ঢাকা , শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা Logo শ্রমিক অসন্তোষ নিরসনে মালিক-শ্রমিক-প্রশাসনের সমন্বয় বৈঠক Logo শ্রমিক আন্দোলনকে ‘পরিকল্পিত’ বললেন এমপি দিপু ভূঁইয়া Logo ফতুল্লায় তিনদিন বিক্ষোভের পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক, সতর্ক পুলিশ-বিজিবি Logo পারিবারিক ও দাম্পত্য সম্পর্কের বিশ্বাস অবিশ্বাসে সুজনের আত্মহত্যা Logo মার্কিন সেনেটে ইতিহাস: প্রথম মুসলিম সিনেটর হিসেবে জয় পেলেন আবদুল আল সাঈদ Logo চট্টগ্রাম বন্দরে বিপিসির আমদানিকৃত জ্বালানি তেলে সাড়ে ৪৫ কোটি টাকার ঘাটতি Logo আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিলেন ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো Logo মুছাপুরে প্রবাসী সাংবাদিক পরিবারকে হয়রানি: বাড়ি দখলের পাঁয়তারায় ‘লেডি মাস্তান’ হনুফা Logo সোনারগাঁয়ের জামপুরে তালতলা ফাঁড়ির নাম ভাঙিয়ে মামলা দেওয়ার ভয় দেখিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগ

প্রশাসন পক্ষপাত করলে জনগণ প্রতিহত করবে: সিরাজুল মামুন

ইসলামিক ও সমমনা ১০ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন বলেছেন, নির্বাচনে প্রশাসন যদি ব্যর্থতার পরিচয় দেয় বা পক্ষপাত করে, তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণ নিজেরাই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে মাঠে নামবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রশাসন আপাতদৃষ্টিতে আন্তরিক মনে হচ্ছে। তবে গত ১৫–১৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে জাতির মধ্যে আশঙ্কা, উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনে যদি প্রশাসন পক্ষপাত করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে যানজট, মাদক এবং হকার ও স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির কারণে। “এই দুই-তিনটি সমস্যা আমরা সবাইকে নিয়ে সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। যারা এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, সেই জাতির পক্ষে এসব সমস্যা সমাধান অসম্ভব নয়।”

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কারা এই কাজগুলো করছে, সবাই জানে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রশাসনের কেউ কেউ যখন এসব অন্যায়ের অংশীদার হয়, তখন সমস্যা চলতেই থাকে। আমরা এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। তাই চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে সময় লাগবে না।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু টেলিফোন হুমকি পেয়েছেন। তবে এতে তারা বিচলিত নন। “আমার কোনো কর্মী বা নিরীহ মানুষের ওপর আঘাত এলে অবশ্যই প্রতিহত করা হবে।”

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থী একজন সিনিয়র ও সম্মানিত ব্যক্তি। তার সঙ্গে দু’বার দেখা হয়েছে। তিনি একজন ভদ্র মানুষ—এটা দেখে আমি আনন্দিত।”

ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ইসলামী আদর্শে বিশ্বাস করি, যেখানে ইনসাফ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায়বিচারই ইসলামের মূল শিক্ষা। রাজনীতিতে বক্তৃতা নয়, ব্যক্তি ও কর্মীদের চরিত্রই আসল বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পরিশুদ্ধ নেতৃত্ব ও চাঁদাবাজমুক্ত নারায়ণগঞ্জ। যারা রাজনীতি করেন, তাদের আগে নিজেদের শুদ্ধ হতে হবে। নইলে জাতির মুক্তি আসবে না।”

১০ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তাদের কল্যাণ কামনা করি। আশা করি তাদের তৃণমূলের কর্মীরা মানুষের কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুঈনুদ্দিন আহমদ, খেলাফত মজলিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক আল আমীন রাকিব, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা আমীর আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, এবি পার্টির প্রার্থী ও জেলা আহ্বায়ক শাহজাহান ব্যাপারী, খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সহসভাপতি অধ্যাপক সালেহ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জামায়াত মহানগর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজীসহ অন্যরা।

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ছক কষে পোশাক খাতে অস্থিরতা

প্রশাসন পক্ষপাত করলে জনগণ প্রতিহত করবে: সিরাজুল মামুন

আপডেট সময় ১২:৫০:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬

ইসলামিক ও সমমনা ১০ দলীয় জোট মনোনীত খেলাফত মজলিসের নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের প্রার্থী এবিএম সিরাজুল মামুন বলেছেন, নির্বাচনে প্রশাসন যদি ব্যর্থতার পরিচয় দেয় বা পক্ষপাত করে, তাহলে জাতি তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণ নিজেরাই সন্ত্রাসীদের প্রতিহত করতে মাঠে নামবে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) দুপুরে নারায়ণগঞ্জে ১০ দলীয় ঐক্য সমর্থিত প্রার্থীর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

এবিএম সিরাজুল মামুন বলেন, “এখন পর্যন্ত প্রশাসন আপাতদৃষ্টিতে আন্তরিক মনে হচ্ছে। তবে গত ১৫–১৬ মাসে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেনি। ফলে জাতির মধ্যে আশঙ্কা, উদ্বেগ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। এই নির্বাচনে যদি প্রশাসন পক্ষপাত করে, তাহলে জনগণ তা মেনে নেবে না।”

তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জবাসী সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে আছে যানজট, মাদক এবং হকার ও স্ট্যান্ডকেন্দ্রিক চাঁদাবাজির কারণে। “এই দুই-তিনটি সমস্যা আমরা সবাইকে নিয়ে সমাধান করবো ইনশাআল্লাহ। যারা এত বড় ত্যাগ স্বীকার করতে পারে, সেই জাতির পক্ষে এসব সমস্যা সমাধান অসম্ভব নয়।”

চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “কারা এই কাজগুলো করছে, সবাই জানে। কিন্তু ক্ষমতায় থাকা ব্যক্তি ও প্রশাসনের কেউ কেউ যখন এসব অন্যায়ের অংশীদার হয়, তখন সমস্যা চলতেই থাকে। আমরা এসব অন্যায়ের সঙ্গে জড়িত নই। তাই চাঁদাবাজদের চিহ্নিত করতে সময় লাগবে না।”

নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি জানান, কিছু টেলিফোন হুমকি পেয়েছেন। তবে এতে তারা বিচলিত নন। “আমার কোনো কর্মী বা নিরীহ মানুষের ওপর আঘাত এলে অবশ্যই প্রতিহত করা হবে।”

প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি প্রার্থী সম্পর্কে তিনি বলেন, “ধানের শীষের প্রার্থী একজন সিনিয়র ও সম্মানিত ব্যক্তি। তার সঙ্গে দু’বার দেখা হয়েছে। তিনি একজন ভদ্র মানুষ—এটা দেখে আমি আনন্দিত।”

ভোট চাওয়ার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা ইসলামী আদর্শে বিশ্বাস করি, যেখানে ইনসাফ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ন্যায়বিচারই ইসলামের মূল শিক্ষা। রাজনীতিতে বক্তৃতা নয়, ব্যক্তি ও কর্মীদের চরিত্রই আসল বিষয়।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা চাই পরিশুদ্ধ নেতৃত্ব ও চাঁদাবাজমুক্ত নারায়ণগঞ্জ। যারা রাজনীতি করেন, তাদের আগে নিজেদের শুদ্ধ হতে হবে। নইলে জাতির মুক্তি আসবে না।”

১০ দলীয় জোট থেকে ইসলামী আন্দোলনের সরে দাঁড়ানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমরা তাদের কল্যাণ কামনা করি। আশা করি তাদের তৃণমূলের কর্মীরা মানুষের কল্যাণের দিকটি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবেন।”

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন—জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মুঈনুদ্দিন আহমদ, খেলাফত মজলিস মহানগর সাধারণ সম্পাদক আল আমীন রাকিব, এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক শওকত আলী, খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব ও জেলা আমীর আতিকুর রহমান নান্নু মুন্সি, এবি পার্টির প্রার্থী ও জেলা আহ্বায়ক শাহজাহান ব্যাপারী, খেলাফত মজলিস জেলা সভাপতি হাফেজ মাওলানা আহমদ আলী, মহানগর সভাপতি হাফেজ কবির হোসেন, সহসভাপতি অধ্যাপক সালেহ আহমদ, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস আহমদ, জামায়াত মহানগর সেক্রেটারি ইঞ্জিনিয়ার মনোয়ার হোসাইন, খেলাফত মজলিস মহানগর সহ-সাধারণ সম্পাদক মুফতী শেখ শাব্বীর আহমাদ, মুহাম্মদ শরীফ মিয়াজীসহ অন্যরা।