ঢাকা , শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে ছাত্রদলের হেনস্তা, আইনজীবীদের বাধা

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাজিরা দিতে আসা এক তরুণকে ছাত্রলীগ নেতা সন্দেহে আটকে আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

তিনি বলেন, “আমরা এ রকম একটি বিষয়টি ঘটনার পরে শুনেছি। কিন্তু তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা কাউকে পাইনি। পরে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেননি।”

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সংবাদ কর্মী বলেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান ও তার কয়েকজন অনুসারী আদালত প্রাঙ্গণে সজীব মিয়া নামে এক যুবককে ঘিরে ধরেন। তাকে ছাত্রলীগ নেতা উল্লেখ করে তার শার্টের কলার চেপে হেনস্তা করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তারা মারধরেও উদ্যত হন। পরে আইনজীবীরা ওই ছাত্রদল নেতাকে বাধা দেন। এবং ওই নেতাকে জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান।

এ সময় উপস্থিত হন জেলা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) রাজীব মন্ডল। তিনি সজীব মিয়ার পক্ষের আইনজীবী।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রাজীব জেলা আইনজীবী সমিতিরও সমাজসেবা সম্পাদক। তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী হিসেবে।

রাজীব বলেন, সজীবের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলাতে। তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় জামিনে থাকা সজীব আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।

“বিষয়টা তো ছাত্রলীগ ইস্যু না। তার বিরুদ্ধে ওই রিলেটেড কোনো মামলাও এখানে চলমান না। ছাত্রলীগের কাউকে তো আর আমি ছাড়াতে যাবো না। সে নিজেও একজন বিচারপ্রার্থী, তাকে কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বিষয়টা তো আইনগত না। তাই বাধা দিয়েছি এবং পরে ওই ছাত্রদল নেতাও তার ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”

যদিও সজীবের সাবেক স্ত্রী ও ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহানের দাবি, সজীব মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাঁথা ইউনিয়নের সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী। আগস্টের পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তার সক্রিয়তা রয়েছে।

ছাত্রদল নেতা ফারহান সজীবের ছাত্রলীগের পোস্টার ও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ছবি মোবাইলে দেখালেও সংগঠনে তার কোনো পদ আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি।

বাড়ি ময়মনসিংহ হলেও সজীব নারায়ণগঞ্জে বড়ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলেও জানান তারা।

যদিও আদালতপাড়ায় সজীব হেনস্তা হয়েছেন তা জানতেন না দাবি করে তার সাবেক স্ত্রী বলেন, “দুপুর একটার দিকে যখন আমরা কোর্টে উঠি তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে বলেন। তখন আমরা জানতে পারি।”

এদিকে, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান বলেন, “সজীব নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় একজন। এখনো তার সংগঠনের মিছিলে সক্রিয়তা আছে। তার ফেসবুক ঘেঁটে আমরা এগুলো পেয়েছি।”

“তাকে ধরে পুলিশে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আইনজীবীরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপিপন্থী আইনজীবী রাজীব মন্ডল বলেন, “কোনো মব সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি যাতে খারাপ দিকে না যায় সেজন্য আমরা আইনজীবীরা বিষয়টিকে সমাধান করতে উভয়পক্ষকে বার ভবনে নিয়ে যাই। সেখানে, বিষয়টি মিমাংসা হয়।”

যদিও এসব বিষয় সজীব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

ছাত্রলীগ কর্মীকে আটকে ছাত্রদলের হেনস্তা, আইনজীবীদের বাধা

আপডেট সময় ১২:১৩:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬

নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালতে নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় হাজিরা দিতে আসা এক তরুণকে ছাত্রলীগ নেতা সন্দেহে আটকে আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছেন ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে এগারোটার দিকে আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান আদালত পুলিশের পরিদর্শক আব্দুস সামাদ।

তিনি বলেন, “আমরা এ রকম একটি বিষয়টি ঘটনার পরে শুনেছি। কিন্তু তখন ঘটনাস্থলে গিয়ে আমরা কাউকে পাইনি। পরে এ বিষয়ে কেউ অভিযোগও করেননি।”

এদিকে, প্রত্যক্ষদর্শী একাধিক সংবাদ কর্মী বলেন, মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান ফারহান ও তার কয়েকজন অনুসারী আদালত প্রাঙ্গণে সজীব মিয়া নামে এক যুবককে ঘিরে ধরেন। তাকে ছাত্রলীগ নেতা উল্লেখ করে তার শার্টের কলার চেপে হেনস্তা করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তারা মারধরেও উদ্যত হন। পরে আইনজীবীরা ওই ছাত্রদল নেতাকে বাধা দেন। এবং ওই নেতাকে জেলা আইনজীবী সমিতিতে নিয়ে যান।

এ সময় উপস্থিত হন জেলা আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত কৌঁসুলি (এপিপি) রাজীব মন্ডল। তিনি সজীব মিয়ার পক্ষের আইনজীবী।

বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত রাজীব জেলা আইনজীবী সমিতিরও সমাজসেবা সম্পাদক। তিনি নির্বাচনে অংশ নিয়েছিলেন জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের প্রার্থী হিসেবে।

রাজীব বলেন, সজীবের বাড়ি ময়মনসিংহের মুক্তাগাছা উপজেলাতে। তার সাবেক স্ত্রী তার বিরুদ্ধে একটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেছেন। ওই মামলায় জামিনে থাকা সজীব আদালতে হাজিরা দিতে এসেছিলেন।

“বিষয়টা তো ছাত্রলীগ ইস্যু না। তার বিরুদ্ধে ওই রিলেটেড কোনো মামলাও এখানে চলমান না। ছাত্রলীগের কাউকে তো আর আমি ছাড়াতে যাবো না। সে নিজেও একজন বিচারপ্রার্থী, তাকে কোর্ট প্রাঙ্গণ থেকে তুলে নিয়ে যেতে চেয়েছিল। বিষয়টা তো আইনগত না। তাই বাধা দিয়েছি এবং পরে ওই ছাত্রদল নেতাও তার ভুল বুঝতে পেরে দুঃখ প্রকাশ করেছেন।”

যদিও সজীবের সাবেক স্ত্রী ও ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহানের দাবি, সজীব মুক্তাগাছা উপজেলার কুমারগাঁথা ইউনিয়নের সক্রিয় ছাত্রলীগ কর্মী। আগস্টের পরও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ নেতা হিসেবে তার সক্রিয়তা রয়েছে।

ছাত্রদল নেতা ফারহান সজীবের ছাত্রলীগের পোস্টার ও কর্মসূচিতে উপস্থিত থাকার ছবি মোবাইলে দেখালেও সংগঠনে তার কোনো পদ আছে কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু জানাতে পারেননি।

বাড়ি ময়মনসিংহ হলেও সজীব নারায়ণগঞ্জে বড়ভাইয়ের বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলেও জানান তারা।

যদিও আদালতপাড়ায় সজীব হেনস্তা হয়েছেন তা জানতেন না দাবি করে তার সাবেক স্ত্রী বলেন, “দুপুর একটার দিকে যখন আমরা কোর্টে উঠি তখন আসামিপক্ষের আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে বলেন। তখন আমরা জানতে পারি।”

এদিকে, ছাত্রদল নেতা মেহেদী হাসান ফারহান বলেন, “সজীব নিষিদ্ধঘোষিত ছাত্রলীগের সক্রিয় একজন। এখনো তার সংগঠনের মিছিলে সক্রিয়তা আছে। তার ফেসবুক ঘেঁটে আমরা এগুলো পেয়েছি।”

“তাকে ধরে পুলিশে দিতে চেয়েছিলাম, কিন্তু আইনজীবীরা আমাদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করেছেন।”

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিএনপিপন্থী আইনজীবী রাজীব মন্ডল বলেন, “কোনো মব সৃষ্টির মাধ্যমে পরিস্থিতি যাতে খারাপ দিকে না যায় সেজন্য আমরা আইনজীবীরা বিষয়টিকে সমাধান করতে উভয়পক্ষকে বার ভবনে নিয়ে যাই। সেখানে, বিষয়টি মিমাংসা হয়।”

যদিও এসব বিষয় সজীব মিয়ার সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

এর আগে, গত ১৪ ডিসেম্বর দুপুরে নারায়ণগঞ্জ জেলা আদালত প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত আইনজীবীদের তোপের মুখে পড়েছিলেন পুলিশের সাবেক এক কর্মকর্তা। পরে পরিস্থিতি সামাল দেন বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা।