ঢাকা , রবিবার, ০৮ নভেম্বর ২০২৬, ২৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির Logo ৭ই নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব দিবসে নাঃগঞ্জ জেলা ট্রাক, ট্যাংলড়ী ও কভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের র‍্যালী Logo সিদ্ধিরগঞ্জে বিহারী পট্টি ৩নং বালুর মাঠে বাবলা ও হীরার রমরমা মাদক ব্যবসা; এলাকাবাসীর তীব্র ক্ষোভ ও পুলিশ প্রশাসনের হস্তক্ষেপ দাবি Logo ইতিহাস গড়ে টেস্টে হৃদয়ের ডাবল সেঞ্চুরি Logo তানজিন তিশার সদস্যপদ স্থগিত করলো অভিনয়শিল্পী সংঘ Logo আজ ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস Logo মাত্র দুই বছরে ১০ হাজার টাকা বেতনের কর্মচারী থেকে কোটি টাকার মালিক! ‘দিশারি ট্রাস্ট’ ঘিরে নানা প্রশ্ন Logo আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য আ.লীগের দোসর মানিকের ভবন নির্মাণ Logo বন্দরে আদালত অবমাননা করে জমি মাপার নির্দেশ, ওসি’র ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন? Logo ফরিদপুরের ভাঙ্গায় মিয়াপাড়া ফুটবল টুর্নামেন্ট ২০২৬ মেগা ফাইনাল

পটুয়াখালীতে শিক্ষক নেছারুদ্দীন তালুকদারের মৃত্যু: হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

​স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালীর বাজেমহল হাইস্কুলের সাবেক সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক ও স্থানীয় প্রবীণ খতিব আলহাজ্ব মাওঃ নেছারুদ্দীন তালুকদার গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেছেন। তবে তাঁর এই মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছে না পরিবারের একাংশ। প্রবীণ এই আলেমের চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলা, সঠিক পরিচর্যার অভাব এবং সম্পত্তি নিয়ে মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মরহুমের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ আল মোমেনের ছেলে (নাতি) মারুফ বিল্লাহ্ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

​স্বজন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওঃ নেছারুদ্দীন তালুকদার ছিলেন একজন নীতিবান শিক্ষক ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। নাতির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষ দিকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর পরিবারের একটি পক্ষ থেকে চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই নির্যাতনের পরপরই তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ট্রোকের পর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়; কারণ চিকিৎসায় বড় অঙ্কের খরচ চালাতে জমি বিক্রি করতে হলে ওয়ারিশদের সম্পত্তির ভাগ কমে যাবে—এই চিন্তা থেকে চিকিৎসা ও নিউরোলজি ফলোআপ এড়িয়ে যাওয়া হয়।

​পরবর্তী সময়ে ‘অর্থসংকট’-এর অজুহাত দেখিয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় থেরাপি ও নিয়মিত চিকিৎসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে নাতি চিকিৎসা বন্ধের কারণ জানতে চাইলে প্রবীণ এই আলেম আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর নিজের কাছে থেরাপির কোনো টাকা নেই। চিকিৎসা চালাতে জমি বিক্রির কথা বললে তিনি আশঙ্কা জানান, জমি বিক্রি করলেও সেই টাকা অন্যরা আত্মসাৎ করবে; উল্টো জমি বিক্রির কথা বললে তাঁর সামান্য যে খাবারটুকু দেওয়া হচ্ছে, তা-ও হয়তো বন্ধ করে দেবে। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাঁকে সঠিক পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপ্লিমেন্ট না দিয়ে চরম পুষ্টিহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও নাতি অভিযোগ করেন।

​ঘটনাটিকে ‘নীরব হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে মরহুমের নাতি চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথি, সিটি/এমআরআই (CT/MRI) রিপোর্ট ও সম্পত্তির কাগজপত্র নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।

আপলোডকারীর তথ্য

Rudra Kantho24

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনায় নির্বাচন সম্পন্ন হলো নারায়ণগঞ্জ টাইলস্ দোকান মালিক সমিতির

পটুয়াখালীতে শিক্ষক নেছারুদ্দীন তালুকদারের মৃত্যু: হত্যা ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

আপডেট সময় ১১:৩৪:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

​স্টাফ রিপোর্টার: পটুয়াখালীর বাজেমহল হাইস্কুলের সাবেক সিনিয়র ধর্মীয় শিক্ষক ও স্থানীয় প্রবীণ খতিব আলহাজ্ব মাওঃ নেছারুদ্দীন তালুকদার গত ১৯ সেপ্টেম্বর ইন্তেকাল করেছেন। তবে তাঁর এই মৃত্যুকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারছে না পরিবারের একাংশ। প্রবীণ এই আলেমের চিকিৎসায় মারাত্মক অবহেলা, সঠিক পরিচর্যার অভাব এবং সম্পত্তি নিয়ে মানসিক নির্যাতন চালিয়ে তাঁকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মরহুমের বড় ছেলে আব্দুল্লাহ আল মোমেনের ছেলে (নাতি) মারুফ বিল্লাহ্ এই ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

​স্বজন এবং স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাওঃ নেছারুদ্দীন তালুকদার ছিলেন একজন নীতিবান শিক্ষক ও সম্মানিত ব্যক্তিত্ব। নাতির অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২১ সালের শেষ দিকে সম্পত্তি লিখে নেওয়ার জন্য তাঁর ওপর পরিবারের একটি পক্ষ থেকে চরম মানসিক চাপ সৃষ্টি করা হয়। এই নির্যাতনের পরপরই তিনি ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। স্ট্রোকের পর তাঁকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রায় চার ঘণ্টা ফেলে রাখা হয়। পরবর্তীতে হাসপাতালে নেওয়া হলেও উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত করা হয়; কারণ চিকিৎসায় বড় অঙ্কের খরচ চালাতে জমি বিক্রি করতে হলে ওয়ারিশদের সম্পত্তির ভাগ কমে যাবে—এই চিন্তা থেকে চিকিৎসা ও নিউরোলজি ফলোআপ এড়িয়ে যাওয়া হয়।

​পরবর্তী সময়ে ‘অর্থসংকট’-এর অজুহাত দেখিয়ে তাঁর প্রয়োজনীয় থেরাপি ও নিয়মিত চিকিৎসাও বন্ধ করে দেওয়া হয়। মৃত্যুর কিছুদিন আগে নাতি চিকিৎসা বন্ধের কারণ জানতে চাইলে প্রবীণ এই আলেম আক্ষেপ করে বলেন, তাঁর নিজের কাছে থেরাপির কোনো টাকা নেই। চিকিৎসা চালাতে জমি বিক্রির কথা বললে তিনি আশঙ্কা জানান, জমি বিক্রি করলেও সেই টাকা অন্যরা আত্মসাৎ করবে; উল্টো জমি বিক্রির কথা বললে তাঁর সামান্য যে খাবারটুকু দেওয়া হচ্ছে, তা-ও হয়তো বন্ধ করে দেবে। এমনকি জীবনের শেষ দিনগুলোতে তাঁকে সঠিক পুষ্টিকর খাবার ও প্রয়োজনীয় মেডিকেল সাপ্লিমেন্ট না দিয়ে চরম পুষ্টিহীনতার দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল বলেও নাতি অভিযোগ করেন।

​ঘটনাটিকে ‘নীরব হত্যাকাণ্ড’ উল্লেখ করে মরহুমের নাতি চিকিৎসাসংক্রান্ত সব নথি, সিটি/এমআরআই (CT/MRI) রিপোর্ট ও সম্পত্তির কাগজপত্র নিরপেক্ষ তদন্তের আওতায় আনার দাবি জানান। একই সাথে তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।