একদিকে যেমন আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিল-কারখানা থেকে উৎপন্ন ছাই ও বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে না রেখে রাস্তার পাশে, খোলা জায়গা ও লোকালয়ের আশপাশে ফেলা হচ্ছে। এতে সামান্য বাতাসেই ছাই ও ধুলাবালি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যানবাহন চলাচল ও বাতাসের কারণে রাস্তার পাশের এসব ছাই উড়ে গিয়ে বাড়িঘর, দোকানপাট ও ফসলি জমিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কুঞ্জবন দোহালি এবং শিবগঞ্জ মোড় থেকে আখেরা মোড় পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মিল-কারখানা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ধুলা-ছাই নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, মিল-কারখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই ও ধুলাবালির কারণে রাস্তাঘাট ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও বর্জ্য জমে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। এছাড়া মিলের ফ্যানের মাধ্যমে ধুলা ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ছাই ও ধুলাবালির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখে ধুলাবালি পড়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় একইভাবে ছাই ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ছাই ও বর্জ্য কৃষিজমি ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ায় কৃষি ও জলজ পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলেন, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম অবশ্যই প্রয়োজন, তবে এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের চলাচলের রাস্তা ও লোকালয়ের পাশে ছাই-বর্জ্য ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, মিল-কারখানাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবেশবিধি মেনে চলছে কি না তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ ও অপসারণ, ধুলা-ছাই নিয়ন্ত্রণ এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিতভাবে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হলে তা ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে নিয়মিত নজরদারি, পরিবেশগত কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক ও পরিবেশগত নজরদারি বাড়িয়ে মহাদেবপুরের মিল-কারখানাগুলোর ছাই, ধোঁয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির

নওগাঁর মহাদেবপুরে মিল-কারখানার ছাই-ধোঁয়ায় বিপর্যস্ত জনজীবন, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ

আপডেট সময় ০৭:৫৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ মমিন আলী নওগাঁ জেলা প্রতিনিধি: বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের অভিযোগ, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের দাবি।

নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলায় বিভিন্ন মিল-কারখানা থেকে নির্গত ছাই, ধোঁয়া ও বর্জ্যে পরিবেশ বিপর্যয়ের অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে এসব বর্জ্য যথাযথভাবে ব্যবস্থাপনা না করায় একদিকে যেমন আশপাশের পরিবেশ দূষিত হচ্ছে, অন্যদিকে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা পড়ছেন নানা ভোগান্তিতে। এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ ও উদ্বেগ বাড়ছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় মিল-কারখানা থেকে উৎপন্ন ছাই ও বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে না রেখে রাস্তার পাশে, খোলা জায়গা ও লোকালয়ের আশপাশে ফেলা হচ্ছে। এতে সামান্য বাতাসেই ছাই ও ধুলাবালি চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে যানবাহন চলাচল ও বাতাসের কারণে রাস্তার পাশের এসব ছাই উড়ে গিয়ে বাড়িঘর, দোকানপাট ও ফসলি জমিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কুঞ্জবন দোহালি এবং শিবগঞ্জ মোড় থেকে আখেরা মোড় পর্যন্ত বেশ কয়েকটি মিল-কারখানা রয়েছে। অভিযোগ রয়েছে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেকগুলোতে পরিবেশসম্মত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও ধুলা-ছাই নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে না।

এলাকাবাসী জানান, মিল-কারখানা থেকে ছড়িয়ে পড়া ছাই ও ধুলাবালির কারণে রাস্তাঘাট ও আশপাশের পরিবেশ নোংরা হয়ে পড়ছে। কোথাও কোথাও বর্জ্য জমে সৃষ্টি হচ্ছে দুর্গন্ধ। এছাড়া মিলের ফ্যানের মাধ্যমে ধুলা ও ছাই বাতাসে ছড়িয়ে পড়ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তারা।
ছাই ও ধুলাবালির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ব্যক্তি, পথচারী ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের। অনেক স্থানীয় বাসিন্দা কাশি, শ্বাসকষ্ট ও চোখে ধুলাবালি পড়ার মতো সমস্যার কথা জানিয়েছেন। তবে এসব স্বাস্থ্য সমস্যার সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণে চিকিৎসকের পরামর্শ প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।

স্থানীয়দের আরও অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কার্যকর ব্যবস্থা না থাকায় একইভাবে ছাই ও বর্জ্য ফেলা হচ্ছে। এতে রাস্তার পাশে থাকা সরকারি গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে। পাশাপাশি ছাই ও বর্জ্য কৃষিজমি ও জলাশয়ে গিয়ে পড়ায় কৃষি ও জলজ পরিবেশের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়ার আশঙ্কা করছেন তারা।

স্থানীয় ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও বাসিন্দারা বলেন, শিল্প-কারখানা স্থাপন ও উৎপাদন কার্যক্রম অবশ্যই প্রয়োজন, তবে এর পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষার বিষয়টিও নিশ্চিত করতে হবে। মানুষের চলাচলের রাস্তা ও লোকালয়ের পাশে ছাই-বর্জ্য ফেলে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি কোনোভাবেই কাম্য নয়।

এলাকাবাসী সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের দাবি, মিল-কারখানাগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করে পরিবেশবিধি মেনে চলছে কি না তা যাচাই করতে হবে। পাশাপাশি বর্জ্য নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ ও অপসারণ, ধুলা-ছাই নিয়ন্ত্রণ এবং যেখানে-সেখানে বর্জ্য ফেলা বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিতভাবে শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনা করা হলে তা ধীরে ধীরে জনস্বাস্থ্য, কৃষি ও পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব ফেলতে পারে। তাই শিল্পায়নের সঙ্গে পরিবেশ সুরক্ষার সমন্বয় ঘটিয়ে নিয়মিত নজরদারি, পরিবেশগত কার্যক্রম পরিদর্শন এবং বিধিনিষেধ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক ও পরিবেশগত নজরদারি বাড়িয়ে মহাদেবপুরের মিল-কারখানাগুলোর ছাই, ধোঁয়া ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা হবে এবং জনসাধারণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ও পরিবেশ সুরক্ষিত থাকবে।